আমান উল্লাহ আমান, টেকনাফ:
টেকনাফে উপজেলার ব্যতিক্রমধর্মী চামচিকা বাদুড়ের আবাসস্থলটি দেশী-বিদেশী পর্যটক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সর্বসাধারনের নজর কাড়ছে। প্রতিদিন চামচিকা বাদুড়ের আবাসস্থল দেখতে অসংখ্য দর্শনার্থী ভীড় করছে। এই চামচিকা বাদুড়কে স্থানীয় ভাষায় বলা হয়- চাম্মা বাদুর। বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন (সিবিএ-ইসিএ) সমাজ ভিত্তিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষন ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রকল্প যা নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট নেকম বাস্তবায়ন করছে। নেকম টেকনাফ, কক্সবাজার ও সোনাদিয়ায় জীববৈচিত্র্য তথা শামুক, ঝিনুক, পাখি, সকল প্রকার বন্যপ্রাণী, কচ্ছপ রক্ষার্থে কাজ করে যাচ্ছে। নেকম উক্ত স্থানে একটি সাইনবোর্ডও লাগিয়ে দিয়েছে। টেকনাফ-শাহপরীরদ্বীপ প্রধান সড়কে সাবরাং বাজারের অতি নিকটে পানছড়িপাড়া জামে মসজিদ ও কবরস্থান সংলগ্ন একটি বিশাল তুলা গাছ এদের আবাসস্থল। এই তুলা গাছটিই প্রায় অর্ধ যুগ ধরে চামচিকা বাদুড়ের আবাসস্থল হিসাবে রয়েছে। পানছড়িপাড়া জামে মসজিদ ও কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি এজাহার মিয়া এবং সেক্রেটারী মাষ্টার এইচ এম কামাল জানান- কবরস্থানের গাছ হলেও কমিটি এবং নেকমের নিবিড় তদারকিতে বখাটে বা দুষ্টু লোকেরা বাদুড়কে উৎপাত করেনা। সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়- বিশাল গাছ জুড়ে হাজার হাজার বাদুড় আর বাদুড়। দুর থেকে দেখলে মনে হয় হাজার হাজার সূ-স্বাদু ফল ঝুলছে। নেকমের সিসিএফ মোহতাছিম বিল্লাহ খান জানান- বাদুড় হচ্ছে বীজ বুনার প্রাকৃতিক মাধ্যম। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের বীজ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ফেলে নতুন গাছের বংশ বিস্তার ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। বাদুড় প্রতিদিন প্রায় ২০০-৪০০ গ্রাম পোকা-মাকড় খেয়ে ফসলকে ক্ষতিক্ষর পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করে। বাদুড় প্রকৃতি ও মানুষের বন্ধু, এদের আবাসস্থল নষ্ট বা ধ্বংস না করে বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

0 Comments