সংবাদদাতা
দেশের সীমান্তবর্তী উখিয়া-টেকনাফ দু-উপজেলায় মরণনেশা ইয়াবা ও বিভিন্ন মাদক দ্রব্য সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে আইন শৃংখলা অবনতির পাশাপাশি যুব ও
ছাত্র সমাজ মরণ নেশা মাদকে আশক্ত হয়ে ধ্বংশের অতল-তলে ডুবে যাচ্ছে। এভাবে মাদক দ্রব্য পাচার কাজ অব্যাহত থাকলে বিংশ শতাব্দির পূর্বেই দেশ মাদকের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হবে। হারিয়ে যাবে আগামী দিনের দেশ গড়ার কারীগররা। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী কক্সবাজার-টেকনাফ আরাকান সড়ক, ঘুমধুম থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যন্ত সীমান্তবর্তী পাহাড়ের বিভিন্ন অভয়ারণ্যে ও মেরিন ড্রাইভ রোড সংলগ্ন সাগর পথ দিয়ে উখিয়া-টেকনাফের মাদক দ্রব্য সিন্ডিকেটরা দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের চোককে ফাঁকি দিয়ে ধীর গতিতে এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছে পরিণত হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কতিপয় কিছু লোকদের ম্যানেজ করে মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেটরা এ ব্যবসা চালিয়ে দেশকে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিরব ভুমিকা পালন করায় অবৈধ ব্যবসায়িরা বেপরোয়া হয়ে যুব ছাত্র সমাজের হাতে বই, খাতা, কলমের পরিবর্তে মরণনেশা মাদক দ্রব্য তুলে দিচ্ছে। ছাত্র ও যুবসমাজ মাদকাশক্ত হয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে জাতি হারাচ্ছে মহা মূল্যবান ও মেধাবীদের। দেশের শীর্ষ স্থানীয় মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেটের প্রধান কয়েক জন উখিয়া-টেকনাফের লোকজন জড়িত আছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম উখিয়া হলদিয়া পালং ইউনিয়নের হাতির ঘোনা গ্রামের মৃত কবির আহম্মদের কনিষ্ট পুত্র আবু শামা, তার আপন চাচাত ভাই মায়ানমার নিবাসী বর্তমানে কুতুপালং শরনার্থি শিবিরের তালিকা ভুক্ত সন্ত্রাসী মৃত নুর আহমদের পুত্র আলী আহমদ, তার আপন ভাইজি জামায় মায়ানমারের নাগরিক রামু থানার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের অবস্থানরত তৈয়বের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের শীল পাড়া গ্রামের পরান হরির পুত্র সোনাইয়া, একই এলাকার মুদির দোকানদার নুরুল আলম প্রকাশ নুরাইয়া, মটর সাইকেল যোগে উখিয়ার মাদক ব্যবসা পরিচালিত করে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। যাদের এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরাত তারা আজ মরণ নেশা মাদক দ্রব্য পাচার করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছে পরিণত হলেও প্রশাসন নিরব থাকায় ধীরগতিতে এব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এক বছর পূর্বের ট্রাকটরের ড্রাইভার এব্যবসা চালিয়ে আজ ভারতীয় কোম্পানীর নামী দামী মটর সাইকেলের মালিক সহ বিভিন্ন সম্পদের পাহাড় গড়ে সমাজে বিভিন্ন ধরণের অনৈতিক কর্মকার্ন্ড চালিয়ে সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে রেখেছে। সম্প্রতি ভিলেজার ফরিদ আলম খুনের নৈপর্থের নায়ক উক্ত সিন্ডিকেটের একাধিক ব্যক্তি জড়িত আছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। উখিয়ার মাদক স¤্রাট আবুল শামার আপন বড় ভাই ইমাম শরিফ ও ছৈয়দ নুরকে উক্ত মামলার চার্জসিট থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কালো টাকার মিশন নিয়ে জন প্রতিনিধিও প্রশাসনের দপ্তরে দপ্তরে ধর্ণা দিয়ে গড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এছাড়া উক্ত সিন্ডিকেটরা প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিলাস বহুলগাড়ী, উন্নত মানের জীপ গাড়ী ও মাক্রোবাসের মত ভি আইপি গাড়ী , পানের ট্রাক, মাছের গাড়ি, যোগে নিশ্চিন্তে হাজার হাজার পিচ কয়েক কোটি টাকা মূল্যে ইয়াবা চালান পাচার করে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ উক্ত সিন্ডিকেটরা অনেক সময় চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন জায়গা হতে প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর ভেতরে রোগী সাজিয়ে রেখে ওই গাড়ী যোগে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট থেকে ইয়াবা সহ মাদক দ্রব্য ভর্তি করে নিয়ে যায়। রোগী বহনকারী সাইলেন্ট বাজানো গাড়ী মানবিক কারণ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চেকপোষ্টে গতিরোধ না করার দরুন সহজেই চোরাকারবারীরা এ ইয়াবা সহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য স্থানান্তর করতে সুুযোগ পায়। প্রায় প্রতিদিন একটা না একটা প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স ও গভীর রাতে ভারতীয় কোম্পানীর নাম্বারী ও নাম্বার বিহীন একাধিক মটর সাইকেল এ সড়কে দেখা যায় বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে অভিযোগ তুলেছে।
অন্যদিকে প্রতিনিয়ত টেকনাফ বন্দর থেকে ছেড়ে আসা গরু, মাছ, কাঠ সহ বিভিন্ন বানিজ্য চুক্তির ট্রাকের মাধ্যমে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে পাচারকারীরা কৌশলে ইয়াবার চালান বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। সাধারণত এসব গাড়ীর চালকেরা তাদের শরীর ও ইঞ্জিন ট্যুলবক্সের ভিতরে ইয়াবার প্যাকেট ঢুকিয়ে সহজেই নিয়ে যায়। তাদের অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সচেতন ব্যক্তিও এলাকাবাসীর অভিযোগ তুলার চেষ্টা করলেও উক্ত সিন্ডিকেটরা হামলা মামলার ভয় ভীতি প্রদর্শনের কারনে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তাই দেশের বৃহত্তর সার্থে ছাত্র ও যুব সমাজকে ধ্বংশের হাত থেকে বাচাঁনোর জন্য দেশদ্রোহী কাজের সাথে জড়িত উক্ত মাদক সিন্ডিকেটদের আইনের আওতায় আনা হলে এ দেশ মাদক মুক্ত ও জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন হবে বলে এমন অভিমত সচেতন মহলের।

0 Comments