হাছান কুতুবী, কুতুবদিয়া:
অবশেষে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলোচিত সেই ৩২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা রবিবার ব্যাংকে ফেরৎ দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সোনালী ব্যাংক থেকে তিনি ওই টাকা নগদ উত্তোলন করে চেয়ারম্যানদের সাথে ভাগ-বাটোয়ারায় বনিবনা না হওয়ায় ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। একসাথে এত বড় অংকের টাকা উত্তোলন নিয়ে জেলা জুড়ে ঝড় বয়ে যায় আলোচনা-সমালোচনার।
রবিবার অফিস টাইমের আগেই জেলার একদল প্রিন্টিং ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ব্যাংকে হাজির হলে ওই সময় কর্মকর্তারা গেইট লক্ করে টাকা জমা করার সত্যতা নিশ্চিত করেন শাখা ব্যবস্থাপক মোখতার আহমদ । এসময় অফিস আওয়ার শুরু হলেও ব্যাংকে ঢুকতে দেয়নি বলে এনটিভির একরাম চৌধূরী টিপু, দিগন্ত টিভির গোলাম আজম, ইসলামিক টিভির আবদুল্লাহ নয়ন ও এটিএন বাংলার মোয়াজ্জেম হুসেন শাকিলসহ গ্রাহকরা অভিযোগকরেন। এনিয়ে মিডিয়াকর্মীরা ইউএনও মহিউদ্দিন কবির মাহীনের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি তখন বাসায় অবস্থান করেছিলেন। এক ঘন্টা ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেও ইউএনওর সাথে দেখা করতে পারেননি তারা। পরে ইউএনও আসার খবর পেয়ে মিডিয়া কর্মীরা সোয়া ১টার দিকে তার অফিসে মূখোমূখি আলাপ কালে কয়েকজন চেযারম্যানের কারণে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে তিনি জানান। ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সম্মানির টাকা তোলার জন্য চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) হাছিনা আখতার বিউটি।
বিভিন্ন হাট-বাজার ও ঘাট ইজারার ওই টাকা স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে জমা ছিল। উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের জন্যে চেকের মাধ্যমে ওই টাকা আনুপাতিক হারে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে প্রদানের নিয়ম থাকলেও ইউএনও রহস্যজনক ভাবে নগদ টাকা দিতে গেলে কোন ইউপি চেয়ারম্যান তা গ্রহণ করেননি। শেষ পর্যন্ত ওই টাকা ইউএনওর গলার কাঁটা হতে যাচ্ছে বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সচেতন মহল ।
পাঁচ হাজারের (সরকারি টাকা) বেশী টাকা নগদ গ্রহনের বিধান নেই বলে দাবী করেন ৬ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাকের উল্লাহ, সিরাজদৌল্লাহ, ফিরোজ খানঁ চৌধূরী, মোহাম্মদ আজমগীর মাতবর, আলাউদ্দিন আল-আযাদ ও আকতার হুসেন। সরকারি আর্থিক নীতি ভঙ্গ করে ৩২ লাখ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করার চেষ্টা করে ইউএনওর সরকারি চাকুরী বিধি লংঘন করার দায়ে তদন্ত করে বিভাগীয় শাস্তি দাবী করেন, কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আ.ন.ম.শহীদউদ্দিন ছোটন। নগদ টাকা উত্তোলন করাকে সরাসরি বেআইনী বলে মন্তব্য করেছেন আইন পেশার সাথে সংশ্লিষ্টরা।

0 Comments