-মোহাম্মদ নূরুল আবচার :
মুজিবনগর সরকারের অফিসার ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব, ৯ মাস ব্যাপী রনাঙ্গনে কর্মরত স্বাধীন বাংলা বেতারের সমর সংবাদদাতা মুসা সাদিক-এর লেখা এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের উদ্যোক্তা, সংগঠক ও বেতারকর্মী বেলাল মোহাম্মদ কর্তৃক অঞ্জন রায়ের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকার ও তার লেখা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এবং মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম-এর লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আতিউর রহমানের সাময়িকী ডাঃ সেলিনা পারভীনের ই.পি.আর ম্যাসেজ হতে উদ্ধৃত স্বাধীনতা ঘোষণা সম্পর্কিত সঠিক তথ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
চট্টগ্রাম শহর থেকে ৫/৬ মাইল দুরে ১০ কিলোওয়াটের ৮৩০ ফ্রিকোয়েন্সির কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার প্রতিষ্ঠায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁরা হচ্ছেন- ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সাকের প্রোগ্রাম সুপারভাইজার আনোয়ার ও সরফুজ্জানান, টেকনিক্যাল অপারেটর রেজাউল করিম, টেকনিক্যাল এসিষ্ট্যান্ট রাশেদুল হাসান ও আমিনুর রহমান, স্ক্রিপ্ট রাইটার বেলাল মোহাম্মদ রেডিও ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস চোবাহান, অনুষ্ঠান ঘোষক আবুল কাশেম সন্দ্বীপ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এম.এ হান্নান, জহুর আহামদ চৌধুরী, এমএ, মন্নান, এম.আর. ছিদ্দিকী, কায়সার চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক অধ্যাপক মো: খালেদ, তৎকালীন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা এম. এস ইউচুপ সহ প্রমুখ ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধার চিত্তে স্মরণ করছি।
১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের জেড ফোর্স কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর নামে কেউ ২৫ মার্চ, কেউ ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের জলজ্যান্ত মিথ্যাচার চালিয়ে তাঁকে যেভাবে কলঙ্কিত ও বিতর্কিত করছে তাঁর প্রাপ্য গৌরব ও মহিমা ধুলিষ্যাত হয়ে যাচ্ছে। ইতিহাসের অতল গহব্বরে ফেলে দেয়া হচ্ছে এবং লজ্জায় ফেলেছে তাঁর অমর আত্মাকে। তাঁর জীবদ্দশায় এমনকি রাষ্ট্রপতি হবার পরেও তিনি স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেনি বা স্বাধীনতার ঘোষণা বিষয়ে কথাবার্তায় নিজেকে জড়াননি, বরং ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চের দৈনিক বাংলা পত্রিকায় একটি জাতির জন্ম শিরোনামে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা বলে দুই দুইবার সম্বোধন করে যে লেখাটি তিনি লিখেছিলেন তা হচ্ছে, ১লা মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহবানে সারাদেশে শুরু হলো ব্যাপক অসহযোগ আন্দোলন। তিনি আরো লিখেছেন, একাডেমীর ক্লাস গুলোতে সব সময় বুঝানো হতো পাকিস্তানের সংহতি বিনষ্ট করতে আওয়ামীলীগ সচেষ্ট। এমনকি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ক্যাডেটদের শিখানো হতো আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন ওদের রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্র।
২৫ মার্চ রাত প্রায় সাড়ে ১১টা ৮ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে তাঁর কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল জানজুয়ারের নির্দেশে এম.এ সোয়াত জাহাজ থেকে পাকিস্তানী সমরাস্ত্র খালাস করে ক্যান্টনমেন্টে আনার জন্য চট্টগ্রাম পোর্টে যাচ্ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট হতে বের হয়ে বেরিকেড অপসারণ করতে করতে পলোগ্রাউন্ডের পাশ দিয়ে দেওয়ান হাট ব্রীজ ক্রস করলে খৈয়াস চাইনিজ হোটেলের সামনে বড় ধরণের বেরিকেডে পড়েন এবং তাঁর যাত্রা বাধাগ্রস্থ হয়। সেখানে রাস্তার উপর বহু অবরোধ ও বড় বড় বেরিকেড থাকায় তিনি সেখানে নেমে পড়েন এবং বেরিকেড ও অবরোধ সরাতে সরাতে কায়েদে আজম রোড বর্তমানে শেখ মুজিব রোডের মাঝামাঝি ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে (বর্তমানে সোনালী ব্যাংক) চলে আসেন। অবরোধ বা বেরিকেড যেন সরাতে না পারে ছাত্রলীগ নেতা এস.এম. ইউসুফের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কর্মী ও ছাত্রলীগ কর্মীরা রাস্তার উপর শুয়ে পড়েন। তখন তিনি অবরোধকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন যে, আমি মেজর জিয়া, আমি এবং আমার ফোর্স আপনাদের সাথে আছে, আমার দায়িত্ব আমাকে পালন করতে দিন। তখন ছাত্রলীগ কর্মীরা জানান যে, যেতে হলে আমাদের গায়ের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে হবে। মেজর জিয়া এদিক সেদিক পাঁয়চারী করছিলেন, ঠিক সেই মুহুর্তে দেওয়ানহাট ব্রিজের দিক থেকে প্রচন্ড বেগে একটি জীপ গাড়ী আসে। জীপে করে ৮ম রেজিমেন্টের ডিউটি অফিসার ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান চৌধুরী চট্টগ্রাম পোর্টে অস্ত্র খালাসের জন্য না যাওয়া বার্তাটি নিয়া আগ্রাবাদ পৌঁছেন এবং মেজর জিয়াউর রহমানকে একটু দুরে ডেকে নিয়ে বার্তাটি জানান। ৩/৪ মিনিটের মধ্যে মেজর জিয়াউর রহমান তাঁর পাঞ্জাবী ড্রাইভারকে ট্রাক ঘুরাতে নির্দেশ দেন এবং তাঁরা ক্যান্টনমেন্টের ইউনিট লাইনে চলে যান। ঐদিকে ছাত্রলীগের কর্মীরা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়ে সরানো বেরিকেডগুলি পূনঃস্থাপন করেন। ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিট লাইনে ফিরে এসে মেজর জিয়া ও তার অফিসাররা, কমান্ডিং অফিসার সহ অবাঙ্গালী অফিসারদের বন্দি করার সিদ্ধান্ত নেন ও বন্দি পর্ব শেষ হওয়ার পরই তাঁদের কাছে ক্যান্টেনমেন্টের হত্যাকান্ডের খবর পৌঁছে। ক্যান্টেনমেন্টের ঘটনার ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে মতদ্বৈত দেখা দেয়। রেজিমেন্টের কয়েকজন তরুণ অফিসার তখন ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের সৈনিকদের জীবন রক্ষার্থে ছুটে যেতে চান, অন্যরা ২০ বালুচ রেজিমেন্টকে আক্রমন করাকে আত্মঘাতী হবে বলে মত প্রকাশ করায়, মতপার্থক্যের কারণে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় যে, ক্যান্টেনমেন্টের দিকে যাওয়া কিংবা বালুচ রেজিমেন্টের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরা বোকামী হবে, তাই ঐ রাতেই চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে বোয়ালখালী থানার কবল ডাঙ্গা পাহাড়ের নিকটে অবস্থান গ্রহণ করেন।
একটি জাতির জন্ম প্রবন্ধে মেজর জিয়া নিজের ভাষায় এই ব্যাপারে লিখেছেন, আমরা বন্দরের পথে বেরোলাম। আগ্রাবাদে আমাদের থামতে হল। পথে ছিল বেরিকেড। এই সময়ে সেখানে এলো মেজর খালেকুজ্জামান চৌধুরী। ক্যাপ্টেন অলি আহমদের কাছ থেকে এক বার্তা এসেছে, আমি রাস্তায় হাঁটছিলাম।
খালেক আমাকে একটু দূরে নিয়ে গেল। কানে কানে বললো, তারা ক্যান্টনমেন্ট ও শহরে সামরিক তৎপরবতা শুরু করেছে। বহু বাঙ্গালীকে হত্যা করেছে। এটা ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটা চূড়ান্ত সময়, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমি বললাম, আমরা বিদ্রোহ করলাম। তুমি ষোলশহর বাজারে যাও। পাকিস্তানী অফিসারদের গ্রেফতার করো। অলি আহমদকে বলো ব্যাটেলিয়ন তৈরী রাখতে আমি আসছি। আমি নৌবাহিনীর ট্রাকের কাছে ফিরে গেলাম। পাকিস্তানী অফিসার নৌবাহিনীর চীফ পোর্ট অফিসার ও ড্রাইভারকে জানালাম যে, আমাদের আর বন্দরে যাওয়ার দরকার নেই। এতে তাদের মনে কোন প্রতিক্রিয়া হলো না দেখে আমি পাঞ্জাবী ড্রাইভারকে ট্রাক ঘুরাতে বললাম। ভাগ্য ভালো যে, আমার আদেশ মানলো। আমরা আবার ফিরে চললাম। ষোলশহর বাজারে পৌঁছেই আমি গাড়ী থেকে লাফিয়ে নেমে একটা রাইফেল তুলে নিলাম। পাকিস্তানী অফিসারটির দিকে তাক করে বললাম হাত তুলো। আমি তোমাকে গ্রেফতার করলাম। নৌবাহিনীর লোকেরা এতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়লো। পর মুহুর্তেই আমি নৌবাহিনীর অফিসারের দিকে তাক করলাম। তারা ছিল আট জন। সবাই আমার নির্দেশ মানলো এবং অস্ত্র ফেলে দিল। আমি কমান্ডিং অফিসারের জীপ নিয়ে তার বাসার দিকে রওয়ানা দিলাম। তার বাসায় পৌঁছে হাত রাখলাম কলিং বেলে। কমান্ডিং অফিসার পায়জামা পরেই বেরিয়ে এলো। খুলে দিল দরজা। ক্ষিপ্র গতিতে আমি ঘরে ঢুকে পড়লাম এবং গলাশুদ্ধ তার কলার টেনে ধরলাম। দ্রুত গতিতে আবার দরজা খুলে কর্ণেলকে আমি বাইরে টেনে আনলাম। বললাম, বন্দরে পাঠিয়ে আমাকে মারতে চেয়েছিলে? এই আমি তোমাকে গ্রেফতার করলাম। এখন লক্ষী সোনারমত আমার সঙ্গে এসো, সে আমার কথা মানলো। আমি তাকে ব্যাটালিয়নে নিয়ে এলাম। অফিসারদের মেসে যাওয়ার পথে আমি কর্ণেল শওকতকে (তখন মেজর) ডাকলাম। তাকে জানালাম আমরা বিদ্রোহ করেছি। শওকত আমার হাতে হাত মেলালো।
ব্যাটেলিয়নে ফিরে দেখলাম। সমস্ত পাকিস্তানী অফিসারকে বন্দী করে একটা ঘরে রাখা হয়েছে। আমি অফিসে গেলাম। চেষ্টা করলাম, লেঃ কর্ণেল এম.আর. চৌধুরীর সাথে আর মেজর রফিকের সাথে যোগাযোগ করতে। কিন্তু পারলাম না। সব চেষ্টা ব্যর্থ হলো। তারপর রিং করলাম। বেসামরিক বিভাগের টেলিফোন অপারেটরকে। তাকে অনুরোধ জানালাম, ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট, কমিশনার, ডি,আই,জি ও আওয়ামীলীগ নেতাদের জানাতে যে, ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটেলিয়ন বিদ্রোহ করছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করবে তারা। এদের সবার সাথেই আমি টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কাউকে পাইনিÑ তাই টেলিফোন অপারেটরের মাধ্যমেই আমি তাদের খবর দিতে চেয়েছিলাম। অপারেটর সানন্দে আমার অনুরোধ রক্ষা করতে রাজী হলো।
সময় ছিল অতি মূল্যবান। আমি ব্যাটেলিয়নের অফিসার, জেসিও আর জওয়ানদের ডাকলাম। তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলাম। তারা সবই জানতো। আমি সংক্ষেপে সব বললাম এবং তাদের নির্দেশ দিলাম সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে। তারা সর্ব সম্মতিক্রমে হৃষ্ট চিত্তে এ আদেশ মেনে নিল। আমি তাদের একটা সামরিক পরিকল্পনা দিলাম।
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে মেজর রফিকের ই.পি.আর এবং এস.পি. শামশুল হকের সমগ্র পুলিশ বাহিনী সমগ্র চট্টগ্রাম দখল করে ফেলে কিন্তু ৮ম বেঙ্গলের অবস্থান সম্পর্কে কোন খবর না পাওয়াতে ২৬ মার্চ সকালে এম.এ. হান্নান ও আতাউর রহমান খাঁন কায়সার পাঁচলাইশে যান। পাঁচলাইশ থানার ওসি গোলাম নূর জানান যে, মেজর জিয়া এখান থেকে কালুরঘাট চলে গেছেন এবং ওসি সাহেবের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী এম.এ. হান্নান, কায়সার চৌধুরী ও অন্যান্যরা বোয়ালখালী থানার কবল ডাঙ্গা পাহাড়ের পাশে একটি গ্রামের পুকুর পাড়ে গিয়ে মেজর জিয়ার সাথে মধ্যহ্নে দেখা করেন। তখন তাহার সাথে ছিল ক্যাপ্টেন শওকত, ক্যাপ্টেন হারুন, মোঃ শমসের মবিন, ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান ও অন্যান্যারা। এম.এ. হান্নান সাহেব তাঁদেরকে ঢাকায় ঘোষিত বঙ্গবন্ধুর ম্যাসেজের কপি দিলেন এবং বললেন মেজর রফিকের ই.পি.আর. সহ পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম দখল করে ফেলেছে। আপনার ৮ম রেজিমেন্ট নিয়ে আপনি চট্টগ্রাম শহরে আসেন এবং মেজর রফিকের সাথে মিলে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট দখল করে ফেলুন। হান্নান সাহেব আরও বললেন যে, চট্টগ্রামের নেতাদের কাছে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ছাড়াও আলাদা নির্দেশ এসেছে যে, চট্টগ্রাম মুক্ত করে সকল ফোর্স সহ কুমিল্লা দখল করতে হবে এবং আশেপাশের জেলাসমূহের প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ও গ্রহণ করতে হবে। মেজর জিয়া বললেন, বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার কপি আমরা পেয়েছি। সেইমতে আমি ও আমার ফোর্স বিদ্রোহ করেছি। এখন আমার ফোর্স টায়ার্ড আমরা পরে যাব। সেখান থেকে হান্নান সাহেব কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের দিকে রওয়ানা দিলেন।
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের সংগঠক ও স্ক্রিপ্ট রাইটার বেলাল মোহাম্মদ ২৬ মার্চ দুপুরে ই.পি.আর প্রধান মেজর রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা কলে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র চালু ও বেতার কেন্দ্র নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনীর সদস্য প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানান, কিন্তু অনুরোধ জানানোর পরও বিকালে বা রাত্রে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে কোন সেনা সদস্য প্রহরা দিতে যায়নি।
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে ১২টা ২০ মিনিটে ই.পি.আর. ওয়্যারলেসে পোর্টেবল ট্রান্সমিটার দ্বারা পিলখানায় তার নিজস্ব আবাসিক কোয়ার্টার হতে প্রচার করেন তদানীন্তন ই.পি.আর.-এর সিগন্যাল উইংয়ের একমাত্র সুবেদার মেজর মোঃ শওকত আলী। কেননা সেদিন সন্ধ্যার আগেই ডিউটিরত বাঙালী অপারেটরদের কাছ থেকে টু আই সি কর্ণেল আওয়ান সিগন্যাল সেন্টারের চাবি নিয়ে নেন।

0 Comments