নুরুল আমিন হেলালী
সদর উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা ঈদগাঁও বাজারে ও বাস স্টেশনের হোটেল রেস্তোঁরা এবং কুলিং কর্ণার গুলোতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে খাবার বিক্রি।
সাথে পঁচা-বাসি খাবারের গলাকাটা বাণিজ্য। একদিকে যেমন নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এ সকল খাবার সামগ্রি, অপরদিকে পরিবেশনও করা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। ফলে ভোজনপ্রিয় মানুষ সেসব খাবার খেয়ে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণুতে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি এইসব খাবার মানের চেয়ে দাম অনেক বেশি। গ্রাম এলাকায় অবস্থান এই বাজারে সবজির মৌসুমে তরিতরকারির দাম কমলেও কমেনি হোটেলের খাবারের দাম। যেখানে প্রত্যেক সবজির দাম কক্সবাজার শহর এলাকার বাজারগুলোর চেয়ে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০টাকা কম। সেখানে এই সমস্ত গ্রাম এলাকার হোটেলের খাবারের দাম ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাজার এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসবের প্রতি দেখভাল না করায় পরিস্থিতি দিনের পর দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠীর এই বাজারের হোটেল রেস্তোঁরা ও কুলিং কর্ণারগুলো সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের অভ্যন্তরীণ জলিলিয়া ভাতঘর, ছালামত সওদাগরের ভাতঘর, হোটেল নিউ স্টার, পূর্বানী হোটেল, শাহ আমানত হোটেল, বিভিন্ন চটপটির দোকান, বাস স্টেশনের জাপান মার্কেটের ভিতরের হোটেল, ভাই ভাই হোটেল, রাজ হোটেল, বার আউলিয়া হোটেল এন্ড ভাতঘর, মধুবন কুলিং কর্ণার, তৃপ্তি কুলিং কর্ণার, পিপাসা কুলিং কর্ণার, ভাই ভাই কুলিং কর্ণার, বনফুল কুলিং কর্ণার গুলোতে খোলামেলা, নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও চড়াদামে যেনতেন ভাবে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি চড়া দামে ভোগপণ্য বিক্রি করে নির্বিঘেœ। এছাড়া বিভিন্ন ভাসমান গাড়ি, খোলা আকাশের রাস্তার দু’পাশে অবস্থিত হরেক চায়ের দোকান গুলোতে চলছে পঁচা বাসি ও নিম্নমানের খাবার বিক্রয়। ফলে এ সকল খাবার খেয়ে সাধারণ মানুষ যেমন প্রতারিত হচ্ছে তেমনি তাদের শরীরে বিভিন্ন রোগব্যাধির সৃষ্টি ও জীবাণূতে আক্রান্ত হচ্ছে। অপরদিকে ওইসব হোটেল রেস্তোঁরা কুলিং কর্ণার গুলোতে পণ্য মূল্যের অসঙ্গতির মাধ্যমে গলাকাটা বাণিজ্যেল মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পকেট খালি করে নিজেদের পকেট ভারি করছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। অন্যদিকে সদর উপজেলার বৃহত্তর বাণিজ্য নগরী ঈদগাঁও বাজারের অধিকাংশ হোটেল রেস্তোঁরায় পাবলিক টয়লেট না থাকায় ক্রেতা সাধারণকে পড়তে হয় নানা ভোগান্তিতে। দেশে ভোক্তাধিকার আইন তোয়াক্কা না করে গলাকটা বাণিজ্য করে চলছে। ফলে এ সকল অতি মুনাফা লোভী হোটেল ব্যবসায়ীদের যথেচ্ছা স্বেচছারিতার শিকার হচ্ছে ভোক্তা সাধারণ। ঈদগাহ মিডল কক্স ক্লাবের সভাপতি কাফি আনোয়ার জানান, পর্যটন নগরীর নামি-দামি হোটেলে যেখানে প্রতি প্লেট উন্নত চালের বিরানী ১২০ টাকা সেখানে অজপাড়া গায়ের ঈদগাঁও বাজারের অনুন্নত হোটেলেও নিম্নচালের বিরানী প্রতি প্লেট ১২০টাকায় বিক্রি চলছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা গলাকাটা ব্যবসা করে রাতারাতি পুঁজিপতি বনে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের। এছাড়া বাস স্টেশনের বনফুল কুলিং কর্ণারে ভোগ্য পণ্যের গায়ে লেখা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করারও অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে বাজারের পূর্বানী হোটেলে খাবারের দাম অন্যান্য হোটেলের চেয়ে ১০ থেকে ২০টাকা বেশি বলে জানা গেছে। তাই এ সকল অতি মুনাফা লোভী হোটেল গুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরী বলে মনে করেন সচেতন মহল।

0 Comments