নুরুল আমিন হেলালী
জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে অবস্থিত অর্ধশত ইটভাটায় নারী শ্রমিকের সংখ্যাও রয়েছে প্রায় কয়েক হাজার। কাজের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ পার্থক্য না থাকলেও মজুরির ক্ষেত্রে
বেতন বৈষম্য। সকাল ৮টা থেকে ৫টা পর্যন্ত টানা কাজ করেও এই নারী শ্রমিকেরা মজুরি পাচ্ছেন পুরুষদের অর্ধেক। জেলার রামু, ঈদগাঁও, ঈদগড়, চকরিয়া, পেকুয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠা ইট ভাটা গুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সারাদিন পরিশ্রম করে একজন নারী শ্রমিক বেতন পাচ্ছেন ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। অথচ একই কাজ করে পুরুষ শ্রমিকেরা বেতন নিচ্ছেন ২৫০ টাকা থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত। এই বেতন বৈষম্য নিয়ে কথা বলারও যেন কেউ নেই। এই সকল নারীদের বেশির ভাগ দেখা গেছে, স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা এবং সমাজের অবহেলিত। এরা সারাদিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও বেতন বৈষম্যের কারণে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদের মধ্যে কেউ করেন ইট ভাটার কাজ, আবার কেউ বহন করে চুল্লিতে আনা-নেওয়ার কাজ অথবা মাটি কাটার কাজ।
ঈদগাঁও এলাকার আনু মিয়া সিকদারের মালিকানাধীন ইট ভাটায় কর্মরত স্বামী পরিত্যক্তা নারী শ্রমিক লাইলা বেগম (২৭) জানায়, পুরুষদের সাথে নারী শ্রমিকরা সকলে ৮টা থেকে কাজে যোগ দেই। দুপুরে ভাত খাওয়ার জন্য ঘন্টা দেড়েক সময় পান। আবার বিকেল পাঁচটায় কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে যান। দুপুরের ভাত খাওয়ার সময় ছাড়া সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। মাঝে আর কোন বিরতি থাকে না। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করার পরও তারা মজুরি পান পুরুষের অর্ধেক। সে আরও জানায়, প্রায় ৮ বছর আগে এক রোহিঙ্গার সাথে তার বিয়ে হয়। সংসারে ৪ জন ছেলে মেয়ে। কিন্তু এক বছর আগে তার স্বামী তাদের ফেলে কোথায় চলে যাওয়ায় পেটের তাগিদে তাকে এই কষ্ট করতে হচ্ছে। যদি একদিন সে কাজে আসতে না পেরে সবাইকে না খেয়ে থাকতে হয়।
এ ব্যাপারে ইট ভাটার এক ম্যানেজার জানান, নারী শ্রমিকদের অধিকাংশই অল্পবয়সী, বিধবা এবং স্বামী পরিত্যক্ত অসহায়। কিন্তু পুরুষের মতো ইট ভাটার ভারী কাজ নারীরা করতে পারেনা বলেও তাদের মজুরি একটু কম। নুর জাহান বেগম নামে আরেক নারী শ্রমিক জানায়, তিনি অনেক দিন ধরে এই ইট ভাটাতে করেন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছেন। অন্য সময় লাকড়ি বিক্রি করেন। কিন্তু বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে দাম চাল, ডাল এবং সামান্য তেল কিনতে শেষ হয়ে যায়। অন্যদিকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কিছু নারী শ্রমিক জানায়, পুরুষের সমান পাল্লা দিয়ে নিজেরা কাজ করলেও বেতনের ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার। এ নিয়ে কিছু বললেও চাকরিচ্যুতির ভয়ে নিরবে সারাজীবন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেই যাচ্ছেন। প্রতিবাদের ভাষাটুকুও যেন তারা হারিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া রোহিঙ্গা নারী শ্রমিকরা কম মজুরিতে কাজ করায় বেকায়দায় রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাই সহায় সম্বলহীন অসহায় নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দুর করে তাদের বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

0 Comments