Advertisement

প্রধান বক্তা ৩য় শ্রেণীর ছাত্র !


বড়াইগ্রাম (নাটোর): ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখছেন ৯ বছরের শিশু মেহেদী হাসান। পাশে বসে রয়েছেন জলসার সভাপতি এ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন
রাত প্রায় ১২টা। ওয়াজ মাহফিল চলছে। এ সময় কিছু লোক-‘প্রধান বক্তার আগমণ-শুভেচ্ছা স্বাগতম' স্লোগান দিতে দিতে প্রধান বক্তাকে মঞ্চে নিয়ে এলেন। কিন্তু বক্তারা সচরাচর যেভাবে আসেন, সেভাবে নয়, মাত্র তিন ফুট উচ্চতার প্রধান বক্তা মঞ্চে এলেন একজনের কোলে চড়ে। এটি কিন্তু গ্যালিভার ট্রাভেলসের লিলিপুটের দেশের কোন গল্প নয়। বড়াইগ্রামের চাঁদপুর-চামটা হাফেজিয়া মাদরাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে গত সোমবার রাতে প্রধান বক্তা হিসাবে ওয়াজ করে মাত্র ৯ বছর বয়সের মেহেদী হাসান। আগে থেকেই এ ব্যাপারে এলাকায় ব্যাপক প্রচার থাকায় তাকে এক নজর দেখতে জালসায় ছিলো হাজার হাজার মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

জালসা কমিটি সূত্রে জানা যায়, জালসার প্রধান বক্তা মেহেদী হাসানের বাড়ি বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার উলোট গ্রামে। সে ওই গ্রামের আরমান হোসেনের ছেলে এবং কাহালু সিদ্দিকীয়া সিনিয়র মাদরাসার ৩য় শ্রেণীর ছাত্র। জালসায় সভাপতি ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট জালাল উদ্দিন। আর প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস।

কিভাবে এত অল্প বয়সে বক্তা হলো তা তার নিজের মুখেই শোনা যাক- ‘ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল শুনে আমার মনে বক্তা হওয়ার ইচ্ছে জাগে। তখন থেকে আমি নিরিবিলি স্থান পেলেই ওয়াজ করতাম আর বিভিন্ন ইসলামী বই পড়তাম। ২০১০ সালের শেষের দিকে আমাদের গ্রামের মসজিদে জালসা হয়। তখন আমি আববার কাছে জালাসায় ওয়াজ করার কথা বললে তিনি নিষেধ করেন। বেশি চাপাচাপি করলে তিনি আমাকে চড় মারেন। পরে মাকে গিয়ে বললে তিনিও খেপে যান। কিন্তু আমি জেদ ধরায় পরে আমাকে নিয়ে জালসা কমিটির সাথে কথা বলে ওয়াজ করার সুযোগ দেন। আমার ওয়াজ শুনে সবাই আমাকে বাহবা দেন। সেই থেকে শুরু।'

তার বাবা আরমান আলী জানান, এ পর্যন্ত ১১০ টি জালসায় প্রধান ও বিশেষ বক্তা হিসাবে বক্তব্য রেখেছে মেহেদী হাসান। গতকালও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একটি জালসা করে সে এখানে আসে। বয়সে খুবই ছোট হওয়ায় সব স্থানেই তাকে সাথে যেতে হয়। প্রথম প্রথম তার প্রস্তাবে রাজী না হলেও সবাই পছন্দ করায় এখন বিভিন্ন স্থানে তাকে জালসা করতে নিয়ে যাই।

জালসার শ্রোতা মাওলানা আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি নিজে তার বক্তব্য শুনেছি। এত অল্প বয়সে এত সুন্দরভাবে ওয়াজ করতে পারাটা সত্যিই বিস্ময়কর। একদিন সে বড় আলেম এবং নামকরা বক্তা হবে ইনশাআল্লাহ।

জালসা আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, বগুড়ায় একটি জালসায় তার বক্তব্য শুনে আমাদের জালসায় তাকে প্রধান বক্তা করার সিদ্ধান্ত নিই। তাকে জালসায় প্রধান অতিথি করায় এবার এত লোক হয়েছে যে, মাদরাসার ইতিহাসে এত লোক কখনও হয়নি। জালসায় জায়গা দিতে না পেরে একাধিক প্রজেক্টরের বড় পর্দা দিয়ে জালসা শোনানো হয়।

Post a Comment

0 Comments