মোবারক উদ্দিন নয়নকক্সবাজারের উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন বনাঞ্চলে সংঘবদ্ধ বনদস্যূদের ধারাবাহিক বন সম্পদ লুটপাট,পাচার বাণিজ্যের ফলে
ফুলছড়ি রেঞ্জের প্রায় ৫০হাজার হেক্টরের অধিক বন ভূমি উজাড় হতে চলেছে। গত ২৮ ফেব্র“য়ারী তারই ধারাবাহিকতায় দিন দুপুরে ফুলছড়ি রেঞ্জ অফিসের সামনে গিয়ে ট্রাক ভর্তি লম্বা তক্তা পাচার হলেও যেন দেখার কেউ নেই। প্রতিদিন বন নিধনযজ্ঞ ও পাহাড় কেটে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ চলতে থাকলে আগামীকে বনায়ন সৃজনের মতো আর কোন পরিবেশ থাকবেনা বলে মনে করছেন এতদঞ্চলের পরিবেশ সচেতন মহল।সূত্রে জানা যায়,ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন নাপিতখালী বন বিট,রাজঘাট বনবিট, ফুলছড়ি বন বিট, খুটাখালী বনবিট ও মেধাকচ্ছপিয়া বনবিট রয়েছে। ৫টি বন বিট অফিস ও এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায় স্ব স্ব অফিসের বিট অফিসার,ভিলেজার,হেডম্যান ও গাছ চোর ভূমিখেকোদের সহায়তায় প্রায় ২০হাজারের অধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব স্থাপনা একাধিক মালিক জানান, বন বিভাগ সময় অসময়ে কয়েকবার এসব বসতি ভেঙ্গে গুড়ে দিয়েছে। কিছুদিন যেতে না যেতেই পুনরায় বিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ঘরবাড়ি ও দখল বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট এলাকা,পূর্ব গজালিয়া,নাপিতখালী ভিলিজার পাড়া,জৌন্নাকাটা, খুটাখালী মধুর শিয়া, টিপডেভা, সেগুন বাগিচা ও মেধাকচ্ছপিয়ার ন্যাশনাল পার্কের আশ পাশ এলাকা জুড়ে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বন ভূমি বিগত সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় এনে দলিল হস্তান্তর করা হলেও অন্যান্য বন ভূমি,বনদস্যূ,হেডম্যান ভিলিজার ও গাছ চোরদের থাবায় বেহাত হয়ে গেছে। আর ঐ সব বন ভূমিতে বর্তমানে শতশত অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে খুটাখালী ও মেধাকচ্ছপিয়ায় ২হাজার হেক্টর বন ভূমির জায়গা অবৈধ দখলদারদের দখলে রয়েছে। এসব বন ভূমির জায়গার উপর বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগত লোকজন এসে বসতবাড়ী নির্মাণ করলেও বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের রহস্যজনক কারণে কোন কার্যকরী ভূমিকা দেখা যায়না। এ জন্য এতদঞ্চলের লোক সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে বলেন, বন ভূমির জায়গা দখলকারীদের সাথে বিট কর্মকর্তা ও হেডম্যানের যোগসাজস রয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তারা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লোকজন কম হওয়ায় তারা বন ভূমি রক্ষা করতে পারছেনা। ফুলছড়ির নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের অভিযোগ ফুলছড়ি বিটের প্রায় ২হাজার হেক্টর বন ভূমি সম্পূর্ণ এখন বেদখলে। স্থানীয় ভাবে জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় বহিরাগতরা একের পর এক ফুলছড়ি রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় হেডম্যান,বিটকর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে বনাঞ্চলের জায়গায় অবৈধ বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে। স্ব স্ব বিট অফিসের হেডম্যান নামধারী,দালালচক্র মোটা অংকের টাকা নিয়ে বন ভূমি দখলের মহোৎসবে মেতেছে। এ ভাবে রাজঘাট বন বিটে ১হাজার ৫শ হেক্টর,নাপিতখালী বন বিটে ২হাজার হেক্টর,ফুলছড়ি বন বিটে ২হাজার হেক্টর,খুটাখালী বন বিটে ২হাজার ৫হেক্টর ও মেধাকচ্ছপিয়া বন বিটে ১হাজার ৫ হেক্টর বন ভূমি বিরান ভূমিতে পরিণত হতে চলেছে। এদিকে মেধাকচ্ছপিয় জাতীয় উদ্যান ও আইপ্যাক পরিচালিত নিসর্গ নেটওয়ার্ক ন্যাশনাল পার্ক উন্নয়নে ও বাস্তবায়নে পরিকল্পনা হাতে নিলেও তা শুধু কাগজ কলমে ও সভা সমাবেশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা ভূপেষ মুখার্জির মোবাইলে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ফুলছড়ি রেঞ্জের প্রায় ৫০হাজার হেক্টরের অধিক বন ভূমি উজাড় হতে চলেছে। গত ২৮ ফেব্র“য়ারী তারই ধারাবাহিকতায় দিন দুপুরে ফুলছড়ি রেঞ্জ অফিসের সামনে গিয়ে ট্রাক ভর্তি লম্বা তক্তা পাচার হলেও যেন দেখার কেউ নেই। প্রতিদিন বন নিধনযজ্ঞ ও পাহাড় কেটে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ চলতে থাকলে আগামীকে বনায়ন সৃজনের মতো আর কোন পরিবেশ থাকবেনা বলে মনে করছেন এতদঞ্চলের পরিবেশ সচেতন মহল।


0 Comments