Advertisement

মাদকসহ ৯১ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য ধ্বংশ করেছে বিজিবি

মো: কুতুব উদ্দিন
গতকাল ০২ ফের্রম্নয়ারি ২০১২ তারিখ ১১০০ ঘটিকায় ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন সদর, কক্সবাজারে বিজিবি কর্তৃক গত ১৯ ডিসেম্বর ২০১১ হতে ৩১ জানুয়ারি ২০১২ তারিখ পর্যনত্দ সময়ে আটককৃত

মাদকদ্রব্য সমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। উক্ত ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার। উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত আছেন অধিনায়ক, ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন, কক্সবাজার এবং পুলিশ সুপার, কক্সবাজার। ধ্বংসকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৬৪৬ বোতল বিভিন্ন প্রকার বিদেশী মদ, ৫.৫০০ কেজি গাঁজা, ২,৯৯৯ পিস ইয়াবা, ২২,২২৭ লিটার বাংলা মদ, ১৫,৫৩০ পিস মাদক তৈরীর উপকরণ বীজ, ৩৫ ক্যান বিয়ার, ০৬ প্যাকেট বেনসন সিগারেট এবং মাদক তৈরীর বিপুল পরিমান সরঞ্জামাদি (পস্নাষ্টিকের ড্রাম, পস্নাষ্টিকের বালতি, পস্নাষ্টিকের জারিকেন, এ্যালোমিনিয়ামের পাতিল, কলসী, বালতি, তৈলের টিন, পস্নাষ্টিকের বিভিন্ন সাইজের বোতল, বাঁশের তৈরী বিভিন্ন সাইজের ঝুঁড়ি ইত্যাদি) আটক করতে সমর্থ হয়। মালিকবিহীন ধ্বংসযোগ্য মাদকদ্রব্যের মুল্য- ৯১,০৭,৩০০/- (একানব্বই লৰ সাত হাজার তিনশত) টাকা। উলেস্নখ্য, গত গত ১৯ ডিসেম্বর ২০১১ হতে ৩১ জানুয়ারি ২০১২ তারিখ পর্যনত্দ আটককৃত মাদকদ্রব্যের সর্বমোট মূল্য ২,৪২,১৮,০৪০/- (মালিকসহ ১,৫১,১০,৭৪০/- টাকা এবং মালিকবিহীন ৯১,০৭,৩০০/-) টাকা।
উলেস্নখ্য, ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ খালেকুজ্জামান, পিএসসি এর সঠিক দিক নির্দেশনায়, ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন তার সকল সীমানত্দ বিওপি/ক্যাম্প/চেকপোষ্ট থেকে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে। এসকল অভিযানে গত ১৯ ডিসেম্বর ২০১১ হতে ৩১ জানুয়ারি ২০১২ তারিখ পর্যনত্দ ৬৪৬ বোতল বিভিন্ন প্রকার বিদেশী মদ, ৫.৫০০ কেজি গাঁজা, ২,৯৯৯ পিস ইয়াবা, ২২,২২৭ লিটার বাংলা মদ, ১৫,৫৩০ পিস মাদক তৈরীর উপকরণ বীজ, ৩৫ ক্যান বিয়ার, ০৬ প্যাকেট বেনসন সিগারেট আটক করতে সৰম হয়েছে। বর্তমানে মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে বিজিবির অপারেশন/ গমনাগমনের খবর সংশিস্নষ্ট চোরাচালানীদের নিকট সহজেই পৌছে যায় বিধায় এসকল মাদক দ্রব্যের সাথে আসামী আটক করা প্রায়ই কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে। তবে গত ৩০ জানুয়ারি ২০১২ তারিখ মরিচ্যা যৌথ চেকপোষ্ট হতে ০৩ জন আসমীকে ১ টি মাইক্রোসসহ ২২,০৫৩ পিস ইয়াবা আটক করা হয়েছে এবং ০১ ফেব্রম্নয়ারি ২০১২ তারিখ ০১ জন আসামীসহ ১ কেজি ৩০০ গ্রাম হেরোইন আটক করা হয়েছে । ফলে উপরোক্ত সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র মালিকবিহীন ভাবে আটককৃত ৬৪৬ বোতল বিভিন্ন প্রকার বিদেশী মদ, ৫.৫০০ কেজি গাঁজা, ২,৯৯৯ পিস ইয়াবা, ২২,২২৭ লিটার বাংলা মদ, ১৫,৫৩০ পিস মাদক তৈরীর উপকরণ বীজ, ৩৫ ক্যান বিয়ার, ০৬ প্যাকেট বেনসন সিগারেট এবং মাদক তৈরীর বিপুল পরিমান সরঞ্জামাদি (পস্নাষ্টিকের ড্রাম, পস্নাষ্টিকের বালতি, পস্নাষ্টিকের জারিকেন, এ্যালোমিনিয়ামের পাতিল, কলসী, বালতি, তৈলের টিন, পস্নাষ্টিকের বিভিন্ন সাইজের বোতল, বাঁশের তৈরী বিভিন্ন সাইজের ঝুঁড়ি ইত্যাদি) অদ্য ০২ ফেরম্ন্রয়ারি ২০১২ তারিখ ১১০০ ঘটিকায় কক্সবাজার বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন সদরে স্থানীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, লেঃ কর্ণেল মোঃ খালেকুজ্জামান, পিএসসি এবং পুলিশ সুপার কক্সবাজার এর অংশগ্রহণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে মাদকদ্রব্যগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। উলেস্নখ করা যেতে পারে যে, ধ্বংসকৃত মাদকদ্রব্যের মুল্য- ৯১,০৭,৩০০/- (একানব্বই লৰ সাত হাজার তিনশত) টাকা ।
কক্সবাজারসহ সারা দেশ আজ মাদকের ছোবলে জর্জরিত। এ মাদক, দেশের শিৰিত জনগোষ্ঠী বিশেষ করে যুব সমাজকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কক্সবাজারসহ সারাদেশে মাদকসেবী, মাদকের ব্যবহার, পাচার এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এমনকি নারীসমাজও এব্যাপারে পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন বয়সের মহিলারাও সক্রিয় মাদক পাচারকারী হিসেবে জড়িত হচ্ছে। এক শ্রেণীর গড ফাদার মহিলাদের দিয়ে বিকল্প পাচারকারী হিসেবে ব্যবহার করছে। গড ফাদারদের কারণেও মাদক পাচার রোধ করা দুরহ হচ্ছে। তথাপিও সরকার এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদকের ব্যবহার ও পাচার রোধকল্পে বিভিন্ন পদৰেপ গ্রহণে পিছিয়ে নেই। বেশ কিছুু সংস্থা তাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্যের পাচাররোধ কার্যক্রমে এতদঞ্চলে ১৭ বিজিবি কক্সবাজার, এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ খালেকুজ্জামান, পিএসসি এর নেতৃত্বে গুরম্নত্বপূর্ণ এবং অগ্রনী ভূমিকা রেখেছে।
এখানে উলেস্নখ করা প্রয়োজন যে, এ সকল চোরাচালানী মাদকদ্রব্য আটক ও পাচার প্রতিরোধে ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বদ্ধ পরিকর। কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহ সকলের সহযোগিতা থাকলে আমরা মাদক পাচার রোধে আরো ভাল ফলাফল অর্জন করতে পারবো। তাই মাদক পাচাররোধে আজ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, আরো সচেতন হতে হবে এবং এ ব্যাপারে সংশিস্নষ্ট সকলের ঐকানত্দিক সহযোগিতা একানত্দ ভাবে কাম্য।
এ ব্যাপারে জনগণের মাঝে গণসচেতনা সৃষ্টি করার লৰেই এ সকল মাদক দ্রব্য ধ্বংস করার আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক, ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, লেঃ কর্ণেল মোঃ খালেকুজ্জামান, পিএসসি, পুলিশ সুপার, কক্সবাজার, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও পরিদর্শক (রামু সার্কেল) এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিগণ উক্ত মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Post a Comment

0 Comments