Advertisement

টেকনাফ সীমানত্দে বিএনপির রাজনীতি হাওয়া ভবনের আলমগীরের অনুকুলে ঃ সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর সম্রাজ্যে ধস!

মোবারক উদ্দিন নয়ন 
উখিয়া-টেকনাফে বিএনপি নেতাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে এক কালের হাওয়া ভবনের প্রভাবশালী নেতা উখিয়ারই সনত্দান আলমগীর
চৌধুরী। তিনি নতুন করে সাজাচ্ছেন উখিয়া টেকনাফের বিএনপির রাজনীতি। এখানে রয়েছে স্বাধীনতার পর থেকে গড়ে উঠা সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর দীর্ঘ ৪০ বছরের সাজানো রাজনৈতিক অঙ্গন। আলমগীর চৌধুরী উখিয়া-টেকনাফের সেই রাজনৈতিক অঙ্গনকে তছনছ করে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন বিএনপি। শুধু অঙ্গসংগঠন নয়-মূল দলেও হাত দিয়েছেন তিনি। উখিয়া-টেকনাফের সিনিয়র বিএনপি নেতাকর্মর্ীরা মুখ না খুললেও আলমগীর চৌধুরীর পক্ষে বিএনপি তথা অঙ্গসংগঠনের নেতাকমর্ীরা জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। হঠাৎ করে আলমগীর চৌধুরী মাঠে আসলেও তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে শুরম্ন হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। 
জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে বিএনপিতে উখিয়া টেকনাফে শাহজাহান চৌধুরীর বিকল্প কোন নেতা তৈরী হয়নি। স্বাধীনতা যুদ্ধকালিন সময়ের ছাত্রলীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতাকারি শাহজাহান চৌধুরী স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সবাইকে চমকে দেন। রাজনৈতিক পরিবারের ছেলে শাহজাহান চৌধুরীকে আর পেছনে তাকাতে হযনি। পরবর্তী তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপি'র রাজনীতিতে অভিসিক্ত হন। ১৯৭৯ সালে বিএনপি'র টিকেটে উখিয়া টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তাক লাগিয়ে দেন। পরবতর্ী সময়ে তিনি সংসদের হুইপও হয়েছিলেন। তিনি ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। উখিয়া-টেকনাফে অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন। '৯৬ সালে তাঁর ছোট ভাই জামায়াত নেতা বর্তমান উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এড. শাহজালাল চৌধুরী জামায়াত থেকে এবং শাহজাহান চৌধুরী একই সাথে নির্বাচন করায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী'র ভাগ্য খুলে যায় । তিনি এমপি নির্বাচিত হন। শাহজাহান চৌধুরীর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে। ২০০০ সালে চার দলীয় জোটের প্রাথর্ী হলে তিনি বিএনপির সাথে জামায়াতের ব্যাপক সমর্থন পেয়ে তিনি আবারো এমপি হন। 
২০০৮ সালের সাংসদ নির্বাচনে তরম্নণ আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান বদির কাছে পরাজিত হয়ে শাহজাহান চৌধুরী আবারো ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার হন। এই নির্বাচনে পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতে দ্বন্দ্ব শুরম্ন হয় জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে। জেলা বিএনপি প্রকাশ্যে দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। উখিয়া-টেকনাফের মাঠে ময়দানে পড়ে তার প্রভাব। পরে বিএনপির কেন্দ্রিয় কমান্ডের হসত্দক্ষেপে তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি সভাপতি হওয়ার পরও রয়ে যায় বির্তক। দলে দ্বন্দ্ব আরো বেড়ে যায়। বিএনপির ঘরে ঝড় তোলে নানা কোন্দল। 
কঙ্বাজার সদরের এমপি লুৎফুর রহমান কাজল তাঁর আত্মীয় হলেও এখন তাঁর সাথে নেই। ওই কোন্দলের হাওয়া উখিয়া টেকনাফের ত্যাগী নেতা-কমর্ীর্দের মাঝেও ঝড় তোলে। বিএনপি ঘরানার অনেকের মতে উখিয়া-টেকনাফের বিএনপি নেতাকমর্ীরা চায় আরেকজন জনদরদী নেতা। যিনি নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে জনগণের কাছে বিলিয়ে দেবেন। শাহজাহান চৌধুরী এমপি থাকাকালিন সময়ে হয়ত অনেক নেতাকর্মর্ী বঞ্চিত হয়েছেন। সুযোগ সুবিধা থেকেছেন অনেকে। তাই সুযোগ সন্ধানী নেতাকর্মীরা ওই না পাওয়ার ব্যথায় উখিয়া-টেকনাফে বিএনপির নতুন নেতা আশা করছে। কোন্দল এবং দ্বন্দ্বের কারণে শাহজাহান চৌধুরীর জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়ে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক সময়ের ছাত্র নেতা হাওয়া ভবনের আলোচিত নাম আলমগীর চৌধুরী। 
অল্পদিনের মধ্যে আলমগীর চৌধুরীর জনপ্রিয়তা বেড়ে বলে উখিয়া টেকনাফের ত্যাগী নেতাকর্মীরা সবাই এক বাক্যে বলে থাকে। এমনকি উখিয়া টেকনাফের নেতাকর্মর্ীরা আলমগীর চৌধুরীর ব্যক্তিগত ছবি বাইন্ডিং করে ঘরে কিংবা চায়ের দোকানে টাঙ্গিয়ে দিয়েছে। অথচ শাহজাহান চৌধুরীর ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ৪ বার সংসদ সদস্য হওয়ার পরও তার কোন ছবি কোন নেতাকর্মর্র্র্ীর বাসায় কিংবা চায়ের দোকানে আছে কিংবা ছিল কিনা দেখা যায় না। শাহজাহান চৌধুরীর ব্যাপারে এই অভিযোগও আছে যে একটি স্বার্থবাদী চক্র তাঁকে ঘিরে অনেক আকাম কুকাম করেছে যার দায় দায়িত্ব এখন তাকে নিতে হচ্ছে। 
সূত্র জানা যায়, হাওয়া ভবণের আলোচিত আলমগীর চৌধুরীর কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ে বিএ্নপি তথা অঙ্গসংগঠনে কোন পোষ্টে না থাকলেও বিএনপির হাই কমান্ডে তার ব্যাপক পরিচিত রয়েছে। সূত্রমতে, ছাত্রদলের গত কেন্দ্রীয় কমিটির হেলাল ও বাবুর নিয়ন্ত্রণাধীন কমিটির সহ সভাপতি আজহারম্নল হক মুকুলের বোনের জামাই হিসেবে উখিয়ার সনত্দান আলমগীর চৌধুরীর হাওয়া ভবণ কেন্দ্রিক বিচরণ ছিল। সেই সুবাধে বিএনপি তথা অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মর্ীদের সাথে তার মধুর সম্পর্ক রয়েছে। মূলত বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব তারেক রহমানের সাথেও আলমগীর চৌধুরীর একানত্দ পরিচয় রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিএনপি নিয়ন্ত্রনকারী সিনিয়র নেতাদের সাথেও আলমগীর চৌধুরীর সুপরিচিতি রয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উখিয়া-টেকনাফের বিএনপির হাল ধরতে মরিয়া হয়ে উঠে আলমগীর চৌধুরী। ইতিপূর্বে আলমগীর চৌধুরী শাহজাহান চৌধুরীর সাজানো রাজনৈতিক অঙ্গনকে তছনছ করে নতুনভাবে সাজানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আলমগীর চৌধুরী আন্ডাগ্রাউন্ডে থেকে যুবদল ছাত্রদলের কমিটি গঠন করে চলছে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জেলা বিএনপির একাংশ আলমগীর চৌধুরীকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এক প্রতিক্রিয়ায় আলমগীর চৌধুরী জানান, দলীয় পদের লালায়িত নয় তিনি। অবহেলিত উখিয়া-টেকনাফকে সাজাতে এবং বিএনপি তথা অঙ্গসংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশে থাকতে চান। তিনি বলেন, আমি উড়ে এসে জুড়ে বসেনি। বিএনপির হাই কমান্ডের ইশারায় কাজ করে যাচ্ছি। কেউ আমাকে ধরে রাখতে পারবেনা। এ দিকে উখিয়া টেকনাফের সাবেক এমপি ও জেলা বি্এনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলে থাকেন শুধু উখিয়া-টেকনাফ নয়-কঙ্বাজারের ৪টি আসনের মনোয়ন তার ইশারায় হবে। তার এই ঘোষণাকে শুধু উখিয়া-টেকনাফের প্রার্থীরা নয়-জেলার বাকী আসনের প্রার্থীরাও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। অপরদিকে ৪ ফেব্রম্নয়ারি অনুষ্ঠিতব্য উখিয়া যুবদলের কমিটি গঠন নিয়েও দেখা দিয়েছে দলীয় নেতাকর্মর্র্ীদের মাঝে দ্বিধা বিভক্তি। ইতিমধ্যে অনেক সিনিয়র বিএনপির নেতাকর্মী যুবদলের সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বলতে গেলে, আগামী নির্বাচ্েন শাহজাহান চৌধুরীর জন্য শুধু আলমগীর চৌধুরী নয়-অনেকেই কাটা হয়ে দাঁড়াবে। 
এ বিষয় নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর সাথে কথা বললে জানান, দলের অনেকেই দল গোছাতে পারেন। দেশের যে পরিস্থিতি আলমগীর চৌধুরী শুধু নয় এ রকম আরো অনেক নেতা কমর্ীদেরকে দল গুছানোর জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

Post a Comment

0 Comments