মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান):
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কাবিখা প্রকল্পে লুটপাটের আয়োজন চলছে। কাবিখা কমিটির স্বাক্ষর না নিয়েই রেজুলেশন তৈরী করে নামসর্বস্ব প্রকল্প দেখিয়ে এমপির অনুমোদন পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। এ ঘটনা ফাঁস হয়ে যাবার পর কাবিখা কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রকল্প তালিকায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনে চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
জানা গেছে, চলতি ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের ০৮ জানুয়ারী ২০১২ তারিখের স্মারক নং- ৩০১.২১৩.০০২.০০.০০.০০৭.২০১১-২৭ মূলে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচীর আওতায় আলীকদম উপজেলায় ২৬৭ মে.টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়। এরমধ্যে সদর ইউনিয়ন পরিষদ ১৫টি প্রকল্পে ১৪১ মেট্রিক টন ও চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদ ১৯টি প্রকল্পে ১২৬ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেখিয়ে নামসর্বস্থ ৩৫টি প্রকল্প তৈরী করে।
খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সদ্য জারীকৃত কাবিখা প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণের সময় ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটির অনুমোদন শেষে উপজেলা কমিটির মাধ্যমে প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে এসবের কোন তোয়াক্কাই করেনি। গত ৬ ফেব্রুয়ারী উপজেলা কাবিখা কমিটির সভা দেখিয়ে ৩৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেখানো হয়েছে। অথচ ওই বৈঠকে কমিটির কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে কাবিখা কমিটির সদস্য উপজেলা কৃষি অফিসার সুমন কুমার শর্মা, উপজেলা প্রকৌশলী সজল কৃষ্ণ দেব এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, গত ৬ তারিখে উপজেলা কাবিখা কমিটির মিটিংয়ে তারা উপস্থিত ছিলেন না। তারা দাপ্তরিক কাজে বাইরে ছিলেন।
ভূয়া রেজুলেশন তৈরী করে ৩৫টি নামসর্বস্ব প্রকল্পের তালিকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী গত ৬ ফেব্রুয়ারী স্বাক্ষর করেছেন। কাবিখা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এ রেজুলেশনে স্বাক্ষর না করলেও গত ৮ ফেব্রুয়ারী প্রকল্প তালিকা বান্দরবানের সাংসদের বীর বাহাদুর অনুমোদিত লিখে স্বাক্ষর দিয়েছেন।
মিটিং না করে কেন প্রকল্প তালিকা তৈরী করা হয়েছে জানতে চাইলে ১নং আলীকদম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জামাল উদ্দিন গতকাল মুঠোফোনে জানান, এ বিষয়ে কোন অসুবিধা হবে না, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রকল্প তালিকায় স্বাক্ষর দিয়ে দিবেন। কাবিখা কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরের পূর্বেই এমপির স্বাক্ষর কি করে হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমপি মহোদয় ঢাকা চলে যাবেন, তাই তড়িগড়ি করে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।
চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীনের কাছে গতকাল মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে সাক্ষাতে আলাপ করবেন বলে জানান। একইভাবে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ রিটন এ বিষয়ে সাক্ষাতে আলাপ করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, তালিকা অনুমোদনের পর যথানিয়মে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করা হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা কাবিখা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম বলেন, চিকিৎসাজনিত কারণে আমি গত ৬ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রাম ছিলাম। কাবিখার মিটিং-এ উপস্থিত থাকার প্রশ্নই আসেনা। কাবিখার প্রকল্প তালিকা এমপির অনুমোদনের পর গত শনিবার রেজুলেশনে স্বাক্ষরের জন্য বাসায় গেলে আমি তাতে অস্বীকৃতি জানাই। উপজেলা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, তাকে অন্ধকারে রেখেই ইউপি চেয়াম্যানরা প্রকল্প গ্রহণ করছেন। তাতে জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের চাইতে ব্যক্তি উন্নয়নেই সরকারী খাদ্যশস্য ব্যয় হচ্ছে বেশী। গৃহিত ৩৫টি প্রকল্পের বেশীরভাগ ওভারলেপিং এবং নামসর্বস্ব।

0 Comments