Advertisement

দেশের সর্বোচ্চ রামুর সিংহশয্যা বুদ্ধমূর্তি সমৃদ্ধ করবে পর্যটন শিল্প


তাহানিয়া নাসরিন
প্রাকৃতিক এবং অপ্রাকৃতিক ঐতিহ্য, পুরাকীর্তি, স্থাপত্য নিদর্শন ইত্যাদিতে ভরপুর একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভূখন্ডের নাম বাংলাদেশ ; আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। বিশ্বের ভ্রমন পিপাসু মানুষের কাছে ক্রমশ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দেশের দক্ষিনে নান্দনিক জেলা কক্সবাজার। এ জেলারই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে রামু উপজেলাকে।
ছয়টি ঋতু এদেশের প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে বিধায় এদেশের রূপ বৈচিত্র পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এদেশে বিনাযতেœ গাছ জন্মে, ফুল ফোটে, ফসল ফলে ঠিক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের মত। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিপ্লব ঘটাতে পারলে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া যেত, এদেশ প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে কতটা সমৃদ্ধ। আমাদের দেশে যতগুলো মানুষ বেকার পড়ে আছে ঠিক ততগুলো মানুষ বেকারযোগ্য নয়। আমাদের দেশে মোট বেকারের একাংশ হল নিজের খেয়াল অলসতা এবং উদাসীনতা দোষে তারা বেকার। অথচ তাদের মধ্যে কর্মক্ষমতা, মেধা, প্রজ্ঞা যোগ্যতাসহ অনেক গুণাবলী আছে। ঠিক আমাদের দেশ যতটা দরিদ্র হয়ে পড়ে আছে ততটা দরিদ্র হয়ে পড়ে থাকার কথা নয়। অনেক গুণ নিয়ে মূখ তবড়ে পড়ে থাকা মানুষ গুলোকে আমরা বলি সম্ভাবনাময় মানুষ। অনেক প্রাচুর্য, ঐশ্বর্য্য নিয়ে পিছিয়ে পড়া এই দেশটাকে আমরা বলতে পারি সম্ভাবনাময় একটি দেশ। যেমন আছে প্রাকৃতিক রূপ তেমন আছে অপ্রাকৃতিক রূপের বন্যা। তাইতো এই দেশের নাম রূপসী বাংলাদেশ। সত্যি তো রূপসী বাংলা। খাল, বিল, হাওড়, নদী নালা, পাহাড় পর্বত এর শোভা এ দেশকে নববধূর সাজে সাজিয়েছে। হিন্দু, মুসলিম এবং বৌদ্ধ ধর্মের পুরাকীর্তি এবং স্থাপত্য নিদর্শন গুলো অপ্রাকৃতিক রূপের অনন্য উপকরণ।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মত সাগর কুন্তলা, সৈকত নন্দিনী পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলা হচ্ছে বৌদ্ধ পুরাকীর্তি সমৃদ্ধ একটি অসম্প্রদায়িক উপজেলা। অনেক প্রাগৈতিহাসিক বৌদ্ধ বিহার এবং নিদর্শন রামুর চেহারাকে অত্যন্ত মায়াবী করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি গ্রামে নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ বুদ্ধমূর্তি ১০০ ফুট সিংহশয্যা বিশিষ্ট গৌতম বুদ্ধমূর্তি। কেবল তা নয় উক্ত মূর্তিকে কেন্দ্র করে সেখানে গড়ে উঠেছে বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র নামের একটি বিশাল প্রকল্প (প্রায় তিন কোটি টাকা)। এই সুবিশাল প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার প্রাক্তন সভাপতি, বরেণ্য সাংঘিক পুরোধা, রামু সীমা বিহারের পূজনীয় বিহারাধ্যক্ষ প-িত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের মহোদয়ের স্নেহধন্য শিষ্য বিদর্শনগুরু ভদন্ত করুণাশ্রী থের। তিনি বর্তমান তরুণ প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল বৌদ্ধ ভিক্ষু। তিনি ১৯৯৭ সালে ভিক্ষুধর্ম গ্রহণ করার পর ১৯৯৯ সালের শেষার্ধে মিয়ানমার (বার্মা) গমন করেন। সেখানে ধ্যানশিক্ষা করেন। এবং ২০০২ সালে রামুর উত্তর মিঠাছড়ি গ্রামে গ্রামবাসীর সহায়তায় বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র গড়ে তোলেন। পরে ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর ১০০ ফুট সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি উক্ত মূর্তিটি প্রতিষ্ঠায় নিরলস থেটে যাচ্ছেন। সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তিগত এবং জাতি, ধর্ম, নির্বিশেষে সকলের অনুদানে তিনি এ পর্যন্ত এসেছেন। তাঁর সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্মাণ কাজটি সম্পূর্ণ করতে হলে আরো প্রায় এক কোটি টাকা দরকার। এই মূহুর্তে সরকারি সহায়তা এবং পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এত বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা আদৌ সম্ভব নয়। এদিকে নজরকাড়া এই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন অসংখ্য দেশী বিদেশী পর্যটক রামুর অবহেলিত উত্তর মিঠাছড়ি গ্রামে যাচ্ছেন। গ্রামের পরিচিতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। সাথে রামুর পর্যটন আকর্ষণ ও বেড়ে গেছে। রামুর বিজ্ঞমহল মনে করেন মূতিটি পরিপূর্ণ অবয়বে নির্মাণ করা গেলে এবং বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের প্রকল্পাধীন কাজ গুলো বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে রামুর প্রতি পর্যটকরা আরো বেশি আকর্ষিত হবেন। এবং সরকারের রাজস্ব ও বৃদ্ধি পাবে। পর্যটক বান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠলে পর পর্যটন শিল্পের টানে রামুর যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে রামুর সর্বাঙ্গে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগে যাবে। এত সরকারও লাভবান হবে।

Post a Comment

0 Comments