সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকা-ের কূল-কিনারা করতে পারছে না পুলিশ। হত্যাকান্ডের ৪৮ ঘন্টা পার হলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার হয়নি। গতকাল দুপুরে পুলিশের পক্ষ তদন্তে অগ্রগতির কথা বলা হয়েছে। তবে কি ধরনের অগ্রগতি তা খোলসা করে বলা হয়নি। এদিকে র্যাব ইন্টিলিজেন্স ইউনিট, পুলিশের
ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ, সিআইডিসহ সরকারের সবকটি গোয়েন্দা সংস্থা খুনের রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নেমেছে। সূত্র জানায়Ñ গোয়েন্দারা ৭টি ক্লু নিয়ে এগুচ্ছে। রক্তমাখা বটি, রান্নাঘরের গ্রিল কাটা, বাসায় সন্ধ্যা থেকেই আত্মীয়ের অবস্থান, সাগর রুনির সঙ্গে অন্য কারো শত্রুতা, আর্থিক লেনদেন আছে কি না? নাকি অন্য কোনো কারণে রকমের একাধিক আলামত ও প্রশ্নকে সামনে রেখে তদন্ত কাজ চলছে। অপেশাদার খুনিরা সাংবাদিক দম্পতিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে এ ব্যাপারে কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কোনো সন্দেহ নেই। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের বেশ কয়েকটি টিম এ নিয়ে কাজ করছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই ঘটনার একটি মোটিভ উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
গত শনিবার রাজধানীর রাজাবাজারে ৫৮/এ/২ নম্বর হোল্ডিংয়ের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। এই দম্পত্তির একমাত্র ছেলে ৫ বছরের মাহিন সরওয়ার মেঘ প্রথম এই হত্যাকাে র খবর জানান। তারপর সাংবাদিক ও পুলিশের ভিড় জমে যায় ওই বাড়িতে, যান রাজনৈতিক নেতারা। সাগর-রুনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন। সাংবাদিক নেতারা সহকর্মীদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন; কিন্তু গতকাল পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হত্যাকা-ের কোন ক্লু খুজে পায়নি। তবে তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
র্যাবের ধারণা, এই হত্যাকান্ড পূর্বপরিকল্পিত এবং খুনিরা নিহতদের পরিচিত। আর ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক বলছেন, সম্ভবতঃ হত্যাকারীরা অপেশাদার। সাগরের দেহে ১৯টি বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিলো। তার বুকের বাম পাশে একটা ছুরির ৮০ ভাগ গেথেছিলো। রুনির পেটে বড় ধরনের দুটি আঘাতের চিহ্ন ছিলো। গতরাতে ওই বাড়ি থেকে রক্তমাখা ১টি বটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
হত্যাকান্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ ওই বাড়ির পাহারাদার পলাশ রুদ্র পাল এবং তত্ত্বাবধায়ক আবু তাহেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে আশপাশের বাড়ির বাসিন্দাদেরও। এছাড়া রুনির ২ ভাই নওশের আলম ও নওদিশ আলমকে সদরদপ্তরে নিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের উপকমিশনার ইমাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পলাশ (পাহারাদার) বলেছে, সাগরের পর অপরিচিত আর কেউ ওই বাড়িতে ঢোকেনি। তবে সে এটাও বলেছে, ফজরের নামাজের কিছু আগে ওই ভবনের মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ নুরুন্নবী তাকে টেলিফোন করে বলেছিলেন, তিনি নাকি ওপরে কান্নার শব্দ শুনতে পেয়েছেন। নুরুন্নবী সাগরদের ঠিক নিচের ফ্ল্যাটেই থাকেন।
ওসি জাকির জানান, সাগর-রুনির ঘরের জিনিসপত্র ছিলো এলোমেলো, ড্রয়ারগুলো ছিলো খোলা। তবে ল্যাপটপ ও ক্যামেরার মতো দামি জিনিসপত্র ঘরেই পাওয়া গেছে। ওসি জাকির হোসেন জানান, ওই বাসার ডাইনিং টেবিলে ডিম ভাজা ও রুটি দেখতে পেয়েছে পুলিশ, যার কিছুটা খাওয়া হয়েছিলো। আর রান্না ঘরের একটি গ্রিল কাটা ছিলো। এ বিষয়ে ডিএমপি উপকমিশনার ইমাম হোসেন বলেন, রান্নাঘরের গ্রিল কাটা থাকায় ১ ফুট বাই ৮ ইঞ্চির মতো ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে। ওই জায়গা দিয়ে বড়জোর একটা বাচ্চা ভেতরে ঢুকতে পারবে। তবে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান জিয়াউল আহসান বলেন, প্রাথমিক তপ্রন্ত মনে হচ্ছে, ঘটনা পরিকল্পিত। হত্যাকারীরা পূর্বপরিচিত। সাগর-রুনির পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা হামিদা সুলতানা জানান, রুনিদের বাসায় শুক্রবার সন্ধ্যার পর কথাবার্তার শব্দ শুনে তার ধারণা হয়েছিলোÑ বাসায় অতিথি এসেছে। তবে ভবনের গেইটে নিরাপত্তারক্ষীদের লগবুকে শুক্রবার কোনো অতিথি আসার তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শিঘ্রই খুনিদের সাংবাদিক দম্পতি হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা বটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ, সিআইডিসহ সরকারের সবকটি গোয়েন্দা সংস্থা খুনের রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নেমেছে। সূত্র জানায়Ñ গোয়েন্দারা ৭টি ক্লু নিয়ে এগুচ্ছে। রক্তমাখা বটি, রান্নাঘরের গ্রিল কাটা, বাসায় সন্ধ্যা থেকেই আত্মীয়ের অবস্থান, সাগর রুনির সঙ্গে অন্য কারো শত্রুতা, আর্থিক লেনদেন আছে কি না? নাকি অন্য কোনো কারণে রকমের একাধিক আলামত ও প্রশ্নকে সামনে রেখে তদন্ত কাজ চলছে। অপেশাদার খুনিরা সাংবাদিক দম্পতিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে এ ব্যাপারে কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কোনো সন্দেহ নেই। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের বেশ কয়েকটি টিম এ নিয়ে কাজ করছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই ঘটনার একটি মোটিভ উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
গত শনিবার রাজধানীর রাজাবাজারে ৫৮/এ/২ নম্বর হোল্ডিংয়ের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। এই দম্পত্তির একমাত্র ছেলে ৫ বছরের মাহিন সরওয়ার মেঘ প্রথম এই হত্যাকাে র খবর জানান। তারপর সাংবাদিক ও পুলিশের ভিড় জমে যায় ওই বাড়িতে, যান রাজনৈতিক নেতারা। সাগর-রুনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন। সাংবাদিক নেতারা সহকর্মীদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন; কিন্তু গতকাল পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হত্যাকা-ের কোন ক্লু খুজে পায়নি। তবে তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
র্যাবের ধারণা, এই হত্যাকান্ড পূর্বপরিকল্পিত এবং খুনিরা নিহতদের পরিচিত। আর ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক বলছেন, সম্ভবতঃ হত্যাকারীরা অপেশাদার। সাগরের দেহে ১৯টি বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিলো। তার বুকের বাম পাশে একটা ছুরির ৮০ ভাগ গেথেছিলো। রুনির পেটে বড় ধরনের দুটি আঘাতের চিহ্ন ছিলো। গতরাতে ওই বাড়ি থেকে রক্তমাখা ১টি বটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
হত্যাকান্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ ওই বাড়ির পাহারাদার পলাশ রুদ্র পাল এবং তত্ত্বাবধায়ক আবু তাহেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে আশপাশের বাড়ির বাসিন্দাদেরও। এছাড়া রুনির ২ ভাই নওশের আলম ও নওদিশ আলমকে সদরদপ্তরে নিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের উপকমিশনার ইমাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পলাশ (পাহারাদার) বলেছে, সাগরের পর অপরিচিত আর কেউ ওই বাড়িতে ঢোকেনি। তবে সে এটাও বলেছে, ফজরের নামাজের কিছু আগে ওই ভবনের মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ নুরুন্নবী তাকে টেলিফোন করে বলেছিলেন, তিনি নাকি ওপরে কান্নার শব্দ শুনতে পেয়েছেন। নুরুন্নবী সাগরদের ঠিক নিচের ফ্ল্যাটেই থাকেন।
ওসি জাকির জানান, সাগর-রুনির ঘরের জিনিসপত্র ছিলো এলোমেলো, ড্রয়ারগুলো ছিলো খোলা। তবে ল্যাপটপ ও ক্যামেরার মতো দামি জিনিসপত্র ঘরেই পাওয়া গেছে। ওসি জাকির হোসেন জানান, ওই বাসার ডাইনিং টেবিলে ডিম ভাজা ও রুটি দেখতে পেয়েছে পুলিশ, যার কিছুটা খাওয়া হয়েছিলো। আর রান্না ঘরের একটি গ্রিল কাটা ছিলো। এ বিষয়ে ডিএমপি উপকমিশনার ইমাম হোসেন বলেন, রান্নাঘরের গ্রিল কাটা থাকায় ১ ফুট বাই ৮ ইঞ্চির মতো ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে। ওই জায়গা দিয়ে বড়জোর একটা বাচ্চা ভেতরে ঢুকতে পারবে। তবে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান জিয়াউল আহসান বলেন, প্রাথমিক তপ্রন্ত মনে হচ্ছে, ঘটনা পরিকল্পিত। হত্যাকারীরা পূর্বপরিচিত। সাগর-রুনির পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা হামিদা সুলতানা জানান, রুনিদের বাসায় শুক্রবার সন্ধ্যার পর কথাবার্তার শব্দ শুনে তার ধারণা হয়েছিলোÑ বাসায় অতিথি এসেছে। তবে ভবনের গেইটে নিরাপত্তারক্ষীদের লগবুকে শুক্রবার কোনো অতিথি আসার তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শিঘ্রই খুনিদের সাংবাদিক দম্পতি হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা বটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।


0 Comments