গিয়াস উদ্দিন, ঈদগাঁও: সরকারী কোন নির্দেশনা ছাড়াই সদর উপজেলার বাণিজ্যিক এলাকা ঈদগাঁও বাজারের চাউল বাজার নামক স্থানে শনিবার ২৫ ফেব্রয়ারী প্রকাশ্য দিবালোকে কালের স্বাক্ষী শতবর্ষি বটগাছটি কেটে ফেলছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাছটির ডালপালা কেটে সাবাড় করেছে । বন বিভাগের বাধায় গাছ কাটা আপাতত বন্ধ। মাত্র দুটি দোকানের স্বার্থের কারণে উক্ত গাছটি কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে বাজারবাসীর মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কিংবদন্তী আছে, জিন পরী আসলে নাকি শনি ও মঙ্গলবারে হাট পূর্ণাঙ্গ হয়। এ ছাড়াও গল্পে প্রবন্ধ মতে, শনি ও মঙ্গলবারে বটতলায় হাট বসে। শতবর্ষজীবী কালের স্বাক্ষী ও ঐতিহ্যময় এ বটগাছটি বাজারের কতিপয় ব্যবসায়ী মহলের সুবিধার্থে ৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে ঈদগাঁও বাজারের প্রাচীন বটগাছটি কাটা শুরু করেছে। এব্যাপারে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কবির হোসেন জানান, এ বিষয়ে ভাল জানেন জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। আমার কোন গাছ কাটার নির্দেশ আসেনি। জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার আমান উল্লাহ ফরাজীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাজারবাসী সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছিল গাছ কাটার বিষয়ে। সে হিসেবে ব্যবসায়ীরা গাছ কাটলে বন বিভাগ এসে বাধা প্রদান করে। এখন আপাতত গাছ কাটা বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে বাজারের এক চাউল ব্যবসায়ীর মতে, গাছটির কারণে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। সে কারণে চাউল ব্যবসায়ী ও সাধারণ ব্যবসায়ী সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গাছ কাটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ছাত্রলীগ নেতা রাজিবুল হক রিকো জানান, গাছ কাটার পক্ষে আমি নই। ডি এইচ এল সভাপতি জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ জানান, বট গাছটি বাজারের একমাত্র ঐতিহ্য। গাছটি কেটে বাজারের সৌন্দর্য্য বিনষ্ট করার কারণে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।

0 Comments