Advertisement

পেকুয়ার মগনামা রুপাই খালকে চিংড়ি চাষের জমি সাজিয়ে ইজারা নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা

স্টাফ রিপোটর্ার 
কঙ্বাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের এতিহ্যবাহী রুপাই খালকে
চিংড়ি চাষের জমি সাজিয়ে জেলা প্রশাসকের কাযর্ালয়ে ভূঁয়া কাগজপত্র প্রদান করে ১০ বছরের জন্য ইজারা ও বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য স্থানীয় কয়েকজন সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু প্রভাবশালীরা অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও ওই রুপাই খা্ল থেকে মগনামা ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের হাজার হাজার জেলে যুগ যুগ ধরে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বিগত জোট সরকারের আমলেও ওই প্রভাবশালী ভূমিদস্যু মহল রুপাই খালটি দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা নিলে স্থানীয় জনসাধরন ও জেলেদের আপত্তি ও আন্দোলনের মুখে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইজারা বাতিল করে মগনামার রুপাই খাল জেলে ও স্থানীয় জনগনের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়। এরপর থেকে রুপাই খাল কোন ব্যক্তিকে ভুমি মন্ত্রাণালয় ও জেলা প্রশাসক ইজারা দেয়নি। এদিকে রুপাই খাল ইজারা নেওয়ার ঘটনায় ওই জলমহালের আশপাশের পাঁচ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ও জেলেদের মাঝে নতুন করে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। 
জানা গেছে, উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন মগনামা মৌজায় বিএস ১নং খাস খতিয়ানের ৪৩২২/এ দাগের ৪১.০৭ একর আয়তনের ঐতিহ্যবাহী রূপাই খাল প্রায় দু'শ বছরে ধরে স্থানীয় হাজার হাজার জেলে পরিবার মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ সহ স্থানীয় বাসিন্দারা নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ওই খালের পানি ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি সময়ে ওই এলাকার কিছু প্রভাবশালী ভূমিদসু্য এ খালকে চিংড়ি চাষের জমি উল্লেখ করে কঙ্বাজার জেলা প্রশাসক সহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী খালটি ইজারা নেওয়ার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এলাকাবাসীরা জানায়,মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যা ঘোনা গ্রামের মৃত মজু মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ আলী গত ০৮/১১/২০১০ইং তারিখে ভূমি অফিসের কতিপয় দুনর্ীতিবাজ কর্মকতর্া কর্মচারীর সহযোগিতায় ওই খালটি চিংড়ি চাষের জমি উল্লেখ করে ইজারা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে একটি প্রসত্দাব প্রেরণ করেন। যার স্মারক নং ২০১০-৩৭০ এস,এ। 
এদিকে এ খবর স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলেদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এ ভূঁয়া চিংড়ি প্রস্তাব বাতিল করার জন্য কঙ্বাজার জেলা প্রশাসকের নিকট গত ১৩/০২/২০১১ ইংরেজী তারিখে ওই গ্রামের পক্ষে মৃত হাজী দানু মিয়ার পুত্র সমাজসেবক মো: নেজাম উদ্দিন ও নুরুল আলমের পুত্র গিয়াস উদ্দিন লিখিতভাবে একটি আপত্তি আবেদন দাখিল করেছিলেন। জানা যায়, কঙ্বাজার জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক গিয়াস উদ্দিন এ আপত্তি আবেদন পেয়ে পেকুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য গত ২৭/০২/২০১১ ইংরেজী তারিখে পত্রের মাধ্যমে লিখিতভাবে নির্দেশ প্রদান করেন। যার স্মারক নং জে:প্র/কঙ্/রাজস্ব ১২-১৩,৪০৯। এদিকে পেকুয়ার এসিল্যান্ড নুর-ই-খাজা আলামীন এ নির্দেশ পেয়ে দীর্ঘ ১০ মাস পর তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে অবশেষে গত ১১/১২/১১ ইংরেজী তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবরে ওই ভূমিদস্যুদের দাখিল করা জেলা জল ও চিংড়ি মহাল কমিটির বৈঠকে মগনামা রুপাইখালের ইজারা প্রস্তাব বিবেচনা না করার জন্য প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। যার স্মারক নং উনিঅ/পেকুয়া/১১-১০২/এস,এ। এ প্রতিবেদন যথাসময়ে এসিল্যান্ড জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ না করায় ওই ভূমিদস্যু মো:আলী স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন আ'লীগ নেতা ও জেলা মহাল কমিটির দূনর্ীতিবাজ সদস্যকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে সুকৌশলে ম্যানেজ করে রুপাই খালের ৪৩২২/এ দাগের প্রায় ৭ (সাত) একর চিংড়ি চাষের জমি সাজিয়ে অভিনব প্রতারণা করে গত ২২/১১/১১ ইংরেজী তারিখে অনুষ্টিত জেলা জল ও চিংড়ি মহাল কমিটিতে কঙ্বাজার জেলা প্রশাসক অনুমোদন দিয়ে তা ভূমি মন্ত্রাণালয়ে পুনরায় অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করেন। স্থানীয়দের সূত্রে আরো জানা যায়,জেলা প্রশাসকের এ সংক্রান্ত অনুমোদন পত্র পেয়ে ভূমি মন্ত্রাণালয়ের উপ-সচিব এটিএম নাছির মিয়া চলতি বছরের ৩ জানুয়ারী এ বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন দেন । যার অনুমোদনের সিরিয়াল নং ৪৬। 
এ ব্যাপারে গতকাল ৬ জানুয়ারী সোমবার পেকুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুর-ই-খাজা আলামীন জানান,সরেজমিনে তদন্ত করে জেলা প্রশাসক বরাবরে মগনামা রুপাই খালের ইজারা প্রস্তাব বাতিল করতে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এছাড়া্র সরকারী চিংড়ী জমি ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী খাল ও বদ্ধ জলমহাল কোন ব্যক্তি ও সংস্থাকে ইজারা দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে স্থানীয় কোন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি থাকলে তারা যদি ইজারা পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করে তাদের ইজারা সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইজারা দেওয়ার সরকারী নিয়ম আছে। অথচ মগনামা রুপাই খালের পাশ্ববতর্ী গ্রেিম দুটি বৃহৎ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি রয়েছে। এ সমিতি মগনামা রুপাই খাল ইজারা পাওয়ার জন্য কোন আবেদনই করেনি। 
মগনামা রুপাই খাল থেকে মৎস্য আহরণকারী স্থানীয় জেলে আবদু ছাত্তার,নুরু চ্ছাফা,আশরাফ মিয়া,আসহাব মিয়া,মফিজুর রহমান,এজাহার মিয়া,মোজাফ্ফর আহমদ,আবদুল কাইয়ুম,মোনাফ,ছমদ আলী,ছাদেকুর রহমান,আবদু রহিম,করিম আলী,আলী হোসেন,জামাল উদ্দিন,মোজাম্মেলসহ আরো অসংখ্য জেলে জানান, অমরা রুপাই খাল থেকে প্রতিদিন মাছ আহরণ করে সংসার চালাই। এই মুহুর্তে যদি রুপাই খাল এলাকার প্রভাবশালী মহলকে স্থায়ী ইজারা বা বন্দোবসত্দ দেওয়া হয় তাহলে আমাদের জীাবকার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ কঠোর কর্মসূচী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। এ নিযে গত কয়েক দিন ধরে মগনামা রুপাই খাল এলাকায় হাজার হাজার জেলে পরিবারের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। 
মগনামার রুূপাই খাল বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান মো: নেজাম উদ্দিন ও মহাসচিব সাংবাদিক মুহাম্মদ গিযাসউদ্দিন জানান,কোন ব্যক্তি যদি রুপাই খাল ইজারা নেয় তাহলে আমরা পুরো মগনামাবাসী এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনসহ কঠোর কর্মসুচী দিয়ে জনগনের জন্য উম্মুক্ত খাল রুপাই খাল ভূমিদস্যুদের কবল থেকে রক্ষা ও উদ্ধার করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা যত্ই প্রভাবশালী হউক না কেন কাইকে ছাড় দেওয়া হবেনা। 
এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ চৌধুরী রাজু জানান,মগনামার রুপাই খাল স্থানীয় হাজার হাজার দরিদ্র ও জেলে পরিবারের আর্শিবাদ। এই খাল থেকে এলাকার অভাবী মানুষেরা সারা বছরই মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তিনি আরো জানান, এলাকার কোন ব্যক্তি ওই বদ্ধ জলমহাল ইজারা নেওয়ার চেষ্ঠা করলে ইজারা বাতিলসহ এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment

0 Comments