Advertisement

সিনেমা ও সার্কাসে নীল ছবি লটারীতে জুয়া



চকরিয়ায় অসামাজিক কার্যকলাপ
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি

চকরিয়া উপজেলার শত বছরের ঐতিহ্য কাকারার ঘোড়দৌড় মেলায় চলছে সার্কাসের আদলে অশ্লীল নৃত্য, সিনেমার নামে নগ্নছবি, লটারীর নামে জমজমাট জুয়ার আসর। গত ১ জানুয়ারী, শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১০ জানুয়ারী পর্যন্ত। বিগত বছর গুলোতে এ মেলা প্রকাশ্যে নিলাম দিয়ে সরকারী কোষাগারে রাজস্ব জমা করলেও এবার কোন ধরণের রাজস্ব সরকারী খাতে জমা হয়নি। মেলা কমিটি ১০ দিন ব্যাপী মেলা পরিচালনা করতে গিয়ে দোকানের প্ল্লট বরাদ্ধ, সার্কাস, সিনেমা, লটারী, মৃত্যকুপ ও পুতুল নাচ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করছে বলে মেলা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানা গেছে।


প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বিগত ১৯০৪ সালে এ মেলা প্রবর্তন করেন, চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের জমিদার পরিবারের বিশিষ্ট আলেম ও সমাজ সংস্কারক মরহুম মাওলানা বদিউজ্জামান। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২০০০ সাল পর্যন্ত এ মেলা পরিচালিত হয়ে আসলেও তামাক চাষের ব্যাপক আগ্রাসনসহ জোট সরকারের দায়িত্বশীল নেতাদের বাঁধার কারণে দীর্ঘ ১২ বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। স্থানীয় শাসক দলের নেতাকর্মীদের প্রচেষ্টায বিকল্প মাঠে গত ১লা জানুয়ারী থেকে আবারও শুরু হয়েছে এ মেলা। মরহুম মাওলানা বদিউজ্জামান কাকারাস্থ সূফি সাধক হযরত শাহ ওমর (রাঃ) মাজার সংলগ্ন মাঠে অনগ্রসর ও চিত্তবিনোদন বঞ্চিত লোকজনের স্বার্থে ৩দিন ব্যাপী এ ঘোড়াদৌড় মেলা চালু করেন। তার মৃতু্যর পর থেকে মেলার প্রবর্তকের পুত্র চকরিয়া সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও কাকারা ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট মরহুম মোস্তাক আহামদ চৌধুরী এ মেলা সুন্দরভাবে পরিচালনা করে আসছেন। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ মেলার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দর দাতাকে মেলা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে বিপুল পরিমানের রাজস্ব আয় করতেন। রাজস্বের ওই টাকা ইউনিয়নের সবক'টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ জনহিতকর কাজে ব্যয় করা হতো। পরবর্তীকালে এ মেলার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় উপজেলা পরিষদের হাতে। উপজেলা পরিষদও একই কায়দায় মেলা পরিচালনা করেছেন। কিন্তু এবার হয়েছে তার ব্যতিক্রম। কাকারার জাফর আহামদ বলির আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কোন নিলাম ছাড়াই এল, আর,ফান্ডে চাঁদা নিয়ে সরাসরি অনুমতি দিযেছে মেলা পরিচালনার। তাও অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করে ৩ দিনের স্থলে ১০ দিন ব্যাপী। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোষাগারে এক কানাকড়ি রাজস্বও জমা পড়েনি। এদিকে মেলা কমিটি প্রতিটি দোকানের প্লট থেকে ১০-১২ হাজার টাকা করে আদায় করায় বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকায় ইতিমধ্যে হতাশ হয়ে পড়েছে। এ ঐতিহাসিক মেলায় পুরানো ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে মেলা কমিটি কোন প্রকারের ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেনি। এক সময় এই এলাকার ছোট ছেলে মেয়েরা মেলার খরচ মেটানোর জন্য মাটির ব্যাংক ও বাঁশের চুঙ্গায় টাকা পয়সা জমা করে রাখত। এ মেলা ছিল চকরিয়াসহ আশপাশের ১০/১১টি উপজেলার মুসলিম পরিবারের জন্য একটি বড় উৎসব। দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের লোকজন এ মেলায় কেনাকাটা করতে আসতো। এছাড়া সারারাত কেনাকাটা করতে দেখা যায় গ্রামীণ নারীদের। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এ মেলা কোন অনৈতিক কর্মকান্ড, অশ্লীল নাচগান ও জুয়া আসর বসবেনা বলে আশ্বাস দিলেও কমিটির লোকজন তা অমান্য করে প্রশাসনের অর্থপূর্ণ উদারতায় সাংস্কৃতিক জগতে অশ্লীল কর্মকান্ডের দায়ে নিষিদ্ধ শিল্পী মেহেদী, বৃষ্টি, ঝর্না ও ঝুমকাসহ অখ্যাত অনেক শিল্পীকে নিয়ে অশ্ল্লীল নৃত্য ও গান বাজনা করে যাচ্ছে। এ ছাড়াও গভীর রাতে সিনেমা হল গুলোতে সামাজিক ছবির নামে নগ্ন ছবি দেখানো হচ্ছে বলেও একাধিক আভিযোগ রয়েছে। প্রতিরাতে ঘোড়াদৌড় মেলায় নগ্ন ছবি দেখে যুব সমাজ বিপদগামী হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেলা কমিটির একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জানান সার্কাসে পীর দরবেশ ও সাধু সন্যাসীরা আসেনা। যারা আসে তাদের মনোরঞ্জনের জন্য একটু কাপড় তোলে নাচ গান করাতে হচ্ছে । না হয় সাকর্াসে কোন লোকজন প্রবেশ করবেনা। এ অশ্লীলতার ব্যাপারে দি নিউ স্টার সাকর্াস এর ব্যবস্থাপক মোঃ শাহজাহান (সাজু) র যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, একটু নাচ গান না হলে সাকর্াসে দর্শক সমাগম হবে না। এ সাকর্াসের মালিক হাজী এম এ সামাদ এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব আমি কিছুই করতে চাইনি, মেলা পরিচালনা কমিটির চাহিদা মতে একটু নাচ গান করতে হচ্ছে । প্রতিদিনের সাকর্াসের মোট আয় থেকে শতকরা ৩৫% টাকা মেলা কমিটিকে দিতে হয় এবং সাংবাদিকরা প্রয়োজনে চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিমের সাথে দেখা করতে পারেন। তাছাড়া সাংবাদিকরা এসব না লিখলে কি হয় না? তিনি আরো বলেন, সার্কাসে পীর দরবেশ, সাধু সন্যাসী না আসলেও সার্কাস পরিচালনা কমিটিতে একজন ফকিরও জড়িত রয়েছে। অপর দিকে কোন ধরণের অনুমতি না থাকলেও লটারীতে উন্নত মানের পুরষ্কারের কথা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে স্বল্প মূল্যের কিছু পুরষ্কার বিতরণ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার টিকেট বিক্রি করে সহজ সরল লোকনের কাছ থেকে প্রতিদিন মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ বলেছেন, মেলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বক্ষণিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অশ্লীলতার ব্যাপারে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান আলী মনছুর জানান, মেলার ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করেনি প্রশাসন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ মেলা থেকে কোন রাজস্বও পায়নি। এক নাগাড়ে ১০ দিন ব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এলাকার লোকজন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অপর দিকে মেলা প্রথম ৫দিন জমে না উঠায় মেলার সময় আরোও ৫/৬দিন বাড়ানোর চেষ্টা তৎবির চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকার আইন শৃংখলা চরম অবনতির আশংকা প্রকাশ করছে সচেতন এলাকাবাসী।

Post a Comment

0 Comments