Advertisement

বছরের শুরম্নতেই শহরের বাড়িওয়ালারা বেপরোয়া ভাড়াটিয়ার উপর বোঝা

মোহাম্মদ ফরিদুল আলম
নতুন বছরের শুরম্নতেই শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে নতুন করে শুরম্ন হয়েছে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি বিড়ম্বনা। দেশের অন্যতম গুরম্নত্বপূর্ণ জেলা দরিয়ানগর খ্যাত এই কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের টানে অনেকেই আসেন জীবনের অবসর সময়টুকু পার করতে। সরকারি-বেসরকারি চাকুরীজীবি থেকে শুরম্ন

করে ব্যবসায়ী কিংবা শিৰার্থীরাও ভাড়া বাসায় থেকে স্ব-স্ব কর্মে নিয়োজিত আছেন। বিশেষ এই জেলাটি প্রবাসি অধু্যষিত এলাকা হওয়াতে অনেক আয়েশী মানুষ ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে বসবাস করছে ভাড়াটিয়া হিসেবে। পর্যটন এলাকা হওয়াতে শহরের জায়গা-জমি, বাসা-বাড়ির রয়েছে আলাদা কদর। এই সুযোগে বাড়ির মালিকরাও প্রতি বছর সুযোগ বুঝে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে থাকেন। বাড়ির মালিকদের ইচ্ছেমতো ভাড়া বৃদ্ধিতে বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা। কোন ভাড়াটিয়া বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইরে হেনস্থা করে বের করে দিচ্ছে মনমত করে গুছানো বাসা থেকে। আবার নতুন অন্য বাসায় উঠতে গেলেও গুনতে হচ্ছে ২/৩ মাসের অগ্রিম ভাড়া। এতে ভাড়াটিয়াদের জনজীবনে নেমে আসে চরম নৈরাজ্য। বাড়ি ভাড়া আইন ১৯৯১ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদু্যৎ, তেল, রড, সিমেন্ট জায়গা জমির দাম বৃদ্ধি ইত্যাদি হাজারো অজুহাত দেখিয়ে একটি বাড়িতে বছরে ৫ বার ভাড়াটিয়া পরিবর্তন করে প্রতিবারই ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছে। দেশের বিভাগীয় শহরের মতো কক্সবাজারেও বাড়ি ভাড়া খাতে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে এবং অযৌক্তিক ভাবে বর্ধিত ভাড়া আদায়ের কারণে ব্যাপক জন অসনত্দোষ দেখা দিচ্ছে। (পৃষ্ঠা >২, কলাম >১)
বছরের শুরম্নতেই শহরের বাড়িওয়ালারা
(শেষ পৃষ্ঠার পর)
ফলে নিম্নআয়ের মানুুষগুলো পড়ে যাচ্ছে বেকায়দায়। এই নিয়ে প্রায় সময় সংবাদ প্রকাশিত হলেও বিষয়টি নজরদারি করার কেউ নেই। বাড়ির মালিকরা ভাড়াটিয়াদের কাছে কড়ায় কড়ায় আদায় করলেও তারা সরকারের লৰ লৰ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। পরিবহনসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে যেখানে সাধারণ মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, সেখানে সীমিত আয়ের জনগণের জন্য বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি 'মরার উপর খড়ার ঘা এর মতো'। জনগুরম্নত্বপূর্ণ এ বিষয়ে নজর না দিয়ে গুটি কয়েক বাড়ির মালিকের স্বার্থ রৰা করা হলে এটি হবে আত্মঘাতি। পৌর কতর্ৃপৰ ও আয়কর বিভাগ বাড়ি ভাড়া খাতে হোল্ডিং ট্যাক্স ও আয়কর প্রদানের তালিকা জনসমৰে প্রকাশ, বাড়ির মালিককে বাড়ি ভাড়া ব্যবসার জন্য পৃথক ট্রেড লাইসেন্স ইসু্য, রশিদ ছাড়া বাড়ি ভাড়া বন্ধ, ৫ বছরের চুক্তি করা, মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে ভাড়া বৃদ্ধিসহ কার্যকর পদৰেপ গ্রহণ করলে হয়রানি অনেকাংশে কমবে বলে মনে করেনে অনেকেই। বাড়ি ভাড়া খাতে এ ধরনের নৈরাজ্য ঠেকানো না গেলে জনজীবনে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির উদ্ভদ ঘটতে পারে, যা সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতির মতো নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে বলে ভুক্তভোগীদের ধারণা।

Post a Comment

0 Comments