Advertisement

উখিয়ায় এনজিওতে চাকুরী দেওয়ার নামে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঃ ২ প্রতারক আটক

উখিয়া প্রতিনিধি
উখিয়ায় ভূয়াঁ এনজিও ডিপেন্ড হেলথ কেয়ারলিমিটেড এর দারিদ্র স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচীতে চাকুরী দেওয়ার নামে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার র্অিভযোগে ভুক্তভোগী জনতা ২ প্রতারককে গতকাল (৯ জানুয়ারী) সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় পালংখালী ষ্টেশন থেকে ভুক্তভোগীরা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটককৃতরা হলেন উক্ত ভূঁয়া এনজিওর কক্সবাজার অফিসের কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক ও উখিয়া অফিসের ম্যানেজার নুরুল আলম। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃত২ প্রতারক গত বছরের অক্টোবর মাসের শুরুতে ডিপেন্ড হেলথ কেয়ারলিমিটেডএর অধীনে দারিদ্র স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচীতে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১৬ হাজার ৫শ টাকা করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১১ জন বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫শ টাকা জামানত হিসেবে আদায় করে।
ভুক্তভোগী শামীম ইফতেখার নয়ন, হালিমা বেগম, আয়েশা আক্তার জানান, উল্লেখিত ২ প্রতারক আমাদের কাছ থেকে ১৬ হাজার ৫শ টাকা জামানত হিসেবে নিয়ে মাসিক ৬ হাজার ৫শ টাকা করে বেতন দেওয়ার কথা বলে পরিচয় পত্র দিয়ে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেয়। ১১জন বেকার যুবক-যুবতী উপজেলার রাজাপালং, রত্নাপালং, পালংখালী, হলদিয়া পালং ও জালিয়া পালংয়ের বিভিন্ন গ্রামে দরিদ্র স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচীর নামে কোন ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই মরিচ্যা পালংয়ের জামাল উদ্দিন, দরগাহ বিল গ্রামের মোহছেনা বেগম, ফলিয়া পাড়া গ্রামের হালিমা বেগম, পূর্ব ডিগলিয়া পালংয়ের আয়েশা আক্তার, পিনজির কুল গ্রামের জেসমিন আক্তার, পূর্ব দরগাহ বিলের আয়েশা বেগম, ধামন খালী গ্রামের ফাতেমা বেগম, কুতুপালংয়ের সাফুলো বড়ুয়া, সিকদার বিল গ্রামের রাজিয়া বেগম, গৌজু ঘোনার বেবী আক্তার ও দক্ষিণ ঘুমধুমের শামীম ইফতেখার নয়ন কার্যক্রম শুরু করেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, এ অবস্থায় ৩ মাস পার হলে ১১ জন কর্মী কর্মকর্তাদের নিকট বেতনের টাকা চাইলে উল্টো কোন টাকা পাবে না বলিয়া জবাব দেয় এবং ভবিষ্যতে জামানত টাকা ফেরত চাইলে চাকুরী চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। দীর্ঘদিন ধরে উক্ত প্রতারক আত্নগোপন করে থাকে। অবশেষে গতকাল সোমবার পালংখাল ষ্টেশনে ওই প্রতারকদের দেখতে পেয়ে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ যুবক-যুবতীরা জড়ো হয়ে তাদের আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই)মকবুল হোসেন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পালংখালী থেকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আটক করা ২ প্রতারককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনার ব্যাপারে ভুক্তভোগী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দক্ষিণ ঘুমধুম ইউনিয়নের এম সাজেদ উল্লাহর ছেলে শামীম ইফতেখার নয়ন বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও জানান, গত ৩ মাস ধরে বেতনের টাকা না দিয়ে ভূয়াঁ এনজিওর কর্মকর্তা নামধারী ২ প্রতারক আত্নগোপনে ছিল। পরে আমরা খোজঁ খবর নিয়ে জানতে পারি এ নামে কোন এনজিও সংস্থা নেই। উক্ত ভূয়াঁ এনজিওর ঠিকানা দেখানো হয় ঢাকা মহাখালীর-১২০৬, রোড নং-২৯, বাড়ী নং-৩৯৮ নিউ ডিওএইচএস।
থানা হাজতে আটক উখিয়ার পশ্চিম পালংখালীর মাওলানা নাজির হোছেনের ছেলে এনামুল হক ও একই ইউনিয়নের ফারিরবিল গ্রামের হোছাইন আলীর ছেলে নুরুল আলম জনান, আমরা উক্ত এনজিওতে চাকুরীরত কর্মচারী। নিয়ম অনুযায়ী কতর্ৃপক্ষের নির্দেশে জামানতের টাকা আদায় করেছি। এনজিও সম্পর্কে জানতে চাইলে সঠিক কোন তথ্য দিতে পারেনি।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ভূয়াঁ এনজিও হিসেবে এবং প্রতারণা পূর্বক যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। ফলে ২ প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

Post a Comment

0 Comments