Advertisement

বাঘ মারলে ১০ বছর মানুষ মারলে ৩

ডেস্ক রিপোর্ট
কোনওভাবেই কমছে না সড়ক দুর্ঘটনার প্রবণতা। বাসচালকদের বেপরোয়া চালনা বন্ধ হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বেপরোয়া চালনা এবং চালকদের অসচেতনতার কারণেই প্রতিনিয়ত হতাহতের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু আইনি দুর্বলতার সুযোগে পার পেয়ে যাচ্ছেন চালকরা।
সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে গাড়ি চালকদের অদক্ষতা ও অসাবধানতা, সচেতনতা ও সড়ক

নিরাপত্তার অভাব, রাব্লার নির্মাণত্রুটি, ভাঙা রাব্লা, যানজট, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ও মোটরযানের ত্রুটিকে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল সকালে রাজধানীর কাকরাইলে বাসের ধাক্কায় নিহত হন সাংবাদিক দীনেশ দাস। প্রায় একইসময়ে গাজীপুরে রাব্লা পার হতে গিয়ে মারা যান তিনজন পথচারী। আহত হন আরও চারজন। গত ২৮ ডিসেম্বর সাংবাদিক নিখিল ভদ্র পা হারান বাস চাপায়।
সদস্য সংসদ সদস্য তারানা হালিম বলেন, ৯৫ শতাংশেরও বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে শুধু চালকদের খামখেয়ালির কারণে। একটি বাঘ মেরে ফেললে ১০ বছরের বেশি কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও গাড়ি চালানোর সময় মানুষ মেরে ফেলার জন্য শাবি্লর মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর বলে তিনি জানান। তারানা হালিম বলেন, অপরাধীদের কেউ এ শাবি্ল পায়নি।
সূত্র জানায়, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়লেও সড়ক নিরাপত্তায় গঠিত সরকারের রোড সেফটি সেলের কার্যত কোনও ভূমিকা নেই। অদক্ষ চালকদের পরীক্ষা ছাড়াই দেওয়া হচ্ছে বাস-ট্রাকের মতো ভারিযান চালনার লাইসেন্স। আরও ২৭ হাজার ভুয়া লাইসেন্সকে বৈধ করতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিআরটিএকে চাপ দিচ্ছেন পরিবহন নেতারা। বুয়েটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা পুলিশ নথিভুক্ত করে না।
বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিচার্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. হাসিব মো. আহসান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত হয়েছে আগেই। বেপরোয়া চালকদের প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে দুর্ঘটনা কমবে না। চালকদের প্রশিক্ষণসহ সচেতনতা বৃদ্ধির আগে জরুরি এনফোর্স করা। এটি করছে না কেউ।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, অদক্ষ চালক, গাড়ি চালনায় প্রতিযোগিতা, যানবাহনের ফিটনেস না থাকা হচ্ছে দুর্ঘটনার উপসর্গ। নিরাপদ সড়ক চাই-এর (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, মন্ত্রীসহ প্রভাবশালীদের চাপের মুখে এ পর্যব্ল ১ লাখ চালককে পরীক্ষা ছাড়াই ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়েছে বিআরটিএ। আরও ২৪ হাজার ৩০০ জনকে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার কথা পত্রিকায় লেখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় আগে আইন ছিল জামিনঅযোগ্য ১০ বছর কারাদণ্ড। এরশাদ সরকারের আমলে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা আন্দোলন করলে সাজা তিন বছর এবং জামিনযোগ্য করে আইনের সংশোধন করা হয়। ফলে চালকরা আরও বেপরোয়া হয়েছে। এছাড়া ট্রিপভিত্তিক কাজ করার ফলে প্রতিযোগিতায় গাড়ি চালান চালকরা। এজন্য দৈনিক নয়, মাসিক ভিত্তিতে এবং দক্ষ-শিক্ষিত চালক নিয়োগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের প্রাণহানিসহ দ্বিগুণ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে। দুর্ঘটনাস্থলসহ দুর্ঘটনার দুঘণ্টার মধ্যে ৩৫ শতাংশের মৃতু্য ঘটে। ছাত্র শিক্ষক পেশাজীবি জনতার অন্যতম সংগঠক রোকেয়া প্রাচী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলেও তার বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় মামলা নিতে আপত্তি জানান সরকারের বর্তমান নৌমন্ত্রী। তারই সুপারিশে ২৪ হাজার লাইসেন্স দেওয়ার প্রব্লাব পাঠানো হয়। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনারোধে গত বছর ২৪টি কারণ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর কোনও অগ্রগতি নেই।
বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান খান জানান, পরীক্ষা ছাড়া কোনও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনারোধে চালকদের প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি চলছে। জানা গেছে, প্রশিক্ষণ ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে মেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স। বিআরটিএ-এর পরিচালক (ইঞ্জি.) সাইফুল হক জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইন্সট্রাকটরদের লাইসেন্স সংগ্রহের বিধি কেউ মানছে না।
সংস্থার চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান খান জানান, বিআরটিএ-এর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নেই। বিভাগীয় পর্যায়ে ৬টি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে বিআরটিসির প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থাকলেও প্রচারের অভাবে তেমন সাড়া নেই। ফলে ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি কার, জিপ, মাইক্রোবাস চালকরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নেন। বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত যানবাহনের চালকদের কেউ প্রশিক্ষিত নন। হেলপার বা কন্ডাক্টরের দায়িত্ব পালন করতে করতেই চালানো শেখে। এভাবেই হয়ে ওঠে চালক। ফলে অদক্ষ চালকদের কারণে সড়ক দুর্ঘটন বাড়ছে। ভুয়া লাইসেন্সধারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। এমনকী, ভুয়া লাইসেন্স ট্রাফিক পুলিশ চেনে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। গতকালের কাকরাইলের দুর্ঘটনায় আটক বাসচালক বাদশাহর ড্রাইভিং লাইসেন্স জব্দ করলেও তার লাইসেন্সটি ঠিক কি না জানাতে পারেননি রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। ফংধ

Post a Comment

0 Comments