Advertisement

হ্নীলা জামেয়ায় ছাত্র অভূ্যত্থান নস্যাৎ করতে কোটি টাকার মিশন!

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ।
টেকনাফের হ্নীলা আল-জামেয়া দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসায় স্মরণকালের ছাত্র অভূ্যত্থানে সৃষ্ট জটিলতা এখনো কাটেনি। ছাত্রদের টানা ৩দিনের আন্দোলনের মুখে শূরা কমিটি ৭ দিনের মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করে অভিযুক্ত মাওলানা আফসারকে তদন্তকালীন সময়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলে তারা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে। শূরা কমিটির বেধে দেয়া ৭ দিনের মধ্যে ৩ দিন অতিবাহিত

হলেও এখনো পর্যন্ত তদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম চোখে পড়েনি। উল্টো বিভ্রান্তিমূলক স্ববিরোধী বক্তব্যে তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে অনিয়ম-দূনর্ীতি, স্বেচ্ছাচারীতা-আত্মসাত, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ অসংখ্য অভিযোগে উপ-পরিচালক মাওলানা আফসারের বিরুদ্ধে হ্নীলা আল-জামেয়া দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসায় স্মরণকালের ছাত্র অভূ্যত্থান হলে অভিযুক্ত মাওলানা আফসার স্বপদে বহাল থাকতে এলাকায় ভাড়াটিয়া বখাটেদের নিয়ে রাতদিন পাহারায় কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়া এলাকার একটি কূ-চক্রী মহল টাকার পিছু হয়ে সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, হ্নীলা আল-জামেয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম শাহ আবুল মঞ্জুর (র:) ১৯৯৭ সালে ইন্তিকাল করলে শাহ সূফী মাওলানা আখতার কমালকে মুহতামিম ও তাঁর ভাতুষ্পুত্র মাওলানা আফসার উদ্দিন চৌধুরীকে নায়েবে মুহতামিম হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। নবনিযুক্ত মুহতামিম বয়োজৈষ্ট্য ও দুনিয়া বিমুখ হওয়ায় অপেক্ষাকৃত যোগ্যতা সম্পন্ন হিসেবে আফসার উদ্দিন তাঁর সহযোগী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে দীর্ঘ ১২ বছর পর্যন্ত সুনামের পরিবর্তে দূনর্াম কুড়িয়েছে বেশী। একদিকে প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিমের ভাতুষ্পুত্র অপরদিকে কিংবদন্তীর বর্ষিয়ান রাজনীতিক মরহুম আবদুল গফুর চৌধুরীর পুত্র হওয়ায় নিজের একক আধিপত্য বিস্তার করতে তিনি ক্রমেই স্বেচ্ছারী হয়ে উঠেন। নিজের অযোগ্যতা ঢাকাতে প্রতিনিয়ত শিক্ষক-শিক্ষাথর্ীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করে এক পর্যায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন। এভাবে তিনি অনিয়ম-দূনর্ীতি, স্বেচ্ছাচারীতা-আত্মসাত, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্ত হন। নিজের আখের গোছাতে তিনি মাদ্রাসার বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতে নেমে পড়েন। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি তাঁর সব কিছু জানা সত্ত্বেও দু'বিখ্যাত ব্যক্তিদ্বয়ের পুত্র/ভাতুষ্পুত্র হওয়ায় কেউ কিছু করতে সাহস পায়নি। সবশেষে তাঁর একচ্ছত্র অধিপাত্যে ত্যাক্ত-বিরক্ত হয়ে ছাত্ররা প্রতিবাদী হয়ে উঠে। কিন্তু তিনি নিজে সংশোধন হওয়ার পরিবর্তে প্রতিবাদী ছাত্রদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নিতেন। এক পর্যায়ে শিক্ষাথর্ীদের সহ্যের সীমা অতিক্রম করায় গত ১০ জানুয়ারী শিক্ষাথর্ীরা অভূ্যত্থান করে বসে। শ্বাসরুদ্ধকর অভূ্যত্থান থামাতে ৩ দিনের মাথায় শূরা কমিটির বৈঠক বসে। বৈঠকে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ১১ দফা অভিযোগ বিশ্লেষণ করে মাওলানা আফসারকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এভাবে আপাতত: মাদ্রাসার পরিস্থিতি শান্ত হয়ে উঠে। আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষাথর্ীরা চলে যায় নিজেদের গন্তব্যে। এরপর তদন্ত রিপোর্ট ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য মাওলানা আফসার কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবী করছে, মাওলানা আফসার ওই মিশন বাস্তবায়ন করতে মাদ্রাসার পাশর্্ববতর্ী কিছু প্রভাশালী মহলকে অর্থের বিনিময়ে হাত করে বখাটে তরুণদের আন্দেলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। ওইসব বখাটেদের সাথে মাওলানা আফসার দিনরাত মাদ্রাসায় অবস্থান করছে। এদিকে আন্দোলনকারী ছাত্ররা অভিযোগ করে জানায়, তদন্ত কমিটি ও শূরা কমিটির কতিপয় সদস্য এখন প্রকাশ্যে মাওলানা আফসারের পক্ষে গিয়ে অবস্থান নিচ্ছে। এ বিষয়ে গতকাল ১৫ জানুয়ারী বিকাল সাড়ে ৫ টায় শূরা কমিটির সেক্রেটারী মাওলানা আবদুল হালিম বোখারীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আন্দোলনকারী ছাত্রদের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন। প্রতিবেদন পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মাওলানা আফসারকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শূরা কমিটি বা তদন্ত কমিটির কেউ অভিযুক্তের পক্ষাবলম্বন করলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। শূরা কমিটি কর্তৃক গঠিত ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য এইচকে আনোয়ারের সাথে গতকাল মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাদ্রাসা বন্ধের সময় অভিযুক্ত মাওলানা আফসার উদ্দিন বখাটেদের নিয়ে অবস্থানের কথা লোকেমুখে শুনেছি। এছাড়া একইভাবে শূরা বা তদন্ত কমিটির কতিপয় সদস্যও প্রকাশ্যে অভিযুক্তের পক্ষালম্বনের কথাও শুনেছি। শূরা কমিটির পরবতর্ী বৈঠকে এ ব্যাপারে আলোচনা উত্থাপন করবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত আমরা তদন্তের কাজ শুরু করিনি। আগামী মঙ্গলবার থেকে তদন্ত শুরু করা হবে। এ ব্যাপারে মাওলানা আফসার উদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তাঁর ০১৮১৭-১১৪৮৯৮ নাম্বারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে রিং সত্ত্বেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Post a Comment

0 Comments