Advertisement

উখিয়ায় ২০ হাজার হেক্টর বনভূমি সন্ত্রাসীদের দখলে

শফিউল আলম নুরী
কক্সবাজারের বৃহত্তম অভয়ারন্য উখিয়া ও ইনানীর বন রেঞ্জ আওতাধীন ৪৪ হাজার হেক্টর বনভূমির অর্ধেক জবর দখল হয়ে গেছে। এ অঞ্চলের এক শ্রেণীর ক্ষমতাধর বনখেকো সন্ত্রাসীর ছত্রছায়ায় এক দল র্দূবৃত্ত সরকারী বনভুমির দখল বিক্রি করে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে নিশ্চিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে উখিয়ার বনজ সম্পদ। বন বিভাগ কর্মচারী স্বল্পতার অজুহাতে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে অচিরেই উখিয়ার বনভূমি বিরান ভূমিতে পরিনত হয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছেন পরিবেশবাদী সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট বন রেঞ্জ সূত্র ও এলাকা পরির্দশন করে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার বৃহত্তম বনাঞ্চল উখিয়া

রেঞ্জের মোছার খোলা, থাইংখালী, বালুখালী, উখিয়া সদর, উয়ালা পালং, ভালুকিয়া, রাজাপালং ও জালিয়া পালং বনবিট সহ ৮ টি বন বিটের আওতায় প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর বন ভূমি রয়েছে। একই ভাবে ইনানী রেঞ্জের ৪ টি বন বিটের আওতায় ২১ হাজার হেক্টরসহ ২ রেঞ্জের ৪৪ হাজার হেক্টর বনভূমি খাতা কলমে বিদ্যমান থাকলেও বাস্তবে তা নাই। প্রত্যক্ষদশর্ীর দেওয়া তথ্যমতে ১৯৮৭ সালে সরকার লট নিলাম বা বনাঞ্চলের কাঠ বিক্রি প্রথা বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে বন সম্পদ লুটপাট ও বনভূমি দখলের সূত্রপাত হয়। বনদসু্যরা উখিয়ার সর্বত্র কাঠ পাচারের পাশাপাশি উখিয়া সদর বন বিটের পিএফ পাড়ার বৌদ্ধ ক্যং ভিটার গাছ গুলোও রাতের অন্ধকারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ক্যাংয়ের পুরোহিত তেজপ্রিয় ভান্তে বলেন, রাতে গাছ কাটতে বাধাঁ দেওয়ার চেষ্টা করলে মুখ বাধা সন্ত্রাসীরা গাছের মত করে তাকেও কেটে ফেলার হুমকি দেয় বলে জানান। ১৯৯১ সালে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীর দাপঠ ও প্রভাব বিস্তার করে প্রকাশ্য দিবা লোকে বন সম্পদ লুটপাঠ করে সাগর ও সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে। উক্ত সময় থেকে এপর্যন্ত বিভিন্ন দলীয় সরকারের ছেলা ছামুন্ডোরা উখিয়া ও ইনানীর বন সম্পদ লুটপাঠ ও বনভূমি দখল অব্যাহত রাখার ফলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বনভূমি বেদখল হয়ে গেছে। এসব বনভূমিতে হাজার হাজার অবৈধ বসতবাড়ী গড়ে উঠেছে। উখিয়ার বন বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে ২৪ হাজার হেক্টর বনভূমির মধ্যে ৭ হাজার হেক্টর বনভূমিতে প্রায় ৫ হাজার বসতবাড়ী গড়ে উঠেছে। অপরদিকে ইনানী রেঞ্জে ১৯ হাজার হেক্টর বনভূমির মধ্যে ৫ হাজার হেক্টর বনভূমিতে ৪ হাজার অবৈধ বসতবাড়ী গড়ে উঠেছে। জানা গেছে, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব বনভূমি দখল করে একর প্রতি ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দখল হস্তান্তর করছে। এভাবে ছোট ইনানী, বড় ইনানী ও দোছড়ী এলাকা হাজার হাজার একর বনভূমি বেচা কেনা চলছে। দোছড়ী বিট কর্মকর্তা বলেন, এসব অবৈধ কর্মকান্ডে বাধাঁ দিতে গেলে জীবন বাচানো দায় হয়ে পড়বে। তিনি বলেন যেখানে একটি বন বিটে ৭/৮ জন কর্মচারী থাকার কথা সেখানে একজন বনপ্রহরি দিয়ে চলছে বনরক্ষা কর্াযক্রম। উখিয়ার সহকারী বন সংরক্ষক বলেন, এ রেঞ্জের ২৪ হাজার হেক্টর বনভূমি পাহারায় আছে মাত্র ১১ জন কর্মকর্তা কর্মচারী। সামান্য লোকবল দিয়ে বিশাল বন সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয় বিধায় যত দ্রুত সম্ভব উখিয়ার বনভূমি অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে সুফল ভোগীদের মধ্যে বনভূমি বন্টন করে দিয়ে বন বাগান রক্ষনাবেক্ষন ও উন্নয়নের দায়িত্ব ন্যাস্ত করাই তিনি সমুচিত মনে করছেন। দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার সমূদ্র সৈকতের পাশ ঘেসে বেড়ে উঠা ইনানী রেঞ্জের আওতায় প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর বনভূমি বর্তমানে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, গত ২/৩ বছর ধরে উপকূলে জমি জমার দাম কানি প্রতি লাখ থেকে বেড়ে কোটিতে উন্নর্ীত হওয়ায় স্থানীয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো তাদের সহায় সম্পত্তি চড়া দামে বিক্রি করে দিচ্ছে। এসব পরিবার গুলো পাশর্্ববতর্ী ইনানীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হানা দিয়ে হাজার হাজার একর বনভূমি দখল করে বাড়ীঘর তৈরী করছে। এলাকাবাসী জানান বর্তমানে ইনানী বনাঞ্চলের বনভূমি বেচাকেনার হিড়িক পড়েছে। ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, ইনানীর ১০ হাজার হেক্টর বনভূমিতে জাতীয় উদ্যান করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াতে বন সম্পদ লুটপাঠ কমেছে। তবে এখানে দখল বিক্রি ও অবৈধ বসতবাড়ী তৈরীর কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বন রক্ষা কমিঠির সহায়তা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments