কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া
মহাজোট সরকারের ৩ বছরের শাসনামলে উখিয়া উপজেলার প্রায় ৩৩ হাজার একর সরকারী বনাঞ্চল ও সামাজিক বনায়নের বৃক্ষ লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সংঘবদ্ধ কাঠচোরদের হাতে মুষ্টিমেয় বনকমর্ী একপ্রকার জিম্মি হয়ে
চাকুরী বাচাতে অসহায় নির্বোধ বালকের মত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাত দিন অবৈধ উপায়ে বৃক্ষ নিধনের ফলে একদিকে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্য দিকে এককালের সবুজ সম্পদে ভরপুর এ উপজেলার বনভূমিতে সংরক্ষিত বন্য পশু প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে বিরান ভূমিতে পরিণত হচ্ছে।
সূত্র মতে, দেশের সর্ববৃহত্তম বনাঞ্চল কক্সবাজারের দক্ষিণে উখিয়া উপজেলার ২ টি বন রেঞ্জের ১২ টি বন বিটের আওতায় প্রায় ৩৪ হাজার একর বন ভূমিতে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সৃজন করা সামাজিক বনায়ন সহ ঐতিহ্যবাহী সেগুন, গামারী, জাম, একাশি গাছের বন বাগান ছিল। বিগত সরকারের আমলে এসব বন বাগানের গাছ চুরির ঘটনা ঘটলেও তা ছিল অত্যন্ত সহনীয় পযর্ায়ে। মহাজোট সরকার ক্ষতায় আসার পর বিশেষ করে উখিয়া সদর এলাকার অর্ধশাতিক অসাধু ব্যক্তি গাছ লুটপাটের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সরকারী বনাঞ্চলের উপর অবাধে লুটপাট চালিয়ে বৃক্ষ নিধনযজ্ঞ চালায়। রাতে ও দিনে বৃক্ষ নিধন পূর্বক পাচার করার সময় কাঠ চোরদের বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা বন কমর্ীদের উপর হামলা চালিয়ে নৃশংস ভাবে মারধর করায় বনকমর্ীরা এক প্রকার কাঠচোরদের নিকট জিম্মি হয়ে অসহায় নিবের্াধ বালকের মত দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। থাইংখালী বিট কর্মকতর্া শাহ জাহান বলেন, বালুখালীর জুমের ছড়া এলাকায় একদল সন্ত্রাসী নির্বিচারে সামাজিক বনায়নের বৃক্ষ নিধন করছিল। এ সময় সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের সভাপতি ছাবের আহমদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ামাত্র ৩০/৩৫ জন কাঠচোর সন্ত্রাসী তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে ৫ জন বনকমর্ীকে গুরুতর আহত করে। দোছড়ি বিট কর্মকতর্া মোশারফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বন বিটের আওতায় সংরক্ষিত একাশি বাগান লুটপাটের পর সমপ্রতি গভীর রাতে ৫০/৬০ জন বনদসু্য বিট অফিসে হামলা চালিয়ে জব্দকৃত প্রায় ১০০ ঘনফুট গাছ লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় বিট কর্মকতর্া সহ ২ জন আহত হয়। ইনানী রেঞ্জের মনখালী বিট কর্মকতর্া শাহ জালাল বলেন, চোরাই একাশি ও ঝাউগাছ পাচারের সময় গাড়ী ভর্তি গাছ আটকের ঘটনায় ক্ষুব্দ সন্ত্রাসীরা দিন দুপুরে বিট অফিসে হামলা চালিয়ে জব্দকৃত গাছ লুটপাট করে নিয়ে যায়। এসময় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি আঘাতে ভিলেজার, হেডম্যান, বন প্রহরী সহ ১২ জন আহত হয়। ইনানীর বন রক্ষা সহায়ক কমিটির মনখালী শাখার সভাপতি নুরুল আবছার বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তনে বাধা দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।
জানা গেছে, সরকারী বনাঞ্চলে মূল্যবান চোরাই কাঠ সাইজ করে পাচারের জন্য সংঘবদ্ধ কাঠচোরদের নিয়ন্ত্রণে এখানে প্রায় ১৯ টি অবৈধ স'মিল দিন রাত চোরাই কাঠ সাইজ করে আসছে। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ইট ভাটা গুলোতে জ্বালানী হিসাবে পোড়ানো হচ্ছে সামাজিক বনায়নের একাশি গাছ। সামাজিক বনায়নের সুফলভোগী সালাহ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা তার সামাজিক বনায়নের প্রায় ৫ হাজার একাশি চারা গাছ কর্তন করে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে কাউকে দায়ী করলে উল্টো সন্ত্রাসীরা হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে। এদিকে উপজেলা মাসিক আইন শৃংখলা কমিটির সভায় রেঞ্জ কর্মকতর্া বশিরুল আল মামুনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সামাজিক বনায়নের গাছ রক্ষা করার ব্যাপারে স্থানীয়দের আন্তরিক হওয়ার পরাশর্ম দেন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ উপজেলা বিভিন্ন স্থানে চলমান অবৈধ স'মিল গুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়ে নির্বাহী কর্মকতর্া মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স'মিল মালিকদের তার অফিসে তলব করলেও তারা উপস্থিত হননি। পরে পুলিশ বিজিবির সমন্বিত অভিযান চলাকালীন সময়ে উক্ত সিন্ডিকেট স'মিল গুলো সরিয়ে ফেলে। এ সময় অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ বিজিবির সদস্যরা স'মিলের অবকাঠামো ভাংচুর করেন। বন রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, সে যেই হোক গাছ চোরদের ধরে আইনের হাতে সোর্পদ করতে হবে। তা না হলে গাছ সম্পদ রক্ষা করা যাবে না। সহকারী বন সংরক্ষক বশিরুল আল মামুন বলেন, মাত্র ২৩ জন বনকমর্ী দিয়ে ৩৪ হাজার একর বন সম্পদ ও সামাজিক বনায়ন প্রকল্প রক্ষা করা মোঠেই সম্ভব নয়। তিনি এ ব্যাপারে স্থানীয়দের আন্তরিক হয়ে সহযোগীতা কামনা করেন।
মহাজোট সরকারের ৩ বছরের শাসনামলে উখিয়া উপজেলার প্রায় ৩৩ হাজার একর সরকারী বনাঞ্চল ও সামাজিক বনায়নের বৃক্ষ লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সংঘবদ্ধ কাঠচোরদের হাতে মুষ্টিমেয় বনকমর্ী একপ্রকার জিম্মি হয়ে
চাকুরী বাচাতে অসহায় নির্বোধ বালকের মত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাত দিন অবৈধ উপায়ে বৃক্ষ নিধনের ফলে একদিকে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্য দিকে এককালের সবুজ সম্পদে ভরপুর এ উপজেলার বনভূমিতে সংরক্ষিত বন্য পশু প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে বিরান ভূমিতে পরিণত হচ্ছে।
সূত্র মতে, দেশের সর্ববৃহত্তম বনাঞ্চল কক্সবাজারের দক্ষিণে উখিয়া উপজেলার ২ টি বন রেঞ্জের ১২ টি বন বিটের আওতায় প্রায় ৩৪ হাজার একর বন ভূমিতে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সৃজন করা সামাজিক বনায়ন সহ ঐতিহ্যবাহী সেগুন, গামারী, জাম, একাশি গাছের বন বাগান ছিল। বিগত সরকারের আমলে এসব বন বাগানের গাছ চুরির ঘটনা ঘটলেও তা ছিল অত্যন্ত সহনীয় পযর্ায়ে। মহাজোট সরকার ক্ষতায় আসার পর বিশেষ করে উখিয়া সদর এলাকার অর্ধশাতিক অসাধু ব্যক্তি গাছ লুটপাটের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সরকারী বনাঞ্চলের উপর অবাধে লুটপাট চালিয়ে বৃক্ষ নিধনযজ্ঞ চালায়। রাতে ও দিনে বৃক্ষ নিধন পূর্বক পাচার করার সময় কাঠ চোরদের বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা বন কমর্ীদের উপর হামলা চালিয়ে নৃশংস ভাবে মারধর করায় বনকমর্ীরা এক প্রকার কাঠচোরদের নিকট জিম্মি হয়ে অসহায় নিবের্াধ বালকের মত দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। থাইংখালী বিট কর্মকতর্া শাহ জাহান বলেন, বালুখালীর জুমের ছড়া এলাকায় একদল সন্ত্রাসী নির্বিচারে সামাজিক বনায়নের বৃক্ষ নিধন করছিল। এ সময় সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের সভাপতি ছাবের আহমদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ামাত্র ৩০/৩৫ জন কাঠচোর সন্ত্রাসী তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে ৫ জন বনকমর্ীকে গুরুতর আহত করে। দোছড়ি বিট কর্মকতর্া মোশারফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বন বিটের আওতায় সংরক্ষিত একাশি বাগান লুটপাটের পর সমপ্রতি গভীর রাতে ৫০/৬০ জন বনদসু্য বিট অফিসে হামলা চালিয়ে জব্দকৃত প্রায় ১০০ ঘনফুট গাছ লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় বিট কর্মকতর্া সহ ২ জন আহত হয়। ইনানী রেঞ্জের মনখালী বিট কর্মকতর্া শাহ জালাল বলেন, চোরাই একাশি ও ঝাউগাছ পাচারের সময় গাড়ী ভর্তি গাছ আটকের ঘটনায় ক্ষুব্দ সন্ত্রাসীরা দিন দুপুরে বিট অফিসে হামলা চালিয়ে জব্দকৃত গাছ লুটপাট করে নিয়ে যায়। এসময় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি আঘাতে ভিলেজার, হেডম্যান, বন প্রহরী সহ ১২ জন আহত হয়। ইনানীর বন রক্ষা সহায়ক কমিটির মনখালী শাখার সভাপতি নুরুল আবছার বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তনে বাধা দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।
জানা গেছে, সরকারী বনাঞ্চলে মূল্যবান চোরাই কাঠ সাইজ করে পাচারের জন্য সংঘবদ্ধ কাঠচোরদের নিয়ন্ত্রণে এখানে প্রায় ১৯ টি অবৈধ স'মিল দিন রাত চোরাই কাঠ সাইজ করে আসছে। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ইট ভাটা গুলোতে জ্বালানী হিসাবে পোড়ানো হচ্ছে সামাজিক বনায়নের একাশি গাছ। সামাজিক বনায়নের সুফলভোগী সালাহ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা তার সামাজিক বনায়নের প্রায় ৫ হাজার একাশি চারা গাছ কর্তন করে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে কাউকে দায়ী করলে উল্টো সন্ত্রাসীরা হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে। এদিকে উপজেলা মাসিক আইন শৃংখলা কমিটির সভায় রেঞ্জ কর্মকতর্া বশিরুল আল মামুনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সামাজিক বনায়নের গাছ রক্ষা করার ব্যাপারে স্থানীয়দের আন্তরিক হওয়ার পরাশর্ম দেন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ উপজেলা বিভিন্ন স্থানে চলমান অবৈধ স'মিল গুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়ে নির্বাহী কর্মকতর্া মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স'মিল মালিকদের তার অফিসে তলব করলেও তারা উপস্থিত হননি। পরে পুলিশ বিজিবির সমন্বিত অভিযান চলাকালীন সময়ে উক্ত সিন্ডিকেট স'মিল গুলো সরিয়ে ফেলে। এ সময় অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ বিজিবির সদস্যরা স'মিলের অবকাঠামো ভাংচুর করেন। বন রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, সে যেই হোক গাছ চোরদের ধরে আইনের হাতে সোর্পদ করতে হবে। তা না হলে গাছ সম্পদ রক্ষা করা যাবে না। সহকারী বন সংরক্ষক বশিরুল আল মামুন বলেন, মাত্র ২৩ জন বনকমর্ী দিয়ে ৩৪ হাজার একর বন সম্পদ ও সামাজিক বনায়ন প্রকল্প রক্ষা করা মোঠেই সম্ভব নয়। তিনি এ ব্যাপারে স্থানীয়দের আন্তরিক হয়ে সহযোগীতা কামনা করেন।


0 Comments