Advertisement

আজ প্রফেসর মুশতাক আহমদের ৭২ তম জন্মদিন শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার জেলার বর্ষিয়ান পুরুষ জ্ঞানের তাপস, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জেলার অন্যতম মহাব্যক্তি সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোসত্দাক আহমদ এর ৭২ তম জন্মদিন আজ। তাঁর জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৃষ্টিকর্তার কাছে দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন কক্সবাজারবাণী সম্পাদক ও প্রকাশক ফরিদুল

মোসত্দফা খান, প্রধান সম্পাদক আতাহার ইকবাল, নির্বাহি সম্পাদক হুমায়ুন ছিদ্দিকিসহ অনেকেই। জানা গেছে, কীর্তিমান এই পুরম্নষ জন্ম থেকে অদ্যবদি মানব কল্যাণ নিয়োজিত রয়েছেন । তিনি ১৯৪০ সালের ৮ জানুয়ারী রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুলের মন্ডল পাড়ায় জন্ম গ্রহন করেন। সমবায় কর্মকর্তা মরহুম রশিদ আহমদ ও মরহুমা মুনিরা বেগম ছিলেন তার গর্বিত পিতা মাতা। জনাব প্রফেসর মোশতাকের শিক্ষাজীবন গ্রামের মক্তব ও প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু। পরে ১৯৫৫ সালে রামু খিজারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা ১৯৫৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে প্রথম বিভাগ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে আই এ পাশ করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী বিষয়ে দ্বিতীয় বিভাগ সহ বি, এ, অনার্স ও ১৯৬৩ সালে ঐ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে এম, এ, পাশ করেন। ঐ ১৯৬৩ সালেই সাতকানিয়া কলেজে ইংরেজী প্রভাষক হিসেবে যোগদান করার কিছুদিন পর কক্সবাজার কলেজ সহ জেলার সব কটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকাসহ উক্ত কলেজে ইংরেজী প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন।ঐ কলেজে কিছু দিন চাকুরী করার পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে চলে যান । ১৯৬৫ সালে ঢাকা কলেজে ইংরেজী প্রভাষক হিসেবে যোগদান তৎপর চট্টগ্রাম কলেজ, সিলেট সরকারী কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারী কমার্স কলেজে ইংরেজী প্রভাষক এবং ১৯৬৯ সালে পদোন্নতি হয়ে সিলেট সরকারী কলেজে প্রফেসর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ইতোপূর্বে ১৯৬৭ সালে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে পাকিসত্দান বিমান বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। পরে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে পরাজিত হয়ে পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন । ১৯৭৩ সালে রামু-উখিয়া টেকনাফ নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনী প্রার্থী হন। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন গমণ করেন। পরে ১৯৮৯ সালে রামু কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করে দীর্ঘদিন চাকুরী করার পর ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে অবসর গ্রহন করেন। তিনি বর্তমানে মানবসেবায় আত্মনিয়োজিত হন। প্রফেসর মোসত্দাক আহমদ শুধু চাকুরী করেই ক্ষানত্দ হননি। পাশাপাশি লেখালেখির কাজ ও চালিয়ে গেছেন। তিনি কক্সবাজার ইতিহাস গ্রন্থের পূর্ণ লিখন ও ইংরেজী অনুবাদের শিরোনাম - এষরসঢ়ংবং ড়ভ ঈড়ী্থং ইধুধৎ. এটি ১৯৯৫ সালে কক্সবাজার ফাউন্ডেশন প্রকাশ করেন। এছাড়াও কবি আবুল ফারুখ খানের কবিতা গ্রন্থ "আত্মক্ষরণ" জীবনানন্দ দাশের নির্বাচিত কবিতায় ইংরেজী (যথাক্রমে ও ইষববফ ও এষবধসরহমং ভৎড়স ষরনধহধহধহফ উধং) নামে অনুবাদ করেন। যা ১৯৯৮ সালে ঢাকা বই মেলা ও ২০০২ সালে কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীতে প্রকাশ করেন। কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও গবেষক প্রফেসর মোশতাক আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি ১৯৯৮ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক, ২০০১ সালে কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর পুরষ্কার ২০০৩ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কলেজ), ২০০৩ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে জেলার কৃতি কলেজ শিক্ষক, ২০০৭ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান, ২০০৯ সালে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রথম আলো কতর্ৃক পুরস্কৃত হন। এছাড়াও এপেক্স ক্লাব, রোটারী হেমনত্দিকা সাংকৃতিক ক্লাব কতর্ৃক পুরস্কারে ভুষিত হন। তিনি বর্তমানে বেসরকারী সংস্থা "আনন্দ" এর কার্যকরী পরিষদের সদস্য, কোষ্ট এর ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য এবং কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমী ও নুর হালিমা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা। ১৯৯১ইংরেজী হইতে ২০০৬ ইংরেজী পর্যনত্দ রামু খিজারী আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হিসাবে দায়িত্বরত ছিলেন। প্রাবন্ধিক মোসত্দাক আহমদ' ১ পুত্র ও ৫ কন্যার জনক। তিনি বর্তমানে মানবতার কল্যাণ সাধনে নিয়োজিত আছেন। উল্লেখ্য তিনি রামু কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও কক্সবাজার কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রভাষক ছিলেন।

Post a Comment

0 Comments