Advertisement

শয়তানের চেয়ে ভয়ঙ্কর ইসলামপুরের কাদের মাস্টার : বেরিয়ে আসছে অসংখ্যা কুকির্তির তথ্য

কোনদিন ছিলেন না ভাল মানুষ * ছিলেন মামলাবাজ * ভূমিগ্রাসী * চোরাকারবারী ও সন্ত্রাসী গডফাদার 

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদ সম্মেলন ও পত্রিকার বিরম্নদ্ধে বিষোদগার করে নিজেকে অনেকটা রাজা বাদশার মত মহামানব দাবিদার সদর উপজেলার বহুল বিতর্কিত ইউপি চেয়ারম্যান কাদের মাস্টার কোনদিন ভাল মানুষ ছিলেন না। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগেও তিনি ছিলেন এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক। দুর্বলের উপর জুলুম ও মামলাবাজ। পিছিয়ে ছিলেননা চোরাকারবারী, ভূমিদসু্যতা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বা লবণ কেলেঙ্কারী এমনকি মসজিদের জমি দখল থেকেও। এ কারণে সত্য প্রকাশে দুরনত্দ সাহসের দৈনিক কক্সবাজারবাণীতে তার হরেক কুকর্মের তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশের আগে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা ও কক্সবাজারের আরো অনেক দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তার শক্ত হাতের ছোবলে আক্রানত্দ অনেকেই সংশিস্নষ্ট বিভিন্ন মহলে আবেদন নিবেদন করেছেন। সব ভুক্তভোগীই প্রতিকার চেয়েছিলেন মামলাবাজ উক্ত কাদের মাস্টারের খপ্পর থেকে রেহাই পেতে। ভাল মানুষ বেশে শয়তানের

চেয়ে ভয়ংকর উক্ত কাদের মাস্টার সবসময় রেহাই পেয়ে গেছেন কৌশলে। জানা গেছে, তার বিরম্নদ্ধে ২৭ জুন ২০০২ ইং তারিখে দৈনিক কক্সবাজারে ঈদগাঁও মোজাফ্ফর মাতবর ফি ছবিলিলস্নাহ ওয়াক্ফ এস্টেট এর দুর্নীতি চাঞ্চল্যকর কাহিনীসহ বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ পেয়েছিল। সবসময় তিনি নগদ টাকায় সাংবাদিক নামধারি বিকৃত রম্নচির কিছু টাউট বাটপারদের ম্যানেজ ও প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের কুকর্ম বহাল রাখতেন। সদ্য অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে স্থানীয় জনগনের হাতে পায়ে ধরে চেয়ারম্যান নিবাচিত হওয়ার আগে তিনি আরও কয়েকবার প্রতিদ্বন্ধিতা করেছিলেন। এলাকার লোকজন ভালবাসতেন না তাই পরাজিত হতেন সবসময়। তার জন্য গৌরবের বিষয় গত নির্বাচনে জয় লাভের পর তিনি সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া হয়ে পড়েন। শুধু তাই নয়, এলাকার লোকজনের কাছে বিএনপি নেতা খ্যাত কাদের মাস্টার এখন নিজের দল ৰমতায় না থাকায় সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তি বলে জাহির করছেন। কুকর্মের সংবাদ প্রকাশ করায় দৈনিক কক্সবাজারবাণী পত্রিকা বন্ধের খায়েশ দেখছেন। সম্পাদককে প্রাণে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন কয়েকদিন আগে। যে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি সদস্য হয়েছেন মানুষের জানমাল রৰার কথা বলতে, সেখানে তিনি সতীর্থদের ভুল বুঝিয়ে নিজের ৰোভ মিটানোর রাসত্দা খুঁজছেন। শুধু তাই নয়, চোরাচালানের অপরাধে গত ২ ডিসেম্বর ২০০৫ সালে সদর মডেল থানায় বিশেষ ৰমতা আইন (চোরাচালান দমন) ২৫/বি ধারায় আসামি হওয়া উক্ত কাদের মাস্টার কোটিপতি বনতে ইতিপূর্বে সোনালী ব্যাংকের ঋণ খেলাপী এবং ব্যাংকে মিথ্যা ও জাল দলিল দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এছাড়া তার বিরম্নদ্ধে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে গত ২০০৭ সালে ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, তা হুবহু উপস্থাপন করা হল। উলেস্নখ্য, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে নিজেকে ভাল মানুষ জাহির করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন তহবিলের খরচ নিজে করেছেন বলে সংবাদপত্রে তার কৃতিত্ব সংক্রানত্দ কিছু সংবাদ সামপ্রতিক সময়ে প্রকাশ পাওয়ায় বৃহত্তর ঈদগাঁওসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলেছেন, কাদের মাস্টার এত টাকার উন্নয়ন করলেতো এলাকায় লোকজন তাকে ফেরেশতা খ্যাতি দিত। তবে তিনি কেন প্রতিবন্ধির খতিয়ানি জায়গা দখলে রেখেছেন। ইতোপূর্বে বহুবার সংবাদ শিরোনাম হয়ে গণ ধিক্কৃত হয়েছিলেন।
চেয়ারম্যান হওয়ার আগে যে সংবাদ শিরোনাম তিনি হয়েছিলেন, তা হচ্ছে ইসলামপুরের মূর্তিমান আতঙ্ক কাদের মাস্টার। এখানে উলেস্নখ ছিল- কক্সবাজার ইসলামপুরের কাদের মাস্টার এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। বিগত ৫ বছর সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিনের প্রভাব খাটিয়ে নানা সুযোগ সুবিধা নিয়ে কাদের মাস্টার কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার বিরম্নদ্ধে লবণ কেলেংকারী, চোরাকারবারি, ভূমিদসু্যতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এখনও তার অত্যাচারে বহু লোক এলাকা ছাড়া হয়ে রয়েছে। এমন কি ওই এলাকার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলমের পরিবারের সদস্যরাও তা অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
জেলা পুলিশ সুপারকে দেয়া একটি লিখিত অভিযোগে জানা যায়, বিগত ৫ বছর ইসলামপুরের কাদের মাস্টার চোরাই পথে মিয়ানমার থেকে লবণ এনে দেশে বাজার জাত করেছেন। এসময় তার এ কাজে কেউ বাধা দেয়া বা অভিযোগ করারও সাহস করেনি। কাদের মাস্টার বিএনপির দলীয় লোক ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর আপন লোক। এ কারণে চোরাই পথে তার লবণ ব্যবসা একেবারে নির্বিঘ্ন ছিল। এতে কাদের মাস্টার কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। ইসলামপুরে তার মালিকানাধীন এল.কে সল্ট ইন্ডাস্ট্রি নামের একটি লবন মিল রয়েছে। ওই সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের নামে কাদের মাস্টার লবণ গুদামজাত করার জন্য সরকারের কাছ থেকে লবণের পারমিট নেন। ওই পারমিটের আড়ালে রয়েছে নানা কারচুপি। তার মালিকানাধীন এল.কে সল্ট ইন্ডস্ট্রিজের নামে দু-দুইবার সরকারিভাবে পারমিট নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে লবণ আমদানি করেছেন। এমনকি তার বড় ছেলে তারেকের নামেও সৌদিয়া সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের নামের একটি ভুয়া লবণ মিলের বিপরীতে পারমিট নিয়ে বেশ কয়েক বছর অবৈধভাবে অতিরিক্ত লবণ আমদানি করে আসছেন। এলাকাবাসী জানে ইসলামপুরে বর্তমানে সৌদিয়া সল্ট ক্রাসিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামে কোন লবণ মিল নেই। কাদের মাস্টার এভাবে ২০০৩ সাল হতে ২০০৬ সাল পর্যনত্দ জালিয়াতির মাধ্যমে লবণ আমদানির জন্য লাখ লাখ টাকা ঋণও নেন। ২০০৫ সালের ২ ডিসেম্বর মিয়ানমার থেকে চোরা পথে লবণ আনার সময় পুলিশ লবণ ভর্তি বোটসহ আটক করে। এ ব্যাপারে তার বিরম্নদ্ধে মামলাও হয়েছে। তার বিরদ্ধে ওই এলাকার মোজাফ্ফর আহমদ মাতবর ফি ছবিলিলস্নাহ ওয়াক্ফ এটেস্ট দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাদের মাস্টার উক্ত ওয়াক্ফ স্টেটের স্বঘোষিত সহকারি মোতাওয়ালী। দীর্ঘ ৬ বৎসর যাবত ওই ওয়াক্ফ এস্টেটের সম্পত্তি নিজের দখলে রেখে সমপূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন। অথচ ওই ওয়াক্ফ এস্টেটের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলো একেবারে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। অভিযোগে জানা যায় কাদের মাস্টার ওই ওয়াক্ফ এস্টেটের কোন ওয়ারিশ নন। তার এসব কিছুর বিরম্নদ্ধে এলাকায় কেউ টু শব্দ করলে তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে অত্যাচার করা হতো। এই এস্টেটের টাকা আত্মসাত করে বর্তমানে তিনি কক্সবাজার পৌরসভায় তিন তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন তার বিরম্নদ্ধে কক্সবাজারের একটি ব্যাংকে মিথ্যা ও জাল দলিল দিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে। ইসলামপুর এলাকায় তার একটি দুধর্ষ বাহিনী রয়েছে। ওই বাহিনী দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি ও জায়গা জমি জবরদখলসহ নানা অপরাধ চলে। কাদের মাস্টারের লবণ চোরাকারবারে বাধা হয়ে উঠায় তার বাহিনীর প্রধান খোকনের নেতৃত্বে ২০০৫ সালের ৮ ফেব্রম্নয়ারি ইসলামপুর বাজারে প্রকাশ্যে ওই ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলমকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে হত্যার প্রচেষ্টা চালায়। এতে মঞ্জুর চেয়ারম্যান গুরম্নতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ব্যাপারে কক্সবাজার থানায় মামলা হয়েছে। এখনও মঞ্জুর চেয়ারম্যানের আত্মীয় স্বজন কাদের মাস্টারের হুমকি ধমকিতে ভীত সন্ত্রসত্দ হয়ে অনেকে এলাকা ছাড়া হয়েছে বলে জানা যায়। চেয়ারম্যানের ওপর হামলায় ওপর হামলার পরপর কাদের মাস্টারের ভাতিজা সন্ত্রাসী খোকন বিদেশে পালিয়ে যায়। কিন্তু খোকনের অবৈধ অস্ত্র গুলো এখনও ওই বাহিনীর অন্যান্য সন্ত্রাসীদের হাতে থেকে গেছে বলে সুত্র জানায়। এলাকাবাসি লবণ চোরাকারবারি, ভুয়া মিল দেখিয়ে লবণের পারমিট নেয়াসহ নানা অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখার দাবি জানান। এ ব্যাপারে কাদের মাস্টারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরিম্নদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মঞ্জুর চেয়ারম্যানের আত্মীয় স্বজন তার বিরম্নদ্ধে শত্রম্নতা করে মিথ্যা এসব অভিযোগগুলো করাচ্ছে।
এদিকে নিজের বিরম্নদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান কাদের মাস্টার বলেছেন, সবই ষড়যন্ত্র। কোনদিন তার বিরম্নদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। নিজের
মত ভাল মানুষ একটিও খোঁজে পাওয়া যাবেনা। তবুও টুকিটাকি কোন অভিযোগ থাকলে তা কাগজে প্রকাশ না করলে লাভ হবে।

Post a Comment

0 Comments