মোবারক উদ্দিন নয়ন
ককক্সবাজার সদর হাসপাতলে সামপ্রতিক সময়ে দালালের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। গেইটের সামনে কিংবা বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলছে এসব দালালদের রামরাজত্ব। এ ৰেত্রে শুধু বহিরাগত দালালরা নয় রয়েছে খোদ হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারি। এ কাজে পুরম্নষদের পাশাপাশি মহিলাদেরও সরব উপস্থিতি রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।গতকাল হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, চিহ্নিত কিছু দালালদের দৌরাত্ম দিশেহারা জেলার প্রত্যনত্দ অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা। জানা গেছে, এসব দালালরা বিভিন্ন
প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের হয়ে রোগী ভাগিয়ে নেয়ার কাজে জড়িত। এদের সাথে রয়েছে হাসপাতালে কর্মরত কতিপয় বড় ডিগ্রিধারী ডাক্তারদের গভীর সখ্যতা। অপরদিকে এই কাজে বহিরাগত দালাল ছাড়াও হাসপাতালের অসাধু কতিপয় নার্স, ওয়ার্ড বয়, আয়া, দারোয়ান, ক্লিনার ও ডাক্তারদের সহকারিরাও জড়িত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রোগীদের সাথে বহিঃবিভাগ জরম্নরী বিভাগ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে বহিরাগত দালালদের ভিড়। গতকাল সকাল ১১ঘটিকার সময় জরম্নরী বিভাগের সামনে অনাকাঙ্খিত ঘুরা ফেরা করতে দেখা যায় আবদুল হালিম ও ছালামত উলস্নাহ নামের দুই যুবককে। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছ, তারা হাসপাতালের কেউ নন, বহিরাগত। তবে হাসপাতালে যেকোন মুহুর্তে ঢুকতে কিংবা বের হতে অন্যদের কার্ড দেখতে হলেও তাদের অবাধ বিচরনে কোন বাধা নেই। এরা দীর্ঘদিন যাবৎ হাসপাতল এলাকা থেকে রোগী ভাগিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিয়ে যান। বিনিময়ে এরা পেয়ে থাকে রোগী প্রতি উচ্চ মূল্যের কমিশন। প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতালের বহিঃবিভাগ এবং জরম্নরী বিভাগের সামনে একদল বহিরাগত নারী-পুরুষ অপেৰায় থাকেন। কোন রোগী হাসপাতালে এলে নানা ছলনায় আগে টিকেট পাইয়ে দেয়ার কথা বলে তাদের সঙ্গে এসব দালাল মহিলারা খাতির করেন। হাসপাতালে চিকিৎসার মান খারাপের অজুহাতে রোগীদের কম মূল্যে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেয়া এদের কাজ। অপরদিকে ডাক্তারদের পাশাপাশি কর্মরত নার্স ও ওয়ার্ড বয়রা প্যাথলজি পরীৰার জন্য নিজেদের পছন্দনীয় ক্লিনিকের সস্নিপ ধরিয়ে দেন। উখিয়া থেকে আগত এক রোগী জানান, একজন মেডিসিন অভিজ্ঞ ডাক্তার তাকে সিআইসিতে একটি প্যাথলজি পরীৰা করতে বলেন। কিন্তু সিআইসিতে ঐ পরীৰাটির দাম বেশি হওয়ায় তিনি অন্যত্র পরীৰা করান। পরে ডাক্তারকে রিপোর্ট দেখাতে গেলে ঐ ডাক্তার তাকে গালমন্দ করে তাড়িয়ে দেন। অপরদিকে কর্মরত ডাক্তার ও নার্সদের ব্যাপারেও রয়েছে নানা অভিযোগ। অনেক সময় দেখা যায়, রোগীর প্যাথলজি পরীৰার রিপোর্ট আসার আগেই ডাক্তার হাসপাতাল থেকে চলে যান চেম্বারে। পরে ডাক্তারের সহকারি, আয়া, ক্লিনার বা দারোয়ানরা চেম্বারে গিয়ে ভিজিট প্রদান পূর্বক রিপোর্ট দেখানোর পরামর্শ দেন। অন্যদিকে বহিঃবিভাগের সামনে অনুসন্ধান বক্স স্থাপন করা হলেও প্রায় সময় দেখা যায় তথ্য প্রদানকারীর অনুপস্থিতি। তাই এ সকল দালালের রাজত্ব থেকে হয়রানি কমাতে হাসপাতালে প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন ভোক্তভোগী রোগীরা।


0 Comments