আদালত প্রতিবেদক
এক সময়ের আলোচিত প্রতারক-দালাল ও সন্ত্রাসী নাজমুল এখন কক্সবাজার আদালত পাড়ায় প্রকাশ্যে মুন্সী (এড্্্ভোকেট ক্লার্ক) সেজেঁ মামলা-মোকদ্দমার বাদী-বিবাদী সহ তদ্বীরকারী বিশেষ করে মহিলা মক্কেলদের সাথে প্রকাশ্যে প্রতারণাসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ কনষ্টেবলের চাকুরীচূ্যতি, লাম্পট্য, ধর্ষণ, বেহায়াপণা, বহুবিবাহ, নারী নির্যাতন, পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় সহ বিভিন্ন পরিচয়ে ও ফঁন্দি-ফিকিরে নানা রকম প্রতারণা-হত্যা চেষ্টা, পুলিশ কর্মকর্তা সহ সরকারী কর্মকর্তাদের মারধর,
সরকারী কাজে বাধাঁ ও খুন করার হুমকি দেওয়া সহ বিভিন্ন অন্যায়-অপকর্মে আলোচিত এই নাজমুল বহুবার জেল হাজতে গেছে এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। এক ডজনেরও বেশী চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী নাজমুলের অপতৎপরতায় আদালত পাড়ার সুস্থ পরিবেশ কলুষিত সহ অনেক বিজ্ঞ আইনজীবী ও এড্্্ভোকেট ক্লার্কের মানক্ষূণ্ন হচ্ছে। অথচ এই ভয়ংকর, প্রতারক-সন্ত্রাসী নাজমুল আদৌ মুন্সী (এড্্ভোকেট ক্লার্ক) বা থানা-কোর্টের আইন বা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কেউ নয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার দেবীদ্ধার উপজেলার বালী পাড়া গ্রামের হামলা বাড়ীর জনৈক মৃত খান মুহাম্মদের পুত্র নাজমুল (৩৪) এক সময় পুলিশের কনষ্টেবল ছিল। নাজমুলের নানা প্রতারণা, লাম্পট্য, অনৈতিক ও উধর্্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দর্ূব্যবহারের দায়ে চাকুরীচূ্যত হয়। মহিলা পুলিশ সদস্য ১ম স্ত্রীকে ২সন্তান সহ তালাক দিয়ে কক্সবাজারে অবস্থান করে প্রতারণা ও সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তোলে কক্সবাজার মডেল থানার সামনের রাস্তায় ও পেছনের হোটেল তাঁজসেবায় অবস্থান করে থানায় আসা লোকজনের সাথে প্রতারণা সহ দালালী শুরু করে। ইতি মধ্যে অনেকবার এ.এস.পি সহ অনেক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ছিনতাই, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সুষ্পষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করে আদালতে সোর্পদ করেন। ২য় স্ত্রী হিসেবে কক্সবাজারের জনৈক সাংবাদিকের দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়াকে বিয়ে করে যৌতুকের দাবীতে নির্মম ভাবে নির্যাতনের দায়ে ২য় স্ত্রীর দায়েরকৃত নারী নির্যাতন মামলায়ও কয়েক মাস জেল হাজতে থাকে। পরে ঐ ২য় স্ত্রীকেও তালাক দিয়ে গত বছর খানেক ধরে উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং এলাকার জনৈক মৃত আবুল কালামের বিধবা স্ত্রীকে বিয়ে করে কক্সবাজার শহরের চৌধুরী পাড়ায় বসবাস করে আসছে। গত বছরের ২৭ও ২৮ জুলাইয়ে পর পর ২দিনের চাঞ্চল্যকর প্রতারণা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে হামলার ঘটনায় কক্সবাজার জেলা সহ সারা দেশে আলোচিত হয়ে ওঠে এই নাজমুল। গত বছরের ২৭জুলাই টেকনাফের মুচনী শরণাথর্ী ক্যাম্পের জনৈক বৃদ্ধা হালিমা খাতুন (৬০) কে পুলিশের হ্যান্ডকাপ দেখিয়ে ও পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় এবং হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধার কন্যা নাছিমা আক্তার (২৮) বাদী হয়ে কক্সবাজার মডেল থানার মামলা নং-৭৭, তাং-২৭/০৭/১১ (ধারা-১৪৩/১৭০/৩২৩/৩৮৬/৪১৯/১১৪ দ:বি:) যাহার জি.আর-৫৪৮/১১ এবং মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা লাভলু দাশ (কং-৮৩৫) সহ এস.আই. কামরুজ্জামান ও
কয়েকজন কনষ্টেবলকে হামলা, মারধর, হত্যা প্রচেষ্টা ও সরকারী কাজে বাধাঁ দেওয়ার অপরাধে পুলিশ কর্মকর্তা লাভলু দাশ বাদী হয়ে কক্সবাজার মডেল থানার মামলা নং-৭৮, তাং-২৮/০৭/১১ (ধারা-১৮৬/৩৩২/৩৫৩/৩০৭/৫০৬ দ:বি:) যাহার জি.আর-৫৪৯/১১ মামলা দায়ের করেন। এ দু'টি মামলায় প্রতারক নাজমুল দীর্ঘদিন জেল হাজতে ছিল। এছাড়া অনেক বার প্রতারক নাজমুল ধর্ষণ-বেহায়াপনা, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দায়ে বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনীর শিকার ও গ্রেফতার হয়। আলোচিত নাজমুল নিজেকে জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে আহমদ হোছনের জামাই পরিচয় দিয়েও নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। বিশেষ করে আদালত পাড়ায় মহিলাদের উক্ত্যক্ত করা, বেহায়াপনা ও লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং মিথ্যা প্রলোভনে হয়রানি ও প্রতারণা সহ নানা অপর্কম করে যাচ্ছে। শুধু আলোচিত নাজমুল নয় আদালত পাড়ায় মুন্সী না হয়েও মুন্সী (এড্্ভোকেট ক্লার্ক) সেজেঁ অনেক টাউট বাটপার ও মামলার দালাল অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এসব টাউট বাটপার আর দালালদের আবার উপর মহলের ছায়া ও নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী আছে।
আদালত পাড়ায় প্রকাশ্যে মুন্সী সেজেঁ প্রতারক নাজমুলের অপতৎপরতার বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড্্ভোকেট আ.জ.ম.মাঈন উদ্দীন জানান, তিনি প্রতারক নাজমুলের নানা অপকর্মের কথা শুনেছেন। আদালত পাড়ায় মুন্সী (এড্্ভোকেট ক্লার্ক) সেজেঁ নাজমুলের মত অনেক টাউট -বাটপার আর মামলার দালাল নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এসব টাউট-বাটপার আর দালালদের খপ্পরে না পড়ার জন্য প্রত্যেক আদালত গুলোতে এবং জেলা আইনজীবী সমিতি ও জেলা এড্্ভোকেট ক্লার্ক সমিতির নোটিশ বোর্ডে সর্তকবাণী সহ নোটিশ জারী করা হয়েছে। নাজমুলকে এড্্ভোকের্ট ক্লার্ক সমিতির সদস্য করা যাবে কিনা জানতে চাইলে এড্্ভোকেট আ.জ.ম.মাঈন উদ্দীন জানান এরকম চিহ্নিত দালাল- সন্ত্রাসীকে এড্্ভোকেট ক্লার্ক হিসেবে কিছুতেই স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না। তিনি আদালত পাড়ার এসব টাউট-বাটপার আর দালালদের অপতৎপরতা বন্ধে র্যাব-গোয়েন্দা সহ পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই বিষয়ে জেলা এড্্ভোকেট ক্লার্ক সমিতির সভাপতি মনোরঞ্জন শীল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তুহিন, নির্বাহী সদস্য মাহমুদুল হক চৌধুরী ও নাসির উদ্দীন সহ অনেক সিনিয়র এড্্ভোকেট ক্লার্ক আদালত পাড়ায় আলোচিত প্রতারক ও সন্ত্রাসী নাজমুলের অপতৎপরতার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা আদালত এলাকা থেকে নাজমুলসহ অন্যান্য টাউট-বাটপার আর মামলার দালালদের উৎখাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আলোচিত নাজমুলের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে আহমদ হোছনের পুত্র ও কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের এ.পি.পি এড্্ভোকেট সাঈদ হোসাইন জানান প্রতারক নাজমুল একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী, লম্পট ও ধোঁকাবাজ। তার বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশী চাঞ্চল্যকর মামলা আছে। আদালত পাড়ায় তার অপতৎপরতার বিষয়ে আমি জেলা আইনজীবী সমিতি ও এড্্ভোকেট ক্লার্ক সমিতি সহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে কথা বলেছি। তাকে শুধু আদালত পাড়া থেকে নয়, কক্সবাজার জেলা থেকে বিতাড়িত করা জরুরী। আলোচিত নাজমুল মুন্সী (এড্্ভোকেট ক্লার্ক) হওয়ার অযোগ্য এবং তাকে আদালত পাড়ায় স্থান দেওয়া মানে প্রতারক ও সন্ত্রাসীকে মদদ দেওয়ার শামিল। এতসব অভিযোগের বিষয়ে আলোচিত নাজমুলের বক্তব্য জানতে চাইলে, তিনি মুঠোফোনে তার কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে বলেন, অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিক সহ উপর মহলের লোকজন তার বন্ধু আছে। তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না।
শুধু আলোচিত নাজমুল নয়, কক্সবাজার আদালত পাড়ায় প্রায় শতাধিক টাউট-বাটপার আর মামলার দালাল মুন্সী (এড্্ভোকেট ক্লার্ক) না হয়েও মুন্সী সেজেঁ নানা প্রতারণা, হয়রানি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এদের অনেকে আবার লোকজনের সাথে প্রতারণা বা অপকর্ম করে আত্মগোপন করে। জেলা আইনজীবী সমিতির অধীনে পরিচালিত জেলা এড্্ভোকেট ক্লার্ক সমিতির পরিচয় পত্র (কার্ড) ধারী সদস্যরা নির্দিষ্ট এড্্ভোকেট সাহেবের সহকারী হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ আদালত সহ অধীনস্থ আদালত গুলোতে কাজ করে থাকেন। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তাদেরকে মুন্সী বলা হলেও প্রকৃত পক্ষে তারা 'এড্্ভোকেট ক্লার্ক' হিসেবে স্বীকৃত। জেলা এড্্ভোকেট ক্লার্ক সমিতির সদস্যদের দায়িত্ব পালন কালে গলায় পরিচয় পত্র (কার্ড) ঝুলানোর নিয়ম থাকিলেও এড্্ভোকেট ক্লার্করা তাদের গলায় কার্ড না ঝুলানোর কারণে আদালত পাড়ায় আসল বা নকল মুন্সী পরখ করা যায় না। অনেক মুন্সী (এড্্ভোকেট ক্লার্ক) গলায় কার্ড ঝুলানোটাকে ঝড়তা মনে করেন। বিকল্প হিসেবে এড্্ভোকেট ক্লার্কদের গলায় কার্ড ঝুলানোর বদলে পকেট বেইচ দেওয়া হলে ভাল হয় বলে মনে করেন অনেকে। এছাড়া জেলা এড্্ভোকেট ক্লার্ক সমিতি আদালত সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী, জি.আর.ও, কোর্ট পুলিশ ও পিয়ন সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় বৈঠক করিলে এবং প্রত্যেক আদালতের বেঞ্চ ও জি.আর কক্ষে প্রকৃত কার্ডধারী এড্্ভোকেট ক্লার্কদের নাম, কার্ড নং, নমুনা স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বরের তালিকা দিলে আদালতে কোন টাউট-বাটপার বা দালাল অপতৎপরতা চালাতে পারবে না।
এক সময়ের আলোচিত প্রতারক-দালাল ও সন্ত্রাসী নাজমুল এখন কক্সবাজার আদালত পাড়ায় প্রকাশ্যে মুন্সী (এড্্্ভোকেট ক্লার্ক) সেজেঁ মামলা-মোকদ্দমার বাদী-বিবাদী সহ তদ্বীরকারী বিশেষ করে মহিলা মক্কেলদের সাথে প্রকাশ্যে প্রতারণাসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ কনষ্টেবলের চাকুরীচূ্যতি, লাম্পট্য, ধর্ষণ, বেহায়াপণা, বহুবিবাহ, নারী নির্যাতন, পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় সহ বিভিন্ন পরিচয়ে ও ফঁন্দি-ফিকিরে নানা রকম প্রতারণা-হত্যা চেষ্টা, পুলিশ কর্মকর্তা সহ সরকারী কর্মকর্তাদের মারধর,
সরকারী কাজে বাধাঁ ও খুন করার হুমকি দেওয়া সহ বিভিন্ন অন্যায়-অপকর্মে আলোচিত এই নাজমুল বহুবার জেল হাজতে গেছে এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। এক ডজনেরও বেশী চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী নাজমুলের অপতৎপরতায় আদালত পাড়ার সুস্থ পরিবেশ কলুষিত সহ অনেক বিজ্ঞ আইনজীবী ও এড্্্ভোকেট ক্লার্কের মানক্ষূণ্ন হচ্ছে। অথচ এই ভয়ংকর, প্রতারক-সন্ত্রাসী নাজমুল আদৌ মুন্সী (এড্্ভোকেট ক্লার্ক) বা থানা-কোর্টের আইন বা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কেউ নয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার দেবীদ্ধার উপজেলার বালী পাড়া গ্রামের হামলা বাড়ীর জনৈক মৃত খান মুহাম্মদের পুত্র নাজমুল (৩৪) এক সময় পুলিশের কনষ্টেবল ছিল। নাজমুলের নানা প্রতারণা, লাম্পট্য, অনৈতিক ও উধর্্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দর্ূব্যবহারের দায়ে চাকুরীচূ্যত হয়। মহিলা পুলিশ সদস্য ১ম স্ত্রীকে ২সন্তান সহ তালাক দিয়ে কক্সবাজারে অবস্থান করে প্রতারণা ও সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তোলে কক্সবাজার মডেল থানার সামনের রাস্তায় ও পেছনের হোটেল তাঁজসেবায় অবস্থান করে থানায় আসা লোকজনের সাথে প্রতারণা সহ দালালী শুরু করে। ইতি মধ্যে অনেকবার এ.এস.পি সহ অনেক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ছিনতাই, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সুষ্পষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করে আদালতে সোর্পদ করেন। ২য় স্ত্রী হিসেবে কক্সবাজারের জনৈক সাংবাদিকের দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়াকে বিয়ে করে যৌতুকের দাবীতে নির্মম ভাবে নির্যাতনের দায়ে ২য় স্ত্রীর দায়েরকৃত নারী নির্যাতন মামলায়ও কয়েক মাস জেল হাজতে থাকে। পরে ঐ ২য় স্ত্রীকেও তালাক দিয়ে গত বছর খানেক ধরে উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং এলাকার জনৈক মৃত আবুল কালামের বিধবা স্ত্রীকে বিয়ে করে কক্সবাজার শহরের চৌধুরী পাড়ায় বসবাস করে আসছে। গত বছরের ২৭ও ২৮ জুলাইয়ে পর পর ২দিনের চাঞ্চল্যকর প্রতারণা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে হামলার ঘটনায় কক্সবাজার জেলা সহ সারা দেশে আলোচিত হয়ে ওঠে এই নাজমুল। গত বছরের ২৭জুলাই টেকনাফের মুচনী শরণাথর্ী ক্যাম্পের জনৈক বৃদ্ধা হালিমা খাতুন (৬০) কে পুলিশের হ্যান্ডকাপ দেখিয়ে ও পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় এবং হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধার কন্যা নাছিমা আক্তার (২৮) বাদী হয়ে কক্সবাজার মডেল থানার মামলা নং-৭৭, তাং-২৭/০৭/১১ (ধারা-১৪৩/১৭০/৩২৩/৩৮৬/৪১৯/১১৪ দ:বি:) যাহার জি.আর-৫৪৮/১১ এবং মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা লাভলু দাশ (কং-৮৩৫) সহ এস.আই. কামরুজ্জামান ও
কয়েকজন কনষ্টেবলকে হামলা, মারধর, হত্যা প্রচেষ্টা ও সরকারী কাজে বাধাঁ দেওয়ার অপরাধে পুলিশ কর্মকর্তা লাভলু দাশ বাদী হয়ে কক্সবাজার মডেল থানার মামলা নং-৭৮, তাং-২৮/০৭/১১ (ধারা-১৮৬/৩৩২/৩৫৩/৩০৭/৫০৬ দ:বি:) যাহার জি.আর-৫৪৯/১১ মামলা দায়ের করেন। এ দু'টি মামলায় প্রতারক নাজমুল দীর্ঘদিন জেল হাজতে ছিল। এছাড়া অনেক বার প্রতারক নাজমুল ধর্ষণ-বেহায়াপনা, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দায়ে বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনীর শিকার ও গ্রেফতার হয়। আলোচিত নাজমুল নিজেকে জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে আহমদ হোছনের জামাই পরিচয় দিয়েও নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। বিশেষ করে আদালত পাড়ায় মহিলাদের উক্ত্যক্ত করা, বেহায়াপনা ও লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং মিথ্যা প্রলোভনে হয়রানি ও প্রতারণা সহ নানা অপর্কম করে যাচ্ছে। শুধু আলোচিত নাজমুল নয় আদালত পাড়ায় মুন্সী না হয়েও মুন্সী (এড্্ভোকেট ক্লার্ক) সেজেঁ অনেক টাউট বাটপার ও মামলার দালাল অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এসব টাউট বাটপার আর দালালদের আবার উপর মহলের ছায়া ও নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী আছে।
আদালত পাড়ায় প্রকাশ্যে মুন্সী সেজেঁ প্রতারক নাজমুলের অপতৎপরতার বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড্্ভোকেট আ.জ.ম.মাঈন উদ্দীন জানান, তিনি প্রতারক নাজমুলের নানা অপকর্মের কথা শুনেছেন। আদালত পাড়ায় মুন্সী (এড্্ভোকেট ক্লার্ক) সেজেঁ নাজমুলের মত অনেক টাউট -বাটপার আর মামলার দালাল নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এসব টাউট-বাটপার আর দালালদের খপ্পরে না পড়ার জন্য প্রত্যেক আদালত গুলোতে এবং জেলা আইনজীবী সমিতি ও জেলা এড্্ভোকেট ক্লার্ক সমিতির নোটিশ বোর্ডে সর্তকবাণী সহ নোটিশ জারী করা হয়েছে। নাজমুলকে এড্্ভোকের্ট ক্লার্ক সমিতির সদস্য করা যাবে কিনা জানতে চাইলে এড্্ভোকেট আ.জ.ম.মাঈন উদ্দীন জানান এরকম চিহ্নিত দালাল- সন্ত্রাসীকে এড্্ভোকেট ক্লার্ক হিসেবে কিছুতেই স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না। তিনি আদালত পাড়ার এসব টাউট-বাটপার আর দালালদের অপতৎপরতা বন্ধে র্যাব-গোয়েন্দা সহ পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই বিষয়ে জেলা এড্্ভোকেট ক্লার্ক সমিতির সভাপতি মনোরঞ্জন শীল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তুহিন, নির্বাহী সদস্য মাহমুদুল হক চৌধুরী ও নাসির উদ্দীন সহ অনেক সিনিয়র এড্্ভোকেট ক্লার্ক আদালত পাড়ায় আলোচিত প্রতারক ও সন্ত্রাসী নাজমুলের অপতৎপরতার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা আদালত এলাকা থেকে নাজমুলসহ অন্যান্য টাউট-বাটপার আর মামলার দালালদের উৎখাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আলোচিত নাজমুলের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে আহমদ হোছনের পুত্র ও কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের এ.পি.পি এড্্ভোকেট সাঈদ হোসাইন জানান প্রতারক নাজমুল একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী, লম্পট ও ধোঁকাবাজ। তার বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশী চাঞ্চল্যকর মামলা আছে। আদালত পাড়ায় তার অপতৎপরতার বিষয়ে আমি জেলা আইনজীবী সমিতি ও এড্্ভোকেট ক্লার্ক সমিতি সহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে কথা বলেছি। তাকে শুধু আদালত পাড়া থেকে নয়, কক্সবাজার জেলা থেকে বিতাড়িত করা জরুরী। আলোচিত নাজমুল মুন্সী (এড্্ভোকেট ক্লার্ক) হওয়ার অযোগ্য এবং তাকে আদালত পাড়ায় স্থান দেওয়া মানে প্রতারক ও সন্ত্রাসীকে মদদ দেওয়ার শামিল। এতসব অভিযোগের বিষয়ে আলোচিত নাজমুলের বক্তব্য জানতে চাইলে, তিনি মুঠোফোনে তার কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে বলেন, অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিক সহ উপর মহলের লোকজন তার বন্ধু আছে। তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না।
শুধু আলোচিত নাজমুল নয়, কক্সবাজার আদালত পাড়ায় প্রায় শতাধিক টাউট-বাটপার আর মামলার দালাল মুন্সী (এড্্ভোকেট ক্লার্ক) না হয়েও মুন্সী সেজেঁ নানা প্রতারণা, হয়রানি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এদের অনেকে আবার লোকজনের সাথে প্রতারণা বা অপকর্ম করে আত্মগোপন করে। জেলা আইনজীবী সমিতির অধীনে পরিচালিত জেলা এড্্ভোকেট ক্লার্ক সমিতির পরিচয় পত্র (কার্ড) ধারী সদস্যরা নির্দিষ্ট এড্্ভোকেট সাহেবের সহকারী হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ আদালত সহ অধীনস্থ আদালত গুলোতে কাজ করে থাকেন। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তাদেরকে মুন্সী বলা হলেও প্রকৃত পক্ষে তারা 'এড্্ভোকেট ক্লার্ক' হিসেবে স্বীকৃত। জেলা এড্্ভোকেট ক্লার্ক সমিতির সদস্যদের দায়িত্ব পালন কালে গলায় পরিচয় পত্র (কার্ড) ঝুলানোর নিয়ম থাকিলেও এড্্ভোকেট ক্লার্করা তাদের গলায় কার্ড না ঝুলানোর কারণে আদালত পাড়ায় আসল বা নকল মুন্সী পরখ করা যায় না। অনেক মুন্সী (এড্্ভোকেট ক্লার্ক) গলায় কার্ড ঝুলানোটাকে ঝড়তা মনে করেন। বিকল্প হিসেবে এড্্ভোকেট ক্লার্কদের গলায় কার্ড ঝুলানোর বদলে পকেট বেইচ দেওয়া হলে ভাল হয় বলে মনে করেন অনেকে। এছাড়া জেলা এড্্ভোকেট ক্লার্ক সমিতি আদালত সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী, জি.আর.ও, কোর্ট পুলিশ ও পিয়ন সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় বৈঠক করিলে এবং প্রত্যেক আদালতের বেঞ্চ ও জি.আর কক্ষে প্রকৃত কার্ডধারী এড্্ভোকেট ক্লার্কদের নাম, কার্ড নং, নমুনা স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বরের তালিকা দিলে আদালতে কোন টাউট-বাটপার বা দালাল অপতৎপরতা চালাতে পারবে না।


0 Comments