Advertisement

চকরিয়ার কাকারায় ঐতিহাসিক শতবর্ষ ঘোড়দৌঁড় মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন


মিজবাউল হক, চকরিয়া : 
চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক শততম ঘোড়দৌঁড় মেলা গতকাল ১জানুয়ারী বিকাল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। ১০দিন ব্যাপী এ ঘোড়দৌড় মেলা উদ্বোধন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুজিবুল হক রতনের সভাপতিত্বে ও সচিব শওকত ওসমানের পরিচালনা প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন সিআইপি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজ সেবক আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন কন্ট্রাক্টর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, পৌরসভার সাবেক মেয়র জাফর আলম এমএ, উপজেলা আ.লীগের আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, থানার ওসি মোহাম্মদ ফরহাদ, সুরাজপুর-মানিকপুর চেয়ারম্যান আজিমুল হক, মাতামুহুরী আ.লীগের যুগ্ম আহবায়ক মহসিন বাবুল, সরওয়ার আলম, পৌর আ,লীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ছৈয়দ আলম, যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল করিম সাইদী, আবু মুছা, সাংবাদিক জাহেদ চৌধুরী, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, জাফর আলম বলি, নাজেম উদ্দিন, হায়দার আলী, নোবেল। 
জানা যায়, ১৯০৪ সালে কাকারা ইউনিয়নের জমিদার মাওলানা বদিউজ্জামান এ মেলার প্রবর্তন করেছিলেন। সেই থেকে এ মেলাটি প্রতি বছর অনুষ্টিত হয়ে আসছে। এ মেলাটিতে গ্রামীণ জনগোষ্টীর উৎপাদিত পণ্য বিকিকিনি হয়ে থাকে। গ্রামীণ কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত দ্রব্য বছরের শেষে এ মেলায় নিয়ে আসতো। সেই সময় এতদাঞ্চলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সূর্য খোলার আয়োজন করতো। কিন্তু ওই সূর্য খোলা শুধু একটি ধর্মের মানুষই উপভোগ করতো। সমাজ হিতৈষী মৌলভী বদিউজ্জামান ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে গ্রামীণ জনগোষ্টীর চিত্তবিনোদন ও গ্রামীণ পণ্য বিকিকিনির জন্য এ মেলার আয়োজন করেন। মেলায় শুরুর দিকে ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগিতা চলতো। কালের বিবর্তনে এখানে ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগিতা অনুষ্টিত না হলেও এখানে কৃষক, কামার, কুমার, দর্জি, তাঁতীরা তাদের পণ্য নিয়ে আসেন। মিষ্টান্ন, মিষ্টিসহ নানা পন্য বিক্রির জন্যও মেলাটির খ্যাতি আছে। মেলাটি এখনও এই গ্রামীণ জনপদের চিত্তবিনোদনের একমাত্র ক্ষেত্র। এ মেলায় নাগর দোলা, সার্কাস, পতুল নাচ, সিনেমা, মৃত্যুকোপ, সাংস্কৃতিক অনুষ্টান অনুষ্টিত হয়। এ মেলায় যাওয়ার জন্য এতদাঞ্চলের মানুষ সারা বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকে। শিশু কিশোরেরা মেলায় খরচ করার জন্য সারাবছর ধরে অন্যান্য খরচ কমিয়ে টাকা পয়সা জমিয়ে রাখতেন। প্রবাদ আছে ওই এলাকার মেয়ে বিয়ে দেয়ার সময় কাবিন নামায় মেলার সময়ে নাইয়র দেয়ার কথাটিও লিখে নিতেন। বিগত কয়েক বছর তামাক ক্ষেত ঘোড়দৌঁড় মেলার জমিটি গ্রাস করে নেয়ায় এখানে মেলা বসতে পারেনি। এ বছর মেলাটি আবার অনুষ্টিত হওয়ার খবরে এলাকার মানুষের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। মেলা আয়োজক কমিটির সচিব শওকত ওসমান জানান, এবারের মেলায় কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা, আইন শৃঙ্খলাভঙ্গ, অবৈধ কার্যকলাপ বা কোন অপসংস্কৃতি চর্চার সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি জানান হযরত শাহ ওমর(রা:) মাজার সংলগ্ন মাঠে এবারের মেলার শতবর্ষ ফুর্তির অনুষ্টানটি খুবই ঝাকজমক পূর্ণভাবে করা হবে। 

Post a Comment

0 Comments