Advertisement

আলীকদমে তামাকের ভয়াল বিস্তার শুরু ॥ ধান ও রবিশস্যের আবাদ ব্যাহত


আলীকদম :
পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের আলীকদমের ফসলী জমিতে ক্ষতিকর তামাক চাষের ভয়াল বিস্তার শুরু হয়েছে। সরকারী প্রশাসনযন্ত্রের নির্বিকার ভূমিকায় তামাকের বিস্তার যেন অপ্রতিরোধ্য। তামাকের বিস্তার রোধে আদালতের মামলাও হয়েছিল। প্রচ্ছন্নভাবে রয়েছে সামরিক ও বে-সামরিক প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাও। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলোর মদদে চলতি মৌসুমে আবারো শুরু হয়েছে ক্ষতিকর তামাক চাষের আগ্রাসন।
জানা গেছে, তামাক চাষের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন অধিকাংশ কৃষক। ফলে অধিক লাভের আশা ও পূঁজিবাদি তামাক কোম্পানীগুলোর প্ররোচনায় চাষীরা ঝুঁকছেন তামাক চাষে। স্থানীয় কৃষি বৈচিত্রের বদলে জমিগুলিতে গ্রাস করেছে তামাক। কোম্পানীগুলো নগদ ঋণ, উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক, মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে থাকে চাষীদের। উপজেলার কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থাকলেও তা যেন একটি মাথাভারী প্রশাসন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা খাতায় উপস্থিতি দেখানোই মূখ্য। উপজেলার কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে তাদের সামগ্রিক কর্মকা- যেন কাগুজে। বর্তমানে তামাকের আগ্রাসন মাত্রা ছাড়িয়েছে। বাড়ির আঙিনা, স্কুলের মাঠ, সরকারি জমি কিছুই তামাক চাষ থেকে বাদ যায়নি। ভেতরে ভেতরে চলছে সরকারী রিজার্ভ ভূমিতেও তামাকের প্রস্তুতি! 
পাহাড়ি ঝিরি ও ছোট বড় গিরি উপত্যকা নিয়ে গঠিত আলীকদমের ভূ-প্রকৃতি। পাহাড়ি ঝিরির ঢালু জমি ও মাতামুহুরীর কুল ঘেষে রয়েছে পর্যাপ্ত রবিশষ্য ও বোরো চাষের আবাদের জমি। প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড়ি ঝিরি, খাল, ছড়া ও মাতামুহুরীর নদীর দু’কুলে পলি পড়ে। এসব জমিতে এক সময় বোরো আবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সব্জি ডাল ও তৈলবীজ জাতীয় বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হতো। দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা এসে এখান থেকে শীতকালিন শাক-সবজী ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেত। কিন্তু পাহাড়ি এ উপজেলার চিয়ায়ত এ চিত্র পাল্টে দিয়েছে পুঁজিবাদী তামাক কোম্পানীগুলো। 
পাহাড়ি ভূমির উর্বরতা বিবেচনায় নিয়ে আশির দশকের মাঝামাঝি ঢুকে পড়ে বিএটিবি। জানা যায়, এ কোম্পানী প্রথমে লামা উপজেলার ফসলী জমিতে সীমিত আকারে তামাক চাষের মাধ্যমে আগ্রাসন শুরু করে। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন তামাক কোম্পানী আলীকদম উপজেলায়ও তামাক চাষের বিস্তার ঘটায়। এ চাষ এখনো চলছে বল্গাহীন গতিতে। 
সম্প্রতি মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এর ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি মৃত্তিকা বিজ্ঞানী দল লামায় ৩ দিন ব্যাপি ফসলি জমির মাটি পরীক্ষা করেছেন। এ সময় বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা দেখতে পান একই জমিতে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কৃষকরা সার প্রয়োগ করার ফলে এ এলাকার ফসলী জমির উর্বরতা কমেছে। মাটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, ফসলি জমি গুলোতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস নিম্ন, সালফার অতি নিম্ন , পটাশ নিম্ন মধ্যম এবং মাটির অম্লতা অধিক। 
তামাক চাষের আগ্রাসন রোধে গতবছর আদালতে মামলা হয়। কোম্পানিগুলো উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তাদের চাষাবাদ অব্যাহত রেখেছে। তামাক চাষ রোধে প্রশাসনযন্ত্রের ভূমিকা রহস্যজনক। 

Post a Comment

0 Comments