Advertisement

থার্টিফার্স্ট নাইটে এমিউজম্যান্ট ক্লাবে শেষ পাপের প্রস্তুতি : শহরে ইয়াবাসুন্দরীর ঢল


ফরিদুল মোস্তফা খান ,কক্সবাজার বাণী:
আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল গোপনীয় কোন তথ্য থাকলে উদঘাটন করতে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা অবনতিজনক তথ্য উদ্ঘাটনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করেছিলেন। তাই রিমান্ড আবেদনে তিনি শহরের আলোচিত ইয়াবাসুন্দরীসহ সঙ্গীদের হরেক অপকর্মের কথা বর্ণনা করেছিলেন। ফলে দেশের স্বার্থে বিজ্ঞ আদালত এ্যামিউজমেন্ট ক্লাবের চেয়ারম্যান চলচ্চিত্র প্রযোজক জি.এম সরোয়ারসহ নায়িকা সিলভিয়া আজমী চাঁদনীর ৩ লম্পট সঙ্গীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবিতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য,
পুলিশ রিমান্ডের নির্ধারিত ২ দিন অতিবাহিত করেছেন। চুল পরিমাণ তথ্য উদঘাটনতো দূরের কথা বরং ব্রিফকেস ভর্তি টাকা নিয়ে আসামীদের সাথে করেছেন সখ্যতা। প্রতিনিয়ত খোশগল্পে লিপ্ত থেকে রাতের বেলায় রেখেছেন লেপ,
তোষক মুড়িয়ে জামাই আদরে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় আরও কিছু মাদকসেবী লম্পটের প্রত্যক্ষ ইন্দনে রিমান্ডের আসামি চলচ্চিত্র প্রযোজক সরোয়াররা সেখানে মোবাইল, রুচি সম্মত খাবার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব চাহিদা মিটিয়েছেন পুলিশের মাধ্যমে। কিন্তু বোতল ও সেবনে ঝামেলা হয় এমন মাদক গ্রহণ করতে না পারলেও সিগারেটের অভ্যন্তরে বাইর থেকে দেওয়া গাঁজা তারা সেবন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে ধুমপান নিষিদ্ধ হওয়ার কথা ছিল, সেই ব্যানসন সিগারেটের প্যাকেট খোদ রিমান্ড আসামীদের হাতে পৌঁছিয়েছেন পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই জাহেদ জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে আসামীদের যথাযথ পন্থায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এখানে বাহ্যিক সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা সঠিক নয়। কারণ আসামীরা রাতে থাকতেন সদর মডেল থানায়। 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাতে নারী ও ইয়াবাসহ আটক উক্ত লম্পটরা থানায় থাকতেন ঠিকই, কিন্তু সেখানে ছিল জামাই আদরে। যেখানে যা দেওয়ার প্রয়োজন, সেখানে তা দেয়াসহ ক্ষমতার জোরে সবসময় নিরাপদ থেকে জামিনে মুক্ত হতে সবধরনের তৎপরতা চালিয়েছেন তারা। উচ্চ আদালত হাইকোর্ট বন্ধ থাকাই তাদের মধ্যে লক্ষ করা গেছে বিষন্নতা। অপরদিকে এই দুষ্ট চক্রের সাথে জড়িত কক্সবাজারের মুখোশধারীরাও তলে তলে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন সবসময়। পরামর্শ দিয়েছেন, জান গেলেও যেন সব তথ্য কাউকে না জানায়। এই অবস্থায় খবর পাওয়া গেছে, রিমান্ডে কোন
তথ্য বেরিয়ে না আসলেও বর্তমানে কারান্তরীন নায়িকা সিলভিয়া ও এ্যামিউজমেন্ট ক্লাবের কথিত চেয়ারম্যান চিত্র প্রযোজক সরোয়ার, সঙ্গীত পরিচালক কাজী জামালসহ অর্ধশতাধিক বখে যাওয়া ধনাঢ্যের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। কক্সবাজার শহরের স্থানীয়সহ দেশের বাঘাবাঘা অপরাধীদের সাথে তাদের হট কানেকশন। সেখানে অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা, এক শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতা ও চলচ্চিত্র জগতে সুবিধা করতে না পারা নায়ক-নায়িকা, গায়িকা, পরিচালক-প্রযোজক এমনকি সন্ত্রাসী রয়েছে। নিজেরা নিজেরা সিন্ডিকেট করে তারা সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ এবং কক্সবাজার শহরে নামিদামি হোটেল ও ফ্ল্যাটে অবস্থান করে ফুর্তি শেষে ইয়াবার বড় বড় চালান পাচার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহারসহ বাণিজ্যেরও অভিযোগ আছে। 
এই চক্রের সদস্য নায়িকা সিলভিয়া আজমী চাঁদনী শুধু কক্সবাজারে র‌্যাবের হাতে নয়, এর আগেও আরো কয়েকবার অনৈতিক কর্মে লিপ্ত থাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট ধরাপড়ে। এ্যামিউজমেন্ট ক্লাবের কথিত চেয়ারম্যান এই সিলভিয়াসহ আরও অগণিত সুন্দরীদের নিয়ে ফুর্তি এবং ব্যবসায় জড়িত। বর্তমানে চেইন্দায় নির্মাণাধীন এ্যামিউজমেন্ট ক্লাবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকে এই পর্যন্ত যতগুলো ঝামেলা হয়েছে, তার সবই
নিরসনে তিনি ও সাঙ্গপাঙ্গরা ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ টাকা, সুন্দরী নারী ব্যবহার করতেন। সর্বশেষ তারা কয়েকদিন আগে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়লেও এদের উদ্দেশ্যে ছিল আসন্ন থার্টি ফার্স্ট নাইটে কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি লম্পটদের মিলনমেলা ঘটাবে। এই জন্যই মুখোশধারী ভদ্রলোকেরা চেইন্দায় নির্মাণাধীন এ্যামিউজমেন্ট ক্লাবে থার্টি ফার্স্ট নাইটের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটি আবেদনও করেছিল।
বর্তমানে তা রামু থানা পুলিশের কাছে তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অনুষ্ঠানের অনুমোদন পেলে বছরের শেষ রাতে অর্থাৎ আগামি ২০১২ সালের প্রথম রাত হবে চেইন্দার জন্য স্বরণকালের ভয়াবহ পাপের রজনী। ওই রাতে দেশি-বিদেশি লম্পটরা মদ, নারী ও ইয়াবার উল্লাসে ভাসবে সেখানে।
এদিকে আরও খবর পাওয়া যাচ্ছে, আটক ইয়াবাসুন্দরীদের সাথে জোড়া-জোড়া করে অনেক নর্তকী কক্সবাজারে এসেছেন। যাদের কিছু কিছু পালিয়ে গেলেও এখনো শহরের বিভিন্ন হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজে অবস্থান অর্ধশতাধিক। তৎমধ্যে হোটেল-মোটেল জোনের তাহের ভবন, সেন্টমার্টিন রিসোর্ট, সানমুন (হলিডে মোড়), হোটেল সী কুইন, সী ক্রাউন, হোটেল নিশীতা, হোটেল লজসহ সাগর পাড়ে গড়ে উঠা ডেভেলপার কোম্পানীর বিভিন্ন ফ্ল্যাট এবং কটেজ ছাড়াও এ্যামিউজমেন্ট ক্লাব মালিকপক্ষের দায়িত্বশীলদের কব্জায় রয়েছে অনেকেই। 
সুত্র জানায়, কারাগারে নিঃসঙ্গ জীবন-যাপন করা উক্ত ইয়াবাসুন্দরী ও লম্পটরা মানসিক যন্ত্রণায় থাকলেও সেখানে তাদের জন্য খুব একটা অসুবিধা হচ্ছেনা। কারণ কতিপয় প্রভাবশালী ও নগদ টাকার বিনিময়ে কারাগারেও তাদের জন্য ব্যবস্থা রয়েছে আরাম-আয়েশের। 
কে সেই ইয়াবাসুন্দরী : 
বিনোদন বিচিত্রায় ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হওয়া নায়িকা এই সিলভিয়া আজমী চাঁদনী। ২০০৭ সালের ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতায় রানারআপ হয়ে মিডিয়ায় তার পা। তিনি বগুড়া জেলা সদরের সুত্রাপুর এলাকার জহুরুল ইসলামের কন্যা। নায়িকা হিসেবে সাফল্যের খুব একটা সফলাত না পাওয়ায় তিনি মানসিক হতাশায় এক সময় থেকে উশৃংখল হয়ে উঠে। সঙ্গ দোষে আসক্ত হয় মাদকে। আস্তে আস্তে চলচ্চিত্র নির্মাতা ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ খেজুরবাগ এলাকার নঈমুদ্দীন নয়নমিয়ার পুত্র রামুর চেইন্দায় নির্মিত এ্যামিউজমেন্ট ক্লাব ও পার্কের চেয়ারম্যান জিএম সরোয়ারের কব্জায় আসেন তিনি। চলচ্চিত্রে শ্যূটিংএর নাম কক্সবাজারের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউজে রাত্রি যাপন করেন ওই চিত্র নির্মাতা সরোয়ারসহ অন্যান্যদের সাথে। হোটেল গেস্ট হাউজে চালানো হয় নগ্ন নৃত্যের আসর। মেতে উঠত ইয়াবা বিয়ারসহ মাদকের জলসায়।
ইন্টারন্যাশনাল এ্যামিউজমেন্ট ক্লাব ও পার্কে চলত একই ধরনের কারবার। বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশের প্রথম সারির বখে যাওয়া ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক লোকজন রাত কাটাতেন সিলভিয়ার সাথে। নায়িকার সাইনবোর্ড দিয়ে দেহ ব্যবসাসহ যৌন উত্তেজক ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার করা হতো রাজধানী ঢাকায়। বরাবরের মত নায়িকা চাঁদনী চিত্র নির্মাতা জিএম সরোয়ারসহ ৪জন শহরের কলাতলীর বে-ভিউ হোটেলে উঠলেই র‌্যাবের হাতে ধরাশয়ী হয়। জানাগেছে, চলচ্চিত্রে সিলভিয়ার অভিষেক হয় শাহাদত হোসেন লিটন পরিচালিত “বলনা কবুল” ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। গত বছরে ঈদে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে তিনি শাকিব খানের ছোট বোন চরিত্রে অভিনয় করেন। সেই সময় তিনি সিলভি নামে পরিচিত হলেও নিজের নাম পাল্টিয়ে রাখেন চাঁদনী।  উত্তম আকাশ পরিচালিত “যেমন জামাই তেমন বউ” ছবিতে চাঁদনী নায়িক হিসেবে ইমনের বিপরীতে অভিনয় করে। সিলভিয়া অভিনীত মুক্তি প্রতিক্ষীত ছবির মধ্যে রয়েছে, নাগ সুন্দরী, আমার প্রেমসহ আরো কয়েকটি ছবি।
রাজধানীতে অবস্থিত সিলভিয়ার কয়েকটি ঘনিষ্ট সুত্রে জানায়, নায়িকা হিসেবে খুব একটা সফলতা না পাওয়ায় মূলত মেয়েটি নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া, অপূর্ব সুন্দর কক্সবাজারে গেলেই তাকে ধর্নাঢ্যরা বেশি বেশি ফুর্তি রাখে বলে হয়তো সে ইদানিং ওই দিকেই বেশি যেত

Post a Comment

0 Comments