Advertisement

এরশাদের প্রশ্ন-রাজধানী কোনটি !

গাজীপুর, ৬ ডিসেম্বর: জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, “বাংলাদেশের রাজধানী এখন কোনটি? উত্তর ঢাকা নাকি
দক্ষিণ ঢাকা? তার হিসেব মিলে না। এ নিয়ে এখন আন্দোলন চলছে।”

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় পার্টির ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ উপলক্ষে গাজীপুরের চান্দনা-চৌরাস্তায় জেলা জাতীয় পার্টি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ব্রি. জেনারেল অব. কাজী মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, জাতীয় মহিলা পার্টির সভানেত্রী লিলি বেগম, শ্রমিক পর্টির নেত্রী আনোয়ারা বেগম ও জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার মিয়া।

টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) কথা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু তিনি করবেন না। কিন্তু ভারতে ফেরার ২/৩ মাস পরেই আমাদের সঙ্গে কথা না বলেই তারা ঘোষণা দিয়েছেন,  টিপাই মুখে বাঁধ হবে।”

আগামী ১০ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি ঢাকা থেকে সিলেটে টিপাইমুখ অভিমুখে লংমার্চ করবে। তিনি এই লংমার্চে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, “দেশের জনগণ টিপাই মুখ বাঁধ মানবে না। জীবন যাবে কিন্তু টিপাইমুখ বাঁধ মেনে নেয়া হবে না।”

এরশাদ বলেন, “ভুল পলিটিক্সের কারণে দেশ আজ পিছিয়ে গেছে। আমরা ভুল করিনি। সঠিক পলিটিক্স করেছিলাম।”

তিনি আরো বলেন, “দেশের মানুষের সব আশা আজ হতাশায় পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষ এখন সুখে নেই।  আমরা মানুষের মনে এখনো বেঁচে আছি। আমাকে মুছে ফেলার বার বার চেষ্টা করা হয়েছে। নামফলক ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু মানুষের মন থেকে আমার নাম মুছে ফেলতে পারেনি।”

এ সময় তিনি বলেন, “কাগজে লিখ নাম, কাগজ ছিঁড়ে যাবে, পাথরে লিখ নাম, পাথর ক্ষয়ে যাবে, হৃদয়ে লিখ নাম সে নাম রয়ে যাবে। জাতীয় পার্টির নাম দেশের ১৬ কোটি মানুষের মনের মাঝে লিখ আছে এ নাম কেউ মুছতে পারবে না।”

সাবেক রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে আরো  বলেন, “দেশের জনসংখ্যা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন যদি করতে হয়, ঢাকা শহর রক্ষা করতে হয়, যানজট নিরসন করতে হয়, তবে দেশকে আটটি প্রদেশে ভাগ করুন। দেশে প্রাদেশিক সরকার প্রবর্তন করুন।”

উপজেলা প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, “আমি উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিলাম। কিন্তু  হিংসার বশবর্তী হয়ে তা বাদ দেয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে আবার উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হলেও চেয়ারম্যানদের কোনো ক্ষমতা দেয়া হয়নি। তাদের ঠুটো জগন্নাথ করে রাখা হয়েছে। আবার আমি ক্ষমতায় গেলে তাদের ক্ষমতা দেয়া হবে।”

বক্তৃতা শেষে তিনি প্রস্তাবিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে ব্রি. জেনারেল অব. কাজী মাহমুদ হাসানকে একক প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।

বার্তা২৪ ডটনেট/ 

Post a Comment

0 Comments