Advertisement

সাফল্যের উচ্ছ্বাস দেশজুড়ে

* জেএসসি ও জেডিসিতে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭১
* জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ হাজার ৮৫২

মোবারক উদ্দিন নয়ন 
জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে। ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। দ্বিতীয় এ পাবলিক পরীক্ষায় পাস করে আবেগাপলুত হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা।
দেশে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় পাস করেছে ৮৩ দশমিক ৭১ শতাংশ পরীক্ষার্থী। পাসের এ হার গত বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৭ ভাগ বেশি। দ্বিতীয় বৃহৎ এ পাবলিক পরীক্ষায় ১৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৫ লাখ ৬ হাজার ৭৮৩ জন। পাসের এ সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৭৩৬ জন বেশি। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ হাজার ৮৫২ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮ হাজার ৫৫৬ জন। 
৮টি সাধারণ বোর্ডের জেএসসিতে পাসের হার ৮২ দশমিক ৬৭ ভাগ এবং জেডিসির পাসের হার ৮৮ দশমিক ৭১ ভাগ। গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রকাশিত ফলাফলে সব বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ হাজার ৮৫২ জন। ৯৩ দশমিক ১৩ শতাংশ নিয়ে পাসের হার সর্বোচ্চ বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে। ৬১ দশমিক ৭৯ নিয়ে পাসের হার সবচেয়ে কম চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে। 
৫টি মানদণ্ডে এ বছর দেশসেরা হয়েছে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এসএসসি ও এইচএসসির আদলে গ্রেডিং পদ্ধতিতে এ পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে। জেএসসি ও জেডিসির ফল নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাবোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট (িি.িবফঁপধঃরড়হনড়ধৎফৎবংঁষঃং.মড়া.নফ)-এ পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল বিকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফল প্রকাশ করেন। এ সময় শিক্ষাসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্বে) অধ্যাপক আবুল কাসেম মিয়া, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন ও মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুন নূর উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের কপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। 
ফলাফলের মূল্যায়ন করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, সঠিক সময়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুসত্দক পেঁৗছে দেওয়া, টেলিভিশনে দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেরা শিক্ষকদের পাঠদান প্রচার, নকলবিরোধী ব্যাপক প্রচারণাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের কারণে এ সাফল্য এসেছে। শতকরা পাসের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি জিপিএ-৫ পাওয়ার হারও বেড়েছে। এবারও সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ৫টি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে_ নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর হার, পাসের হার, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রতিষ্ঠানের গড় জিপিএ। 
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, গতবার যারা ফেল করেছিল তাদের পরবর্তী ক্লাসে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এ শর্তে যে, তারা এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করবে। তবে আগামী বছর থেকে আর এ সুযোগ থাকবে কি না_ তা এখনও সিদ্ধানত্দ হয়নি। ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এবার বৃত্তি দেওয়া হবে, তবে এর সংখ্যা পরে জানান হবে। 
৮টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড থেকে জেএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪০ জন। কিন্তু পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৪ লাখ ৯০ হাজার ৪৫ ছাত্রছাত্রী। অর্থাৎ পরীক্ষাকেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিল ৪৮ হাজার ৫৯৫ পরীক্ষার্থী। এ পরীক্ষায় পাস করেছে ১২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ পরীক্ষার্থী। গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ৬৭ ভাগ। মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত জেডিসিতে পরীক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ৩ লাখ ৯ হাজার ৯০২ জন। কেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিল ১৪ হাজার ৩২৩ জন। পাস করেছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৩ জন। এ বোর্ডের গড় পাসের হার ৮৮ দশমিক ৭১ ভাগ। 
জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ছাত্রীদের চেয়ে এবারও ছাত্ররা এগিয়ে। সবকটি শিক্ষাবোর্ড থেকে ৮ লাখ ৩৭ হাজার ১৭২ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৭ লাখ ১২ হাজার ১৮৯ জন। ছাত্রদের গড় পাসের হার ৮৫ দশমিক ৭ ভাগ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৫৩৪ জন ছাত্র। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ৯ লাখ ৬২ হাজার ৭৭৫ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৪ জন। ছাত্রীদের গড় পাসের ৮২ দশমিক ৫৩ ভাগ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৩১৮ জন ছাত্রী। 
ঢাকা শিক্ষাবোর্ড: এ বোর্ডের অধীনে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার ১৪৭ জন। পাস করেছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৯ জন। গড় পাসের হার ৮১ দশমিক ৪৫ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ২১ জন। 
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড: এ বোর্ড থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪১ জন শিক্ষার্থী। পাস করেছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৯ জন। গড় পাসের হার ৭৯ দশমিক ৮৮ ভাগ। এ বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ২১২ জন। 



কুমিলস্না শিক্ষাবোর্ড: এ বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৪জন। পাস করেছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬ জন। গড় পাসের হার ৯১ দশমিক ২৫ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৩৯৬ জন। 
যশোর শিক্ষাবোর্ড: এ বোর্ড থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৫ জন। পাস করেছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬০ জন। গড় পাসের হার ৭৯ দশমিক ৮৭ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৫৪ জন পরীক্ষার্থী। 
বরিশাল শিক্ষাবোর্ড: এ বোর্ড থেকে অংশগ্রহণ করেছিল ৮২ হাজার ৯০৫ জন। পাস করেছে ৭৭ হাজার ২১৩ জন। গড় পাসের হার ৯৩ দশমিক ১৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮৮৬ জন। 

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড: এ বোর্ড থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬০ জন। পাস করেছে ৯০ হাজার ২৭৫ জন। গড় পাসের হার ৭২ দশমিক ৬৫ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ১৭৬ জন। 

সিলেট শিক্ষাবোর্ড: এ বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ৯২ হাজার ৬৭৫ জন ছাত্রছাত্রী। পাস করেছে ৭৭ হাজার ২৩৫ জন। গড় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৩৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৪৮ জন পরীক্ষার্থী। 
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড: এ বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯৮ জন ছাত্র-ছাত্রী। পাস করেছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৩ জন। গড় পাসের হার ৮৪ দশমিক ৩৫ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬৪৫ জন। 
মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড: মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ৩ লাখ ৯ হাজার ৯০২ জন। পাস করেছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৩ জন। গড় পাসের হার ৮৮ দশমিক ৭১ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৪ জন। 
বিদেশি কেন্দ্র: বিদেশে কেন্দ্র ছিল ৭টি। অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪৮ জন। পাস করেছে ৩৪২ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ২৮। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন।

Post a Comment

0 Comments