আবদুর রাজ্জাক,মহেশখালী:
মহেশখালীতে রাস্তায় ব্যরিকেট দিয়ে গনহারে ১৫/২০ টি যাত্রীবাহি গাড়ি ও ৫ টি বসতবাড়ীতে ডাকাতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ ও ডাকাত দলের মধ্যে প্রায় ৩/৪ ঘন্টাব্যাপী বন্দুক যুদ্ধ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক শীর্ষ ডাকাতকে গ্রেফতার করে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৪ ডিসেম্বর গভীর রাত্রে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে।
ঘটনার বিবরন ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৩ ঘটিকার সময় উপজেলার ক্রাইমজোন হিসেবে খ্যাত কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা এলাকার ডাকাত সর্দার বজলের নেতৃত্বে একদল শসস্ত্র ডাকাত রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে ১৫/২০ টি যাত্রীবাহী গাড়ী ও ৫ টি বসত বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। খবর পেয়ে কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাজী নাজমুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাত দল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশ ও আতরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এভাবে ডাকাত ও পুলিশের মধ্যে প্রায় ৩/৪ ঘন্টা বন্দুক যুদ্ধে ২ শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। পরে খবর পেয়ে মহেশখালী থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চালিয়াতলী এলাকার হাজী ফজল করিমের পুত্র ১০ টি মামলার আসামী সন্ত্রাসী রিদোয়ান টিপু ডাকাতকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ডাকাত টিপু ও বজল বাহিনী গত ৬ নভেম্বর রাত ৯ ঘটিকার সময় বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরা ঘোনা গ্রামের এক নবদম্পতিকে চাকুরীস্থল চট্টগ্রাম হতে ঈদের ছুটিতে বদরখালী হয়ে গাড়ী যোগে গ্রামের বাড়ীতে আসার পথিমধ্যে কালারমারছড়ার চালিয়াতলী নামক স্থানে রাস্তায় ব্যরিকেট দিয়ে গাড়ী থামিয়ে স্বামীকে বেদম মারধর করে অস্ত্রের মুখে ওই গৃহবধূকে অপহরন করে গভীর পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে ওই ডাকাত দলের সদস্যরা পালাক্রমে ত গনধর্ষণ করে । পরে খবর পেয়ে কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির এস.আই বসু মিত্রের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে মুমূর্ষ অবস্থায় ওই গৃহ বধূকে উদ্ধার করে । এ ব্যাপারে ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে ডাকাতদের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় একটি ধর্ষন মামলা করেছে।
এ দিকে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলছে গন ডাকাতি। রাত একটু বাড়লেই ওই সব সড়কে ডাকাতি সংগঠিত হয়। উপজেলার গোরকঘাটা কুতুবজোম ও ঘটিভাংগা সড়ক, শাপলাপুর বালুর ডেইল সড়ক,কালারমারছড়া জনতাবাজার সড়ক ও চাইল্লাতলী মাতারবাড়ী সড়কে ডাকাতির ঘটনা নিত্য-নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের বেলাও ঠিকমত এসব এলাকা দিয়ে পথচারী হাঁটা-চলা যায় না। বিশেষ করে উপজেলার ক্রাইমজোন হিসেবে খ্যাত কালারমারছড়া ও মাতারবাড়ী সড়কে আশংকাজনক হারে সড়ক ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকাবাসীরা জানান, ওইসব এলাকায় সন্ত্রাসী ও ২৫ টি মামলার পলাতক আসামী কালা জাহাঙ্গির ও বজল ডাকাতের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একটি ডাকাতদল দুভাগে বিভক্ত হয়ে প্রতিদিনই দুটি স্পটের যে কোন একটি সড়কে একটি না একটি ডাকাতির ঘটনা সংগঠিত করছে। কালারমার ছড়ার ডাকাত প্রবণ এলাকাগুলো হচ্ছে- উত্তর নলবিলা, মাতারবাড়ি সড়কের চিতাখোলা সংলগ্ন এলাকা এবং শাপলাপুর ষাটমারা সড়ক এলাকা উল্লে¬খযোগ্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মহেশখালীর ৩লক্ষাধিক জনগণের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা উত্তর নলবিলা এলাকার সড়কগুলোতে এখন আতংকিত জনপদ হয়ে মহেশখালীর জনগণকে অতিষ্ট করে তুলেছে। বার বার গণ ডাকাতের কবলে পড়ে ডাকাত আক্রান্তে শিকার হওয়া সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালীর কালারমার ছড়া সড়কগুলোতে সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী ডাকাত দলের নিরাপদ চরন ভূমিতে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে সড়কগুলোতে ডাকাতদল তাদের হানা অব্যাহত রেখেছে। জানা গেছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহনের পর কিছুদিন ডাকাতির প্রবণতা কমে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিগত সময়ের ডাকাত দলের আনাগোনা আশংকাজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই শনিবার দিবাগত রাত ১টার সময় উত্তর নলবিলা সড়কে ডাকাতদল ডাকাতি করার সময় কালারমারছড়া ফাঁড়ির পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টাগুলি ছোঁড়ে । এসময় পুলিশ এবং ডাকাতদের মধ্যে ঘন্টা ব্যাপী বন্দুক যুদ্ধ হয়। ডাকাতদের গুলিতে ফাঁড়ি পুলিশের নায়েক ঝন্টু চাকমাসহ ৩ পুলিশ কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। ওসব সড়কে অব্যহতভাবে ডাকাতি সংগঠিত হওয়ায় এ সড়কে চলাচলরত লক্ষাধিক জনগণকে ডাকাত আতংকে ভাবিয়ে তুলেছে। একাধিক ডাকাত থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে ফের ডাকাতি করে। উলে¬খিত সড়কের পার্শ্বের পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় ডাকাত দল ডাকাতি সংঘটিত করে নির্বিঘে গা ঢাকা দেয়। এলাকার লোকজন ওসব সড়কে যাওয়া আসার সময় অথবা মালামাল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ডাকাতদের কবলে পড়ে সর্বস্ব খুইয়ে হয়েছে পথের ভিখারী। ডাকাত দলের চুরিকাঘাতে অনেকে বরণ করেছে চির পঙ্গুত্ব্, প্রাণ হারিয়েছে অনেকে অকালে। তাই ওসব সড়কগুলোতে প্রশাসনের নজরদারী প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করেন।

0 Comments