Advertisement

অশ্রু এখন শত্রু তার!


লন্ডন, ১৮ ডিসেম্বর: কেটি ডেল। বয়স ২৬। বৃটেনের নর্থ ওয়েলসের ফিন্টের বাসিন্দা। দশ বছর আগেও স্বাভাবিক ছিল তার জীবন। ১৬ বছর বয়সে টনসিলের অপারেশনের পরই সব ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। নিজের ভেতর খুব বাজে এক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে থাকেন কেটি।
তিনি দেখতে পেলেন, গোসল করলেই তার গায়ে লাল র‌্যাশে ভরে যাচ্ছে এবং ত্বকে খুব বাজে চুলকানিও হচ্ছে। দিন দিন ওই র‌্যাশ ও চুলকানির মাত্রা বেড়েই চলছে।
পানির সংস্পর্শে আসলেই তীব্র চুলকানি এবং ব্যথা অনুভব করতে শুরু করেন কেটি। এক সময় অবস্থা এমন পর‌্যায়ে গিয়ে দাঁড়ালো, পানি কেটির জীবনের শত্রুতে রূপ নিলো। এমনকি নিজের অশ্রুও তার কাছে যমের মতো ভয়ংকর।
অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, কেটির এই রোগের নাম অ্যাকুয়াজেনিক আর্টিক্যারিয়া। যা হলো একধরনের ছুলি, এতে রোগীর ত্বক পানির সংস্পর্শে আসলেই শুরু হয়ে যায় ‘অ্যাকুয়াজেনিক আর্টিক্যারিয়া’র তাণ্ডব।
পৃথিবীতে কেটি হলেন ৩৫তম ব্যক্তি, যিনি এই রোগের শিকার হলেন।
কেটি ডেল তার এই রোগ সম্পর্কে ‘ডেইলি মেইল’কে বলেন, “অনেক ইচ্ছা করে প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজি, জিমে যাই, স্টিম বাথ নিই অথবা কোনো বিয়োগান্তক ছবি দেখি। কিন্তু আমি এসব কিছুই করতে পারি না। বৃষ্টিতে ভিজলে বা গোসল করলেই শুরু হয়ে যায় র‌্যাশের তাণ্ডব। স্টিম বাথ নিতে পারি না, জিমেও যেতে পারি না। কারণ ঘামও যে আমার শত্রু। আর কোনো ছবি তো দেখতেই পারি না। ক্লাইমেক্সে কোনো কষ্টের দৃশ্য আসলে যদি কান্না চলে আসে, সেই ভয়ে। চাকরি ছেড়ে দিয়েছি, বন্ধুদের সঙ্গে আর ঘুরতেও বের হই না।”
হতাশ কেটি বলেন, “মাঝে মধ্যে নিজের এই দুঃখ কমানোর জন্য কাঁদতেও পারি না। কি হতভাগী আমি!”
প্রথম দিকের স্মৃতিগুলো সম্পর্কে কেটি বলেন, “প্রথমে আমি আমার এই সমস্য কারো কাছে বলতেও পারতাম না। কারণ, এই কথা কাউকে বললে সবাই হাসতো আর ভাবতো আমি গুল মারছি। চিকিৎসকরাও এটা বিশ্বাস করতো না। পরে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তারা আমার রোগটা ধরতে পারেন। তবে, রোগটা সম্বন্ধে জানতে পেরে আমি কিছুটা স্বস্তি বোধ করছি। কারণ একটা সময় এমনও ছিল যে, মানুষ আমাকে পাগল ভাবতে শুরু করেছিল। নিজের অশ্রু থেকে কি কারো র‌্যাশ হতে পারে?”
বৃটেনের অ্যালার্জি এক্সপার্ট লিন্ডসে ম্যাকম্যানুস বলেন “এই রোগটি খুবই বিরল। সহজে চিহ্নিত করা যায় না। আর চিহ্নিত করা গেলেও নেই নির্দিষ্ট প্রতিকার। তবে র‌্যাশের আক্রমণ হলে অ্যান্টি-হিস্টামিন ওষুধ খেলে এর প্রকোপ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।”
ম্যাকম্যানুস বলেন “এই রোগে আক্রান্তদের জন্য আমাদের একটাই পরামর্শ, পানি থেকে দূরে থাকুন।”

Post a Comment

0 Comments