খালেদ হোসেন টাপু, রামু :
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ১ মাস ২১ দিন পর এক প্রবাসীর লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। শনিবার সকালে ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ লাশ তোলা হয়। স্বামীকে খুন করে মারা হয়েছে এমন অভিযোগ করে গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে আবেদন করেন তাঁর স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন
(৫০)। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য আদালত লাশ তোলার নির্দেশ দেন। প্রবাসী মো. ইলিয়াছ মিয়ার বাড়ি রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের সওদাগর পাড়ায়।
(৫০)। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য আদালত লাশ তোলার নির্দেশ দেন। প্রবাসী মো. ইলিয়াছ মিয়ার বাড়ি রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের সওদাগর পাড়ায়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর স্বামী মো. ইলিয়াছ মিয়া দীর্ঘ আট বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকায় ফিরেন। দেশে ফেরার খবর পেয়ে ঢাকায় বসবাসরত তাঁর ভাগিনী সাহেনা আক্তার রুবি ও তাঁর স্বামী মো.শহীদুল্লাহ, বিমান বন্দর থেকে তাঁকে ঢাকা মোহাম্মদপুর বাসায় নিয়ে যায়। পরে লোভে পড়ে আট বছরের সঞ্চয় আত্মসাৎ করার জন্য গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁরা এবং তাদের আত্মীয় মীর আহমদ(৫৫) ও জাবেরুল কালাম আযাদ তাঁকে শ্বাসরোধ ও মারধর করে খুন করে। খুনের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তাঁরা হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে বলে চালিয়ে দিয়ে পরদিন জোয়ারিয়ানালা স্থানীয় কবর স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। কিন্তু লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পরে তাঁরা নিশ্চিত হন তাঁকে শ্বাসরোধ এবং মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কবর থেকে লাশ তোলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য কক্সবাজার জৈষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তিনি আবেদন করেন।
আদালতের নির্দেশে শনিবার সকাল এগারটার দিকে কক্সবাজার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. নায়েরুজ্জামানের উপস্থিতিতে পুলিশ কবর থেকে লাশ তোলেন। এসময় তাঁর স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন, মেয়ে সোনিয়া আঞ্জুমান আঁিখসহ ছেলেমেয়ে ও আত্মীয় স্বজনের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। এ সময় স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন ও ছেলে মেয়েরা ম্যাজিষ্ট্রেটের পায়ে ধরে ন্যায় বিচার এবং খুনিদের শাস্তির দাবী জানান। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে নজিবুল ইসলাম জানান, লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য আদালতের নির্দেশে এক মাস ২১ দিন পর গতকাল কবর থেকে লাশ তোলা হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


0 Comments