Advertisement

রামুতে গহীন অরণ্যে প্রসব জটিলতায় মা হাতির মৃত্যু

॥ সোয়েব সাঈদ ॥
কক্সবাজারের রামু উপজেলার গহীন অরণ্যে বাচ্চা প্রসবকালে একটি বন্য মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ঘিলাতলী বিটের গহীন অরণ্য রাঙাঝিরি মালেকুজ্জামানের ঘোনা এলাকায় গত শনিবার (১ অক্টোবর) সকালে বাচ্চ প্রসব করতে গিয়ে হাতিটি মারা যায়। রামু প্রাণী সম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারী মাঠ সহকারী মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম
 হাতিটির সুরতহাল সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, এটি মা হাতি এবং গর্ভবতী ছিল। হাতিটির বয়সও হয়েছে বেশী। প্রাথমিকভাবে প্রসব জনিত জটিলতার কারণে হাতিটি মারা গেছে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। হাতিটির দুধের বাটে চাপ দিলে ভেতর থেকে আঠালো দুধ বের হয় এবং জরায়ু দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিল। । 
বনবিভাগের ঘিলাতলী বিট কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান খান জানান, শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো বনবিটের প্রহরী মোহাম্মদ আলমগীর মিয়া, দুলাল কৃষ্ণ বণিক ও তপন কুমার দে বন পাহারা দিতে বনের গহীনে যান। তাঁরা  রাঙাঝিরি মালেকুজ্জামানের ঘোনা এলাকায় পৌছালে সেখানে মরা হাতিটি দেখতে পান। খবর পেয়ে তিনি অন্যান্য বনকর্মীদের নিয়ে সেখানে গেলে বনের মাঝখানে ওই ঘোনার কাঁদা মাটির উপর মরা হাতিটি পড়ে থাকতে দেখেন। প্রহরী মো.আলমগীর মিয়া জানান, শুক্রবার বন পাহারা দিতে গেলে ওই হাতিটিসহ আরও কয়েকটি হাতিকে তিনি ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখেন। সন্ধ্যায় ফেরার সময় হাতিটিকে একই স্থানে দেখা যায়। তাঁর ধারনা শুক্রবার রাতে অথবা শনিবার সকালে  হাতিটি মারা গেছে। শনিবার মরা হাতিটির সুরতহাল করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে হাতিটি প্রসব জনিত জটিলতার কারণে মারা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। গতকাল রোববার বনের ভেতরে মরা হাতিটি পুতে ফেলা হয়েছে। 
              বাঁঘখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব জানান, রামু উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে দূর্গম এলাকায় অবস্থিত ক্চ্ছপিয়ার ঘিলাতলী বনবিট। সেখান থেকে আরও আড়াই কিলোমিটার দূরে গহীন বনের ভেতর হাতিটি মারা গেছে। হাতিটি যেখানে মারা গেছে শনিবার দুপুর থেকে তার আশেপাশে আরও কয়েকটি বন্য পাহারা দিয়ে রাখে। ফলে ওই এলাকায় মানুষের অবস্থানও ঝুঁিকপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় অনেক ঝুঁকির মুখে মরা হাতির সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়। শনিবার দুপুর থেকে মরা হাতিটির আশেপাশে হাতির পাল অবস্থানের কারণে বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কয়েকজন সাংবাদিককে রাঙাঝিরি মালেকুজ্জামানের ঘোনার কাছাকাছি এলাকা থেকে ফিরে আসতে হয়। 
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদ মোহাম্মদ ছাইদুল হক আমার দেশকে জানান, খবর পেয়ে শনিবার বিকালে ওই স্থানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই। কিন্তু গহীন অরণ্য ও সেই এলাকায় হাতির পাল থাকার কারনে আমি সেখানে যেতে পারিনি। তবে বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতিটির মৃত্যুর কারণ ও মৃত হাতি পূতে ফেলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে রামু এবং পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার হাজার-হাজার মানুষ গত দুদিন ধরে মৃত হাতিটি দেখার জন্য ওই স্থানে ভিড় জমাচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments