এস.এম.তারেক,ঈদগাঁও:
কক্সবাজার সদরের ইসলামপুরে ভূমিদস্যুরা এবার মসজিদের পুকুর দখল করে নিয়ে তাতে মার্কেট তৈরী করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ইউনিয়নের নাপিতখালী বটতলা এলাকায়। বিগত দুমাস পূর্বে এলাকাবাসীর চোখের সামনে এ ঘটনা ঘটলেও তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। প্রভাব দেখিয়ে জায়গা দখল ও এলাকার যে কারও সমস্যায় নাক গলিয়ে প্রভাব বিস্তার করে ফায়দা লুটাই হচ্ছে চক্রটির মূল কাজ। তারই ধারাবাহিকতায় , বিগত দুমাস পূর্বে ইউনিয়নের পূর্ব নাপিতখালী গ্রামের মৃত আবদূল গণি সওদাগরের ছেলে আরিফুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আলমের ছোট ভাই হাকিম আলীর নেতৃত্বে ইসলামপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোজাম্মেল বাহিনী ওরফে ন্যাংটো বাহিনীকে হটিয়ে বটতলা জামে মসজিদের পুকুরটি দখল করে। পরে চক্রটি এলাকার বিশালাকার আয়তনের এলাচ মোরা নামক পাহাড় থেকে মাটি এনে পুকুরটি ভরাট করে তাতে মার্কেট তৈরী করে। মার্কেটটিতে হোটেলসহ ১৮/২০ টি দোকান পাট রয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুকুরটি ভরাট না করতে ওই সময় এলাকাবাসী এবং মসজিদ কমিটির লোকজন অনেক অনুনয় বিনয় করলেও তাতে দখলবাজদের মন গলেনি। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৯বছর পূর্বে নতুন অফিস এলাকার জনৈক আলী আকবর সওদাগর র নিকট হতে মোজাম্মেল বাহীনি প্রধান মোজাম্মেল ও স্থানীয় ফরিদুল আলম সওদাগর ১০শতক (একটি ১৫০/- ননজুডিসিয়াল স্টাম্পে) জমি ক্রয় করে। ওই সময় এলাকায় মোজাম্মেলের এক চেটিয়া প্রভাব থাকায় ক্রয়কৃত জমির ন্যায্য হিস্যা থেকে মোজাম্মেল বঞ্চিত করে ফরিদুলকে। অবস্থা বেগতিক দেখে ফরিদূল গোপনে আলী আকবরের নিকট হতে জমিটি পুনরায় নিজের নামে রেজিষ্ট্রি করে নেয়। এদিকে মামলা মোকদ্দমার কারণে মোজাম্মেল বাহিনী ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে পড়লে বছর দেড়েক আগে তৎকালীন ইউপি চেয়াম্যান মনজুর আলমের পৃষ্টপোকতায় ইসলামপুর এলাকায় নতুন শক্তি হিসেবে আর্বিভূত হয় তার ভাই হাকিম আলী এবং আরিফের নেতৃত্বে এক প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্র। মোজাম্মেলের অনুপস্থিতিতে হাকিম আলী ,আরিফ এলাকার কর্তৃত্ব হাতে পেলে দীর্ঘদিন ধরে ক্রয়কৃত জায়গার দখল বঞ্চিত ফরিদুল নব্য শক্তি হাকিম আলী ও আরিফের নিকট নামমাত্র মূল্যে জমিটি বিক্রি করে দেয়। ক্রয়কৃত জমিটি মসজিদ সংলগ্ন হওয়ায় চতুর আরিফ, হাকিম আলী গং তাদের ক্রয় করা জমিতে মাটি ভরাট করে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে এমন ভাব দেখিয়ে সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা চলাকালে রাত্রীকালীন সময়ে এলাচ মোরা থেকে ট্রাকযোগে মাটি এনে পুকুরটি ভরাট করে ফেলে এবং ভরাটকৃত জায়গায় রাতারাতি মার্কেট নির্মাণের মাধ্যমে নিজেদের দখল পোক্ত করে। দখলবাজরা মার্কেটের দোকানঘর গুলো ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করছে। ভূমিদস্যুরা শুধু মসজিদের পুকুর দখল করে ক্রান্ত হয়নি, নির্মিত মার্কেটের সম্মুখে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিশালাকার খালি জায়গাটিও দখল করে সেটি মার্কেটের উঠান হিসেবে ব্যবহার করছে। মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ইসলামপুরের সাবেক চেয়ারম্যান অছিয়র রহমান জানান, উল্লেখিত আরিফ ও হাকিম আলী আলী আকবর থেকে যে জমিটি ক্রয় করেছেন তা ৯৩৯১ দাগের জমি ,কিন্তু তারা দখল করে বসে আছেন ৯৩৬৪ দাগের জমি, অর্থাৎ মসজিদের পুকুরের জমি। মসজিদ পরিচালনা কমিটির অপর সদস্য জসিমও একই মন্তব্য করেন। এ ব্যাপারে আরিফ ও হাকিম আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা উভয়ে মসজিদের জমির উপর মার্কেট নির্মানের কথা অস্বীকার করে বলেন, তারা তাদের ক্রয় করা জমিতে মার্কেট নির্মাণ করেছেন এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র তাদের কাছে রয়েছে। কাগজ পত্র দেখতে চাইলে তারা যথাস্থানে দেখাবেন বলে জানান।
এলাকার চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুল কাদের জানান, বর্ণিত ঘটনা সঠিক এবং আরিফ ও হাকিম আলী চক্র সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে ইসলামপুর জামে মসজিদের দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরনো পুকুরটি পেশী শক্তির জোরে ভরাট করে তাতে মার্কেট তৈরী করেছে। উল্লেখ্য বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সার চোরাচালানের দায়ে হাকিম আলীকে যৌথ বাহিনী ধরার চেষ্টা করলে সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া হয়। পরে পরিস্থিতি অনুকুল হলে পুনরায় এলাকায় ফেরে। এলাকার সর্বস্তরের মানুষ মসজিদের পুকুরটি ভূমিদস্যুদের কবল থেকে রক্ষা এবং ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের প্রতি

0 Comments