Advertisement

বান্দরবানে মৌজা প্রধান- হেডম্যান পদ নিয়ে বিতর্ক

পাল্টাপাল্টি সাংবাদিক সম্মেলন

বদরুল ইসলাম মাসুদ, বান্দরবান থেকে:
বান্দরবান জেলার ৩৪০ নং তারাছা মৌজা প্রধান (হেডম্যান) পদ নিয়ে বির্তকের সৃষ্টি হয়েছে। নবনিযুক্ত হেডম্যানকে বহিরাগত দাবি করে তাকে অপসারণের দাবি তুলেছে হেডম্যান প্রার্থী উচনুসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। এক সংবাদ সম্মেলন করেন উচনু নবনিযুক্ত হেডম্যানের বিরুদ্ধে খাজনা, জমি বিক্রি প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন সনদ প্রদানের সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানীর অভিযোগ তুরে ধরেন। অপরদিকে নবনিযুক্ত হেডম্যান উনিহ্লা মারমা নিজেকে তারাছা মৌজার বৈদ্যপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা দাবি করে যোগ্যতার ভিত্তিতে ও আইনগতভাবে হেডম্যান পদে নিযুক্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সমূহ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং তাকে সমাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য স্বার্থান্বেসী মহল সংবাদ সম্মেলন করেছে বলেও দাবি করেছেন।
শুক্রবার সকাল ১১টায় বান্দরবান প্রেসক্লাবে বর্তমান হেডম্যান উনিহ্লা’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেও ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও হেডম্যান পদে প্রার্থী উচনু মারমার পক্ষে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় হেডম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার পর মৌজার বাসিন্দাদের হয়রানী, খাজনা আদায়ে অতিরিক্ত অর্থ ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সনদ প্রদানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অভিযোগকারী আনোয়ার আজম, আনোয়ার হোসেন, হোসনে আরা, মংচউ মারমাসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তারা একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় ১৮ জন স্বাক্ষরিত একটি আবেদনপত্র দিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে নবনিযুক্ত হেডম্যান উনিহ্লার অপসারণ দাবি করেন।
অপরদিকে শনিবার বেলা ১১টায় বান্দরবান প্রেসক্লাবে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করেন সম্প্রতি জেলা প্রশাসক কর্তৃক নিযুক্ত হওয়া হেডম্যান উনিহ্লা। তিনি লিখিত বক্তবে  তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অসত্য, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করেন। তিনি তার অফিসিয়াল কাগজপত্র দেখিয়ে বলেন, তার (উনিহ্লা) বিরুদ্ধে যাদের নাম অভিযোগকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা কখনওই তার কাছে কোনো কাজের জন্য যাননি এবং তিনি তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রশ্নই আসেনা। তিনি বলেন, তার চাচা সাবেক হেডম্যান চথোয়াই প্রু ২০১০ সালের ৬ আগস্ট মারা যাওয়ার পর বিধি বিধান মেনে জেলা প্রশাসক তাকে (উনিহ্লা) হেডম্যানপদে নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু হেডম্যান পদে নিয়োগ না পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা উচনু এবং একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments