শেখ মোহাম্মদ হানিফ,পেকুয়া॥
পেকুয়ার পূর্ব গোঁয়াখালী সড়ক নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রতি বাস্তবায়ন হয়না। সড়কটি সংস্কারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বারবার
পেকুয়ার পূর্ব গোঁয়াখালী সড়ক নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রতি বাস্তবায়ন হয়না। সড়কটি সংস্কারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বারবার
প্রতিশ্রতি দিলেও ব্যতয় ঘটছে প্রতিবারই। এনিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই দানা বেঁধে চলেছে। জানা যায়, দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে ব্রীক সলিনের এ রাস্তাটি অযতে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ রাস্তার বেহাল অবস্থা দেখে এসব জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রতি দিয়েও রহস্যজনক কারনে রাখতে পারেন না। স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, বছর দেড়েক পূর্বে পেকুয়া-চকরিয়ার বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাফিয়া খাতুন উক্ত সড়ক দিয়ে বিলহাছুরা এলাকায় অবস্থিত আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে যাওয়ার সময় এ রাস্তার ভগ্ন দশা দেখে স্থানীয় এলাকাবাসীকে অতিদ্রুত সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এম.পির দেওয়া প্রতিশ্রতি আলোর মুখ না দেখায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম. কামাল হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভোলাইয়া ঘোনা রাস্তার মাথা থেকে ছিরাদিয়া পর্যন্ত সড়কটি ব্রীক সলিন দেওয়া হয়। এরপর বি.এন.পি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে পেকুয়ার বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও দৃষ্টি দেয়নি অবহেলিত গোঁয়াখালী বাসীর দিকে। তবে গোঁয়াখালীর সুবিধা বঞ্চিত মানুষের অভিযোগ, এ এলাকাটি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত হওয়ায় বি.এন.পি-জামায়ত জোট সরকার সড়কটি মেরামত কিংবা পাকা করণের কোন প্রকারের উদ্যোগ নেয়নি। জানা যায়, উক্ত সড়ক দিয়ে বিলাছুরা, গোঁয়াখালী, ছিরাদিয়া, মককাটাসহ প্রায় ৪/৫টি এলাকার প্রায় ১০ হাজার লোক প্রতিদিন যাতায়াত করে। রয়েছে প্রাইমারী স্কুল, মাদ্রাসা ও কিন্ডার গার্টেনসহ প্রায় ৮/১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জ্ঞান পিপাসু কোমল মতি শিক্ষার্থীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় শওকত হোসেন, শাখাওয়াত হোছাইন, জয়নাল আবেদীনসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘ এক যুগ ধরে পূর্ব গোঁয়াখালী সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ব্রীক সলিন উঠে গিয়ে বর্তমানে কাঁচা মাটির সড়কে পরিণত হয়েছে। গত ১বছর আগে চকরিয়া-পেকুয়ার বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা এম.পি সাফিয়া খাতুন বিলহাছুরা আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী সড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে তাদের দুঃখ-দূর্দশার কথা তুলে ধরে সড়কটি পাকা করণে তাঁর কাছে দাবি জানিয়েছিলেন। এম.পিও এলাকাবাসীর যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, শীঘ্রই পূর্ব গোঁয়াখালী সড়কটি পাকা করণের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ঐ ঘোষণার প্রতিফলন ঘটেনি। তবে যুক্তরাজ্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ আইন বিষয়ক সম্পাদক, তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম সজীব এ প্রতিবেদককে বলেন, গোঁয়াখালী এলাকাটি আওয়ামীলীগ অধ্যুষিত হওয়ায় যুগ যুগ ধরে অন্যান্য সরকারের সময়ে উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই পেকুয়ার অবহেলিত অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তন্মধ্যে এ সড়কটিও রয়েছে। শীঘ্রই সড়কটির উন্নয়নে কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি জানান।

0 Comments