মো.আবুল বশর নয়ন:
বান্দরবানের জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে রাতের আধারে এক যুবককে খুচিয়ে খুচিয়ে নির্মম ভাবে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে সন্ত্রসীরা। একাধিক সেলাই অবস্থায় উক্ত যুবক বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনায় আহত যুবকের পক্ষে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলেও থানায় তা গ্রহণ না করে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, মঙ্গলবার (১২ সেপ্টম্বর) নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের আর্দশগ্রাম এলাকার মোহাম্মদ আলম এর বাগান বাড়িতে তার ছেলে ছৈয়দ নূর প্রতিদিনের ন্যায় ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে একদল সশ্বস্ত্র সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্রে স্বজ্জিত হয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে চলে যায়। এসময় তার আত্মচিৎকারে পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে প্রাথমিক ভাবে জখমকৃত স্থানে সেলাই করে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহত যুবক ছৈয়দ নূর মোবাইলে এ প্রতিবেদক কে জানান, ১৫/২০ জনের সংঘবদ্ধ দল আনুমানিক রাত ২ টার সময় তাকে ধারালো অস্ত্রে এলোপাতাড়ি আঘাত করে মারাত্মক জখম করে। এতে প্রাথমিকভাবে তার মুখমন্ডলে ৮/৯টি সেলাই করা হয়েছে। এ বিষয়ে আহত যুবকের পিতা মোহাম্মদ আলম জানান, ইতিপূর্বে আদর্শগ্রাম এলাকায় তার নামীয় ঘটনাস্থলের উক্ত জায়গা অবৈধ দখলের চেষ্টার কারনে আদালত গত ১৮ সেপ্টেম্বর ১৪৪ ধারা জারী করে। উক্ত বিচারাধীন মামলার শুনানী ছিল আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর। এছাড়াও এমপি প্রতিনিধি খায়রুল বাশারসহ একটি কমিটির মাধ্যমে জমি বিরোধের সমাধানের জন্য গতকাল বুধবার একটি নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু বিচার না মেনে ও মামলার শুনানীর পূর্বেই মোহাম্মদ শফি ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমার ছেলের ওপর নির্মম ভাবে হামলা করে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে আমার দুই ছেলেকে থানায় ধরে নিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এ প্রতিবেদককে জানান, রাতের আধারে কে বা কারা ছৈয়দ নূরের ওপর হামলা করেছে তা সুনির্দ্দিষ্ট ভাবে জান যায়নি। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ২৭০ নং নাইক্ষ্যংছড়ি মৌজা আর্দশগ্রাম এলাকার তিন একর পাহাড়ী ভূমি নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের মোহাম্মদ শফি ও আর্দশগ্রাম এলাকার গোল চাম্পার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল।

0 Comments