* দখল নিরাপত্তায় পতিতা ও অস্ত্রশস্ত্র : আটক- ২৭
* সিংহভাগ মহাজোট নেতার দাবি ভুমিগুলো উদ্ধার হোক
ফরিদুল মোস্তফা খান:
রাত জেগে পুলিশ প্রহরা ও প্রশাসনের শত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারি পাহাড় কাটায় জড়িত ২৭ শ্রমিক আটক করেছে মডেল থানা পুলিশ। শনিবার রাতেই কক্সবাজার শহরের কলাতলী টিএন্ডটি পাহাড় কর্তনরত অবস্থায় তাদের আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাহাড় খেকো শ্রমিক ও কতিপয় শ্রমিক নেতারা পর্দার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা তাদের গড ফাদার ভূমিগ্রাসীদের নাম প্রকাশ করলেও পুলিশ এখনো রহস্য জনকভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি। তবে ধৃতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার সতর্কতা অবলম্বন করে মুখ খুলছেন। কোন এক অজানা আতংকে যেন তিনি কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। ওসি মডেল থানা রিসিভ কছেন না ফোন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার আলোচিত সমালোচিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের কাছের লোক পরিচয় দানকারী এক ব্যক্তি সহ ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে ভূমিগ্রাসীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সেই পাহাড়টি কর্তনযজ্ঞে লিপ্ত হয়ে পড়ে দীর্ঘদিন আগে থেকেই।
ইতিমধ্যে তারা সেখানকার টিএন্ডটি পাহাড়ের সরাকারি উক্ত পাহাড়টি খুড়ে খুড়ে বেশ কিছু অংশ জবর দখল করে নেয়। দুঃসাহসের বিষয় হচ্ছে, ভূমিগ্রাসীদের দখলকৃত পাহাড়ের পাদদেশে নির্মাণ করা হয়েছে টিনসেট বাসা। সেখানে কয়েকজন পতিতা খদ্দর রাখা হয়েছে জমির নিরাপত্তায়। এছাড়া বর্তমানে জবরদখলকৃত উক্ত জায়গায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদসহ একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানাগেছে।
তারা সুযোগ বুঝে ফের ওই পাহাড়টির তলা কেটে জমি বের করে আনতে তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও সুত্র দাবি করেছে। এ অবস্থায় দিন দিন দখল হয়ে যাওয়া সরকারি সম্পদ রক্ষা ও স্বচক্ষে তা দেখতে রবিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক জয়নুল বারি টিএন্ডটি পাহাড় সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও একদল সংবাদকর্মী সেখানেই গিয়েই পাহাড়কাটার দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন।
জেলা প্রশাসক জয়নুল বারী বিষয়টি টিএন্ডটি পাহাড়ে কর্মরত সরকারি কর্মচারিদের কাছ থেকে অবগত হয়ে পাহাড়টি রক্ষায় তাদের আরো আন্তরিকতার নির্দেশ দেন। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, বিনা কাগজে সরকারি সম্পত্তি দখল কারী যেই হোক না কেন তা উদ্ধারপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে কক্সবাজারের পর্যটন শোভাবর্ধন ও পরিবেশ রক্ষাকারী উক্ত টিএন্ডটি পাহাড়টি রক্ষায় জেলা প্রশাসকের আন্তরিকতা ও সরেজমিনের পরিদর্শনের বিষয়টি সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশবাদি বিভিন্ন সংগঠন ও সচেতন মহল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও শরীকদলের সিংহভাগ নবীন-প্রবীণ-ত্যাগী নেতারা জানিয়েছেন, মহাজোট সরকারের নাম ব্যবহার করে মুষ্ঠিময় কয়েকজন ভুমিগ্রাসী সরকারি জায়গা জবর দখল করে নেবে তা মেনে নেয়া যায়না। তাই জড়িত অপরাধীদের ভয় না পেয়ে কোন প্রকার আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিয়ে জাতীয় স্বার্থে ভূমিগুলো উদ্ধার করে নেয়া এখন সময়ের দাবি।
নচেৎ তাদের দেখা দেখি আরও পাহাড় খেকো সৃষ্টি হবে এবং এ গুলো দখল বেদখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।

0 Comments