Advertisement

কক্সবাজার -টেকনাফ মহাসড়কের উপর হাটবাজার : দূর্ঘটনার আশংকা

শফিউল ইসলাম আজাদ, উখিয়া:
কক্সবাজার- টেকনাফ মহাসড়কের উপর অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা ২৫টি হাট বাজার রয়েছে। এসব হাট-বাজারের কারণে ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন চলাচল। নষ্ট হচ্ছে যাত্রী সংশি¬ষ্টদের মুল্যবান সময়। ব্যস্ততম মহাসড়কের উপর যত্রতত্র হাট বাজার প্রতিষ্টা পাওয়ায় যে কোন সময় মারাতœক সড়ক দূর্ঘটনায় ব্যাপক জান-মালের ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।
সায়েদাবাদ-কুমিল¬া-ময়নামতি-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের অংশ কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক। কক্সবাজারের লিংরোড হতে টেকনাফের দুরত্ব ৭৯ কিঃ মিঃ। এই ৭৯ কিঃ মিঃ সড়কের উপর লিং রোড়, চেইন্দা, পানের ছড়া, তুলাবাগান, ধেছূয়া পালং, মরিচ্যা, কোটবাজার, হিজলিয়া, উখিয়া, কুতুপালং, বালুখালী পান বাজার, থাইংখালী, পালংখালী, টেকনাফের, উলুবনিয়া, হোয়াইক্যং, কানজর পাড়া, নয়া বাজার, মৌলভী বাজার, হ্নীলা, খারাংখালী, লেদা, দমদমিয়া ও টেকনাফ সদর সহ অন্তত ২৫টি ছোট বড় হাট বাজার বিদ্যমান। অধিকাংশ বাস ষ্টেশন ভিত্তিক এসব হাট বাজারে কোনটিতে সকাল-বিকাল প্রতিদিন বাজার বসে। আবার কোনটিতে সপ্তাহিক ২/১ দিন হাট বসে। এসব হাট বাজারের পন্যাদি ও লোক সমাগমে ভরপুর হয়ে উঠায় এ সড়কে যানবাহন চলাচল মারাতœক ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দুরপাল¬ার যাত্রী ও পন্যবাহি যানবাহন চলাচলের সময় ক্ষেপন হয়ে মূল্যবান আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। ৭৯ কিঃ মিঃ এ সড়ক এলাকায় কক্সবাজার সদর ও রামুর আংশিক এবং উখিয়া ও টেকনাফের পূর্ণাঙ্গ অবস্থান। 
এ সড়কটির প্রশাসনিক গুরুত্বের পাশাপাশি সামরিক ও কৌশলগত গুরত্ব অনেক বলে জানান দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো । কেননা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সীমান্তে যোগাযোগের একমাত্র সহজ পথ এ সড়ক। তাছাড়া এ সড়কে পাশেই বঙ্গোপসাগর, মিয়ানমার সীমান্ত, টেকনাফ স্থল বন্দর সহ ইনানী, সেন্টমার্টিন, টেকনাফ সহ অনেক দর্শনীয় পর্যঠন স্পট। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপথ বিভাগের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটি নামে কাগজে জাতীয় মহাসড়ক হলেও পরিচালিত হচ্ছে জেলা সড়ক হিসেবে। জাতীয় মহাসড়কের তেমন কোন উন্নত সুযোগ-সুবিধা এ সড়কে নেই। ১৮ ফুট প্রশস্থতা নিয়ে মহাসড়ক হয়না। স্থানীয় রাজনৈীতক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, পরিবহন নেতারা ব্যাপক সম্পদে ভরপুর এবং সীমান্তবর্তী গুরুত্বপুর্ণ কক্সবাজার -টেকনাফ সড়কের দ্রুত উন্নয়ন করে এসড়কের প্রশস্থতা বৃদ্ধি, ব্রীজ- কালভার্টের সংস্কারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন সরকারের প্রতি। 
আরকান সড়ক পরিবহন নেতা জালাল উদ্দিন ড্রাইভার বলেন, সড়কের উপর যেহারে দিনের পর দিন হাট বাজারের পরিধি ও সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে চালকদের যেমন বিরক্তি আসে, তেমনি যাত্রী ও মালামাল মালিকদের ও উৎকন্ঠায় থাকতে হয়। কারণ যাত্রীরা সময় মত তাদের কাজে এবং পন্য মালিকরা তাদের মালামাল সময় মত পৌছাতে পারবে কিনা সর্বদা এ শংকায় থাকে। কক্সবাজার ট্রাক- পিক আফ মালিক ঐক্য পরিষদ নেতা সোলতান মাহামুদ চৌধুরী বলেন, এ সড়কে পারত পক্ষে মালিকরা তাদের গাড়ী ভাড়া দিতে চায়না। বাস চালক বাবুল বড়–য়া বলেন, কক্সবাজারে লিংরোড় থেকে ৭৯ কিলোমিটার দীর্ঘ টেকনাফ পৌছাতে আড়াই-তিন ঘন্টা সময় লাগে সড়কের উপর হাট বাজার না থাকলে এক-দেড় ঘন্টায় সহজে পাড়ি দেওয়া সম্ভব। সকলে সওজের উদাসিনতা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করে সড়কের উপর স্থাপিত হাট-বাজার উচ্ছেদের দাবী জানান। সওজ কক্সবাজার নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, শ্রীগ্রই সড়কের জমির উপর স্থাপিত অবৈধ হাট বাজার উচ্ছেদ করার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের একাধিক দপ্তরের সমন্বয়ের প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

Post a Comment

0 Comments