ফরিদুল মোস্তফা খান:
উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত মিয়ানমারে পাচার হচেছ মূল্যবান জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। অন্যদিকে দেশে ব্যাপক হারে প্রবেশ করছে মরণ নেশা ইয়াবা ট্যাবলেট। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওষুধ পাচারে সীমান্তের কতিপয় সিন্ডিকেটের সঙ্গে নামিদামী ওষুধ কোম্পানির (এমআর) প্রতিনিধিরা জড়িয়ে পড়েছে । স্থানীয়রা জনগন অভিযোগ করেছেন, ওষুধ পাচারের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য উখিয়া-টেকনাফে বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রচুর লোকবল নিয়োগ করা হয়েছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, উখিয়া-টেকনাফের ১৫ টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে চোরাই পথে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকার বেশি ওষুধ পাচার হয়ে থাকে। তাছাড়া মিয়ানমার থেকে এদেশে সম পরিমাণ টাকার ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে আসছে চোরাচালানী সিন্ডিকেট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক চোরাকারবারী জানান, যে সব ওষুধ কোম্পানী মিয়ানমারে ওষুধ পাচারে জড়িত তারা নিজস্ব গাড়ীতে বা হোন্ডা করে সরাসরি সীমান্তে চোরাচালানিদের গোপন আস্থানায় ঔষুধ পৌছে দিয়ে থাকে বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে একই গাড়ীতে করে ইয়াবা নিয়ে আসে । সীমান্তের যে সব পয়েন্ট দিয়ে ওষুধ পাচার হচেছ তৎমধ্যে উখিয়ার ডিগলীয়া পালং, চাকবৈটা, হাতিমোরা, তুলাতলী, দরগাবিল, কুতুপালং, বালুখালী, ধামনখালী, ঝিমনখালী, ঢেকি বনিয়া, আচার তলী, জলপাইতলী, পালংখালীর আনজুমান পাড়া ও টেকনাফের হোয়াইক্যং, উনচি প্রাং, কানজর পাড়া, হারাংখালী, হ্নীলা, মৌলভী বাজার, চৌধুরী পাড়া, লেদা, দমদমিয়া, টেকনাফে সদর বরই তলী, নাজির পাড়া, মৌলভী পাড়া, জালিয়া পাড়া, কায়ুকখালী, সাবরাং, খাংকার ডেইল, শাহপরিদ্বীপসহ অন্যান্য চোরাইপথে মিয়ানমারে প্রতিনিয়ত ওষুধ পাচার হয়ে থাকে। মিয়ানমার থেকে বিনিময়ে দেশে প্রবেশ করছে মরণ নেশা ইয়াবা। টেকনাফের দমদমিয়া বিওপি কমান্ডার বজলুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকায় কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি মিয়ানমারে ওষুধ পাচারের জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সম্প্রতি ওষুধ কোম্পানির গাড়ীসহ ২ জন এমআরকে আটক করা হয়। তিনি জানান, ওষুধ পাচারে কারা প্রকৃতভাবে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচেছ। দেশে ইয়াবা প্রবেশের কথা স্বীকার করে বলেন, ইয়াবা পাচারে জড়িতদের প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হচেছ। উখিয়ার জালিয়া পালং উপকুলীয় এলাকার সচেতন মহল অভিযোগ করে জানান, চোরাকারবারীরা আগে কক্সবাজার-টেকনাফ আরকান সড়ক ব্যবহার করত, এখন চোরাচালানের নতুন পথ মেরিন ড্রাইভ সড়ক। চোরাকারবারী চত্র এ সড়ককে নিরাপট হিসেবে ব্যবহার করলেও এখনো বড় ধরনের কোন ইয়াবা চালান আটক করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, বিলাশ বহুল গাড়ী ও মোটর সাইকেলেই বেশী ইয়াবা পাচার হয়ে থাকে। তাছাড়া ইয়াবা ট্যাবলেট ছোট আকৃতির হওয়ার ফলে ১/ ২ হাজার ট্যাবলেট গোপন স্থান বা বড়িতে বাধা থাকলে ও বুঝার উপায় থাকনো। তাই কোন সোর্সের সংবাদ ছাড়া ইয়াবা আটক করা কঠিন বলে প্রসাশনের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে উখিয়া সহকারী পুলিশ সুপার ছত্রধর ত্রিপুরা বলেন, মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে ইয়াবা পাচারের খবর আমাদের কাছেও রয়েছে। কিন্তু ইয়াবা ট্যাবরেট ছোট আকৃতির হওয়ায় তা সনাক্ত করা কঠিন। তবুও সম্প্রতি উক্ত সড়ক থেকে ইয়াবা সহ ৩ যুবককে আটক করা হয়েছে।

0 Comments