Advertisement

উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বছরে পাচার ৮শত কোটি টাকার ইয়াবা

নেশার ভয়ংকর কবলে কিশোর-কিশোরী
শফিউল ইসলাম আজাদ, উখিয়া:
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত নাফ নদী ও টেকনাফ স্থল বন্দর এবং আরকান সড়ক দিয়ে বানের পানির মতো আসছে ইয়াবা । কক্সবাজার জেলার উখিয়া-টেকনাফ এলাকা এখন মাদকের ভয়াবহতায় চরমভাবে বিপর্যস্থ । আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার মাসোহারা গ্রহনের মধ্যদিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৮শত কোটি টাকার ইয়াবা বেচাকেনা ও পাচার
 অব্যাহত রেখেছে। ফলে নেশার ভয়ংকর থাবার কবলে এখন গোটা উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের কিশোর-কিশোরী ও যুব সমাজ।
সন্ত্রাসসহ সব অপকর্মের মূলমন্ত্র মাদককে রোধ করা না গেলে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সহ সামাজিক মূল্যবোধের উত্তরণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অথচ কোনভাবেই রোধ করা যাচ্ছেনা ইয়াবা সিন্ডিকেটদের। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের একটি চক্র যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ইয়াবা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চক্রটি বছরে কক্সবাজার জেলার উখিয়া-টেকনাফ হতে প্রায় ৮শত কোটি টাকা ইয়াবা বাণিজ্য করে আসছে। 
গত ২৭ আগষ্ট বিকাল ৫ টায় ইনানী এলাকা থেকে এসআই গোবিন্দ শুক্ল দাশের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৭৫০টি ইয়াবা সহ ৩ পাচারকারীকে হাতে নাতে আটক করে। এসময় তাদের ব্যবহারের নাম্বার বিহীন ১টি পালসার মটর সাইকেল, ৫টি মোবাইল ফোন ও জব্দ করেন। ধৃত ইয়াবা পাচারকারীরা হলেন, টেকনাফ সাবরাং লেজির পাড়া গ্রামের নুরুল আহম্মদের পুত্র নুরুল আলম (২৫), মৃত বদি আহম্মদের পুত্র আব্দুল আলম ও টেকনাফ সিকদার পাড়া গ্রামের জহির আহম্মদের পুত্র রশিদ আহম্মদ প্রকাশ রশিদ (৩০)। ইতিপূর্বে  গত ১৯ মে রাত ৯টার দিকে কোটবাজারের উত্তর পার্শ্বের চৌধুরী পাড়া রাস্তার মাথা নামক এলাকা থেকে  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪০ হাজার ইয়াবা সহ আর এ,০২-৩১৬১ নাম্বারের একটি ল্যান্ড ক্রুজার জীপ গাড়ী আটক করেছিল উখিয়া থানা পুলিশ। পরে ইয়াবা পাচারের সাথে সংশি¬ষ্ট ২ পাচারকারীকে পুলিশ টেকনাফ এলাকা থেকে আটক করেছিল। তৎসময়ে আটককৃতরা হলেন, টেকনাফের মহেশখালীয়া পাড়া গ্রামের মৃত হাজী মকবুল আহম্মদের ছেলে মৌলভী কবির আহম্মদ (৬০), ও তার ছেলে মাহবুবুর রহমান (২৮)। তৎমধ্যে মৌলভী কবির আহম্মদ মহেশখালীয়া পাড়া বড় মাদ্রাসার সুপার ও তার ছেলে একই মাদ্রাসার নুরানী শিক্ষক। গত ১মাসে উখিয়া-টেকনাফে ১৫জন ইয়াবা পাচারকারী সহ সাড়ে ৫৫হাজার পিচ ইয়াবা আটক করা হয়। সীমান্ত এলাকার অর্ধশতাধিক স্পটে প্রতিনিয়ত ইয়াবা বেচাকেনা হচ্ছে। অতি লাভের আশায় কলেজ পড়–য়া উঠতি বয়সের তরুণ-তরুনীরা প্রতিনিয়ত এ ব্যবসায় ঝুঁকে পড়ছে। উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া  শরনার্থী শিবির কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে ইয়াবা, হেরোইন সহ মাদকদ্রব্যের রমরমা ব্যবসা। 
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত থেকে শুরু করে গ্রাম ও কক্সবাজার শহরের অলিগলিতে ফ্রি ষ্টাইলে বিক্রি হচ্ছে হেরোইন। টেকনাফ স্থল বন্দর ও আরকান সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ইয়াবা ও হেরোইন চোরাকারবারীদের রক্ষিত গোপন স্থানে উঠছে। উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আসা ইয়াবা চোরাচালানী মাফিয়া চক্রের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র জড়িত রয়েছে।  
সুত্র জানায়, দুর্নীতি পরায়ন পুলিশ সহ বিভিন্ন মহলের সাথে আতাত করে ইয়াবা আমদানী করে মাফিয়াচক্র। ফলে সীমান্তের নিরহ জনগণের কিছু বলার থাকেনা। উখিয়া সহকারী পুলিশ সুপার ছত্রধর ত্রিপুরা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২কোটি টাকার ইয়াবা আটক করলেও আমি বিশ্বাস করি ইয়াবা পাচার ও সেবক উখিয়া-টেকনাফে বন্ধ হয়নি। মাদক প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক সহ সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার প্রয়োজন। উখিয়া-টেকনাফ এলাকার কোটি কোটি টাকার ইয়াবা ও হেরোইনের চালান উদ্ধার করছে পুলিশ। সেখানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কি করছে ? অভিজ্ঞ ও সুশীল সমাজ মনে করেন প্রশাসন ইচ্ছা করলেই এটি বন্ধ করা সম্ভব। জানা গেছে, এ চোরাচালানির অর্থের ভাগ ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিক হোমরা-চোমড়ারা পেয়ে থাকে। বিলাসবহুল গাড়ীতে করে সুন্দরী রমনীরা পর্যটক সেজে ইয়াবার চালান দেশের অন্যান্য স্থানে অনায়াসে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া উখিয়া-টেকনাফের অলি-গলি, নির্দিষ্ট বাসা বাড়ী ও ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় হেরোইন বেচা-বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। এলাকার জনপ্রতিনিধি, পুলিশ অবহিত থাকলেও এটা প্রতিরোধের ব্যাপারে কারো কোন মাথাব্যাথা নেই। এ অঞ্চলের বিজিবি ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাঝেমধ্যে দু’একটা ইয়াবা চালান সহ বিক্রেতাদের আটক করলেও মূলচক্রের কোন সন্ধান পাচ্ছেনা। তারা থাকছে ধরাছোয়ার বাইরে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) ছত্রধর ত্রিপুরা বলেন, যেকোন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধ করার জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সব সময় প্রস্তুত। শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য সংবাদের অপেক্ষায়।

Post a Comment

0 Comments