বার্তা পরিবেশক:
দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান, লেখক, প্রাবন্ধিক জসীম চৌধুরী সবুজের একমাত্র পুত্র চৌধুরী তাহমিদ জসীম আপন (১৫) পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজ গ্রাম সাতকানিয়া উপজেলার কাটগড় গ্রামে পুকুরে ডুবে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন
(ইন্নালিল্লাহে..........রাজেউন)। ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র আপন আগামী জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঈদের ছুটিতে গ্রামে গিয়ে আনন্দ উৎসবে কাটানো হলোনা তার। পুরো পরিবারকে শোক সাগরে ভাসিয়ে সে চলে গেল না ফেরার দেশে। জামাতে জোহরের নামাজ পড়ে বেশ কিছুক্ষণ সাইকেল চালায় আপন। সাইকেল চালাতে গিয়ে পায়ে কাদামাটি লেগে যাওয়ায় পা ধুতে মজসিদের পুকুর ঘাটে গেলে পা পিছলে সে পুকুরে পড়ে যায়। সাঁতার না জানায় সে দ্রুত তলিয়ে যায়। ১০ মিনিটের মধ্যে তাকে উদ্ধার করে দোহাজারী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। তার বড় বোন চৌধুরী তাসমিয়া জসীম তাসমী চট্টগ্রাম সরকারী মহিলা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কাটগড় গ্রামের আকবর প্লাইউড ফ্যাক্টরী মাঠে আপনের নামাজে জানাযা অনুষ্টিত হয়। নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন আলহাজ্ব মওলানা সাদেক হোসাইন। জানাযায় চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, পটিয়া এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্থরের অসংখ্য লোক অংশগ্রহন করেন। হাজার দশেক মুসল্লির অংশগ্রহনে অনুষ্টিত এই জানাযা এ যাবৎকালে এ অঞ্চলে সর্ববৃহৎ জানাযায় পরিণত হয়। জানাযার প্রাক্কালে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি আবু সুফিয়ান, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন ও আপনের পিতা লেখক, সাংবাদিক জসীম চৌধুরী সবুজ। জানাযায় দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন, সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, সিডিএ বোর্ড মেম্বার মফিজুর রহমান, ব্রাহ্মনবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুল, সিইউজে সভাপতি শহীদ উল আলম, সাধারণ সম্পাদক নাজিমুদ্দীন শ্যামল, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রউফ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, দক্ষিণ জেলা গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ মুছা, চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির যুগ্ম সম্পাদক কমরেড আবদুল নবী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রথীন সেন, জাতীয় পরিষদ সদস্য ওসমান গণি চৌধুরী বাবুল, দক্ষিণ জেলা খেলাঘর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ভগিরত দাশ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. শওকত উল মেহের, চবি অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আ ন ম মঈনুল ইসলাম, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি হোসাইন জাকির, সিইউজের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার, নির্মল দাশ, দৈনিক জনকন্ঠের ব্যুরো প্রধান মোয়াজ্জেমুল হক, দৈনিক পূর্বকোণের চিফ রিপোটার নওশের আলী খান, কালের কন্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি ফারুক ইকবাল, পুর্বকোণের বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম চেম্বার সচিব কবি ও নাট্যকার অভীক ওসমান, কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সব্বির আহমদ ওসমানী, দোহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বেগ, চন্দনাইশ পৌরসভার কাউন্সিলর আবদুল হালিম, বাকলিয়ার দিলোয়ারা জাহান মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মারুফুল ইসলাম ও শিক্ষকমন্ডলী, ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষকমন্ডলী, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. একেএম মোস্তাক আহমদ, চন্দনাইশ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার জাফর আলী হিরু, সাতকানিয়ার সাবেক কমান্ডার আবু তাহের এলএমজি, ফেডারেল ইন্সুরেন্স কোম্পানীর ডাইরেক্টর ম আ কাসেম, সিডিএর সহকারী প্রকৌশলী আ স ম মেজবাহ উদ্দীন, পটিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাতকানিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি ছৈয়দ মাহফুজ উন নী খোকন, সাতকানিয়া প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দীন, লোহাগাড়া প্রেসক্লাবের সেলিম উদ্দীন, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলমগীর, চন্দনাইশ বিএনপির সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সওদাগড়, সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, প্রবীন রাজনীতিবিদ সৈয়দ উল আজাদ চৌধুরী এবং দোহাজারী, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, কেঁওচিয়া, পুরানগড়, বাজালিয়া, নলুয়া, সাতবাড়িয়া, খাগরিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, বিএনপি, এলডিপি, কমিউনিষ্ট পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নামাজে জানাযা শেষে প্রয়াত চৌধুরী তাহ্মিদ জসীম আপনকে মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এসময় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের কান্না ও আহাজারীতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।


0 Comments