ফরিদুল মোস্তফা খান ॥
সাংবাদিকতা আসলেই মহান পেশা। আধুনিক বিশ্বে এটিকে বলা হয় সমাজের দর্পন। সভ্যতার বাস্তবতায় তা জাতির বিবেক। কিন্তু সেই মহান পেশা সাংবাদিকতা যদি হয় দেশের পর্যটন শিল্প-সংস্কৃতি জনস্বার্থ বিরোধী অথবা অন্যকোন ভাবে ক্ষতিকারক।
তাহলে পাঠক, বিভ্রান্ত হবেন না। বরং সম্মিলিত ভাবে একে মৌনঘৃনায় প্রত্যাখান করাই শ্রেয়। পাশাপাশি সেই সব জ্ঞান পাপী পরিশ্রীকাতরদের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করাটাই উত্তম মনে করছি, তারা যেন দেশের স্বার্থে মাটি ও মানুষের কথা বলে। না জানলে ঐশ্বরিকভাবে সেই জ্ঞান যেন এদের উপর নাজিল হয়।
উল্লেখিত কথাগুলো বলছি এজন্যই,ঈদ পরবর্তী হোটেল সী-গাল এর বলরুমে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে একাধিক সতীর্থ সংবাদপত্রে তথ্য বিকৃত প্রকাশিত সংবাদটি পড়ে। কোন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নয় একজন পাঠক হিসেবে একই সংবাদ কয়েকটি পত্রিকায় হুবহু ছাপানোতেই বিস্মিত হয়েছি। বুঝতে বাকি নেই, এটি কোন প্রকৃত সাংবাদিক পরিবেশিত নয়। সম্ভবত খুব বেশি পড়া লেখা না জানা অদক্ষ কান্ডজ্ঞানহীন কোন ঈর্ষাপরায়ন, কক্সবাজার তথা পর্যটন-পর্যটক ও জনস্বার্থ বিরোধী, উগ্র মৌলবাদি সাংবাদিক নামধারী অসাংবাদিক সুক্ষè ষড়যন্ত্রে তা লিখে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরবরাহ করেছে। তবে বিস্মিত হয়েছি, কোন যাছাই বাছাই না করে উদ্ভট তথ্যের সংবাদের কার্বন কপিটি সংশ্লিস্ট মিডিয়ার দায়িত্বশীলদের চোখ ফাকি দিয়ে কিভাবে প্রকাশিত হলো! এ কেমন সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতা! যাই হোক খোঁজ নিয়ে যতটুকু জানতে পেরেছি, সাংবাদটি প্রকাশনার ক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট মিডিয়া গুলোর সম্পাদক কিংবা মালিক পক্ষ অবগত ছিলেন না। কেন না এই রকম অদক্ষ- অশিক্ষিত ও অভিজ্ঞতাহীন মিডিয়া সম্পাদক কিংবা মালিক পক্ষ আমাদের দেশে নেই। আমি বিশ্বাস করি হয়ত কতিপয় চাকর, বাকর তা করেছে বিকৃত মন্তিস্কে। এই জন্য অনাকাংখিত সংবাদটির জন্য অবশ্যই আমি কোন সম্মানিত সম্পাদককে দায়ী করব না।
কথায় আছে অসির চেয়ে মসী বড়। তাই সেই বাস্তবতার স্রোতে গাঁ ভাসিয়ে নিরাপরাধ পাঠকদের বিভ্রান্তি এড়াতে জানতে চাই, আসলে যদি প্রকাশিত সংবাদ মতে সেই দিন সী-গালে কোন অশ্লীল নৃত্য পরিবেশিত হতো, তাহলে এর ছবি ছাপালেন না কেন? সেখানে যদি কেউ অনুষ্ঠান পন্ড কিংবা চেয়ার মারামারির ঘটনা অথবা অন্যকোন বিশৃংখলা ঘটতো তার ছবি পত্রিকায় আসলো না কেন? আর সংবাদে আমাকে আয়োজক পক্ষের বক্তা বানালো তা কি? আমি তো আয়োজক নয়! ছিলাম মিডিয়া পার্টনার। তাও দেশ মাটি মানুষ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও কক্সবাজাররের স্বার্থে। যে দেশে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় আছে, মহান জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্য মঞ্চে গান করেন, সে দেশে কোন সৃজনশীল আয়োজন মিডিয়া পার্টনার হওয়া কিংবা আয়োজকদের সহযোগিতা করা কি পাপ! এছাড়া কেউ তো অনুষ্ঠানটি পন্ড করে দেয়নি, বরং আয়োজকরা লোকসান সইতে না পেরে তা বন্ধ করে দিয়েছে।
মূলত পাঠক, অনুষ্ঠানটিতে বাংলাদেশ বিনোদন সাংবাদিক সংগঠনের কেন্দ্রিয় নেতা কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রত্যাশি একজন সাংবাদিক হিসেবে। বিবেকী দায়বোধ থেকে আমার সম্পাদিত দৈনিক কক্সবাজারবাণী ছিল মিডিয়া পার্টনার। আয়োজন ছিলনা। এর উদ্দেশ্য ছিল, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে আগত দেশি বিদেশী লাখো পর্যটকদের বিনোদন সুবিধার্থে। কেননা সন্ধ্যা হলেই এখানকার পর্যটকদের সময় কাটানোর জায়গা থাকেনা।
তারা যায় চোর ছিনতাইকারী,গলাকাটা ব্যবসায়ী কিংবা কোন আবদ্ধ কক্ষের নিয়ন্ত্রনে। সেখানে মাঝে মধ্যে হরেক অপরাধমূলক কর্মকান্ড এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে।
তাই, চেয়েছিলাম আগত দেশি বিদেশী পর্যটকরা যেন অন্তত একটুখানি সংস্কতিক ছোঁয়ায় উল্লাসিত হয়। দেশ বিদেশে যেন ছড়িয়ে পড়ে কক্সবাজারের আরো সুনাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এখানে কিছু হিংস্র, পরিশ্রীকাতর, বিকৃত মানসিকতার ষড়যন্ত্রকারী, টাউট বাটপার রয়েছে। যারা কক্সবাজাররে সুন্দর কিছু হোক তা চায় না। শ্রুতি মধুর উদ্দেশ্য মূলক নানান কুটচালে এরা সব সময় উন্নয়ন সুনাম সমৃদ্ধির বিরোধীতা করে। ফায়দা হাসিলে তৎপরতা চালায়। এদের কারণে অন্যন্য বছরের তুলনায় এই বছর কক্সবাজারে কমে গেছে পর্যটক। পালিয়ে গেছে অনেক বিনিয়োগকারী। অশ্চিয়তায় রয়েছে অগনিত প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরিত ও বিভিন্ন জঙ্গী গোষ্ঠীর কিছু ব্যক্তি ও ইদানিং মহান সাংবাদিকতার এই পেশাটাকে ধুলিসাৎ করে রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে পড়েছেন।
প্রসঙ্গতঃ যে অপসাংবাদিকতার নগ্নতার দৃষ্টান্ত এরা দেখিয়েছে, সেই জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের সামরিক বেসামরিক পদস্থ বহু কর্মকর্তা পরিবার পরিজন নিয়ে তা উপভোগ করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, সচেতনদের দৃষ্টিতে তা যদি অশ্লীল না হয়, তা হলে যে এর বিরুদ্ধে বিকৃত তথ্য প্রচার করেছে সে কে?
নিশ্চয়ই বুঝবার বাকি নেই এই উগ্র মৌলবাদি সাংবাদিক নামধারী জ্ঞানপাপী কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প বিকাশ, পর্যটকদের স্বস্তি, দেশের কৃষ্টি কালচার, পছন্দ করেনা।
পরিশেষে সেই কুলাঙ্গারের জন্যও শুভ কামনা করছি। সে যেন কক্সবাজারের মাটি মানুষের স্বার্থের পথে চলে। পাশাপাশি এতে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়াসহ সামরিক বেসামরিক সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, কক্সবাজারকে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক।
লেখক-ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক,দৈনিক কক্সবাজারবাণী।

0 Comments