মুবারাক উদ্দিন নয়নউখিয়ায় ৩দিন ধরে প্রবল বষর্ণের ফলে উপজেলার প্রায় শতাধিক গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অতি বর্ষনের ফলে পাহাড়ি ঢল সমুদ্রের জোয়ারের স্রোতে নাফ নদী, বাকঁখালী, রেজু খাল, মনখালী বড় খাল সহ বিভিন্ন খাল ও ছরার পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়া দু’উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পানির স্রোতে তলিয়ে গেছে। সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, উখিয়া উপজেলার রাজাপালংয়ের উখিয়া ভূমি অফিস, পুরাতন থানা সড়ক, কাজী পাড়া, মৌলভী পাড়া, হাজির পাড়া, ঘিলাতলী, মধুর ছড়া,পশ্চিম হাজির পাড়া, মাছকারিয়া, শৈলেরডেবা, কুতুপালং, ডিগলিয়া পালং, টাইপালং, পালংখালীর বালুখালী, , মুছারখোলা, থাইংখালী,পালংখালী রহমতের বিল,
রতœাপালংয়ের তেলিপাড়া, সাদৃকাটা, পশ্চিম রতœা, ভালুকিয়া, করই বনিয়া, চাকবৈটা, গয়ালা মারা, হলদিয়া পালংয়ের পাতাবাড়ী, বড়বিল, পাগলিরবিল, রুমখা চৌধূরী পাড়া, লম্বরীপাড়া, গোরারদ্বীপ, উপকূলীয় জালিয়া পালংয়ের পাইন্যাশিয়া, মাঙ্গালা পাড়া, সোনার পাড়া, ইনানী নিদানিয়া, পাটুয়ার টেক, মোঃ শফির বিল, চেপটখালী, চোয়াংখালী ও মনখালী এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম, চাষাবাদ, মৎস্য খামার ও পুকুর প্রবল বর্ষনে প্লাবিত হয়। এসব এলাকার কয়েকটি মুরগির খামার পানিতে তলিয়ে যায়। ৩ দিনের টানা বর্ষনে পানির প্রবল ¯্রােতের কারণে এলাকার কাচাঁ ও ইটের তৈরী সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং অনেক ব্রীজ, কালভার্ট ঝুকির সম্মুখিন হয়ে যান চলাচল ব্যহত হয়ে পড়েছে।
এদিকে চিংড়ী চাষ সমৃদ্ধ ইউনিয়ন পালংখালীতে থাইংখালী ও বালুখালী, ধামন খালী ও মুছারখোলা এলাকায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারনে প্রায় সহস্রাধিক একর বাগদা চিংড়ীর খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া পাহাড়ের ঢালুতে অবস্থিত প্রায় ৫ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ী ঝুকির সম্মূখিন হয়ে পড়েছে।
পালংখালীর বাগদা চিংড়ী চাষী শাহ কামাল জানান, প্রবল বর্ষনে থাইংখালী ও পালংখালী এলাকার চিংড়ী খামার পানিতে ভেসে গিয়ে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন হয়। চিংড়ী প্যারার বড় পাড়গুলো পানির ঢলে মাটিতে মিশে গেছে। এ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চিংড়ী বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, প্লাবিত প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে খোজ নেয়া হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট একে এম শাহ জালাল চৌধূরী প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা ও চিংড়ী খামার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সাথে নিয়ে সরজমিন পরিদর্শন করবে বলে আশাব্যক্ত করেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি জানান।

0 Comments