Advertisement

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থতির অবনতি : দেড়শ’ গ্রামের ৫ লাখ লোক পানিবন্দি : ৩ জেলে লাশ উদ্ধার

আবদুল্লাহ নয়ন
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। সোমবার বন্যার পানি একটু কমলেও প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ী ঢল সোমবার থেকেই বন্যার পান বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সুত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, পাহাড়ী ঢলের জেলার চকরিয়া, রামু ও উখিয়া উপজেলার ৩৫ ইউনিয়নের দেড়শ’ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ৫ লাখেরও বেশি লোক পানিবন্দি হয়েছে। বিশেষ করে চকরিয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অবস্থা ভয়াবহ। মাতামুহুরী ও বাঁকখালী সহ কয়েকটি নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদ সীমার উপর দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর ২ কুলবর্তী সকল গ্রামই এখন বন্যার পানিতে নিমজ্জিত।
বন্যায় কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলার পিএমখালী, ঝিলংজা, ঈদগাঁও, ইসলামাবাদ, রামু উপজেলার খুনিয়াপালং, মিঠাছড়ি, রাজারকুল, ফতেহারকুল, কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া, কাউয়ারখোপ, চকরিয়া উপজেলার হারবাং, কৈয়ারবিল, কাকারা, বরইতলী, ভেওলা, টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের প্রবল বর্ষণ ও ভংঘুর বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের ৪টি পয়েন্টে সড়কের ২ ফুট উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রমজান মাসের এই সময়ে আবারো বন্যা দেখায় সাধারণ মানুষের দূর্ভোগের যেন শেষ নেই। দূর্গত এলাকার শতশত বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় অনেকেই সাইকোন শেল্টার বা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার সড়ক অবকাঠামো ডুবে যাওয়ায় মানুষের চলাফেরা বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এদিকে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে টেকনাফ সমুদ্র উপকূলে ১০ টি এবং মহেশখালী উপকূলে একটি মাছ ধরার নৌকা ডুবে যায়। গতকাল বিকেলে টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ সৈকত থেকে ২ জন ও মহেশখালী সোনাদিয়া থেকে একজন জেলের লাশ উদ্ধার করেছে জেলেরা। এখনো ১৭ মাঝি-মাল্লা নিখোঁজ রয়েছে ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments