Advertisement

বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে আড়াই বছরে আড়াই টাকাও বরাদ্দ দেয়া হয়নি!

এক হাজার পশু পাখির খাদ্য ও চিকিসা পাচ্ছেনা
জাকের উল্লাহ চকোরী:
চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ৯শ হেক্টর এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা দেশের একমাত্র বঙ্গবন্ধূ সাফারী পার্কটি শ্রীহীন হয়ে পড়ছেপার্কটি প্রতিষ্টা হওয়ার পর বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরী, পশু পাখি সংগ্রহ, খাদ্য ও চিকিসা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা খাতে প্রায় ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়ওই টাকা দিয়ে পার্কটিকে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষনীয় করে তোলার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডুলাহাজারা সাফারী পার্কের নাম পরিবর্তন করে এ পার্কের নাম দেয়া হয় বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কবর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আড়াই বছর সময় অতিবাহিত হলেও বঙ্গবন্ধূ সাফারী পার্কের উন্নয়নে আড়াই টাকাও বরাদ্দ দেয়া হয়নিএ পার্কটিকে আরো আধুনিকায়ন করার জন্য ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মাষ্টার প্লান তৈরী করা হয়কিন্তু ওই টাকা অর্থ ও পরিকল্পনা কমিশনে ছাড় না দেয়ায় বর্তমানে পার্কটি পর্যটকদের আকর্ষণ হারাচ্ছেপ্রয়োজনী অর্থ বরাদ্দের অভাবে এ পার্কের অভ্যন্তরে দেশ বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা ১ হাজার পশু পাখি বর্তমানে অর্ধাহারে অনাহারে শুকিয়ে যাচ্ছে
পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের ভ্রমণে আসা দেশী বিদেশী পর্যটকরা এখানে ভ্রমণে এসে নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেঅথচ এ পার্কটিকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা হলে এখান থেকে আয় হত কোটি কোটি টাকাবর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে ২৯ নভেম্বর পরিবেশ ও বনপ্রতিমন্ত্রী পার্কে এসে প্রতিশ্রতি দিয়ে ছিলেন পার্কের উন্নয়নের জন্য ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হবেকিন্তু মন্ত্রীর প্রতিশ্রতি এখনো বাস্তবে রূপ লাভ করেনিপার্কের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গত ৩০ জুন পূর্বের পশু পাখিদের খাদ্যের জন্য বরাদ্দ দেয়া অর্থ শেষ হয়ে গেছেবর্তমানে নতুন ভাবে কোন অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় এখানকার অবকাঠামো গুলো সংস্কারের অভাবে ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আর পশু পাখিদের খাদ্যের জন্য কোন বরাদ্দ না থাকায় পশু পাখি গুলো খাদ্য ও চিকিসার অভাবে মারা যাচ্ছে
            ১৯৯৮-৯৯ অর্থ বছর থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত  পার্কের উন্নয়নে প্রথম পর্যায়ে ৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা , দ্বিতীয় পর্যায়ে ৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ও তৃতীয় পর্যায়ে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়ওই টাকা দিয়ে প্রথম পর্যায়ে সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে  বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ, পুকুর খনন, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ, তথ্য কেন্দ্র নির্মাণ, রাস্তা, ড্রেন, ব্রিজ-কালভাট নির্মাণ, বাঘ, সিংহ ও তৃণভোজী প্রাণীদের বেষ্টনী নির্মাণসহ এসসিএফ কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয় 
            দ্বিতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ দেয়া হয় ৯ কোটি টাকার মধ্যে রাস্তা নির্মাণ, ভালুকের ঘর, পাখির ঘর, কুমিরের ঘেরা, হাতির ঘেরা, সিংহ ও বাঘের ঘেরা, বর্ধিত করণ, সিংহ, বাঘ ও তৃণভোজী প্রাণীর বেষ্টনী উচু করণ করা হয়বাকি টাকা দিয়ে বিদেশ থেকে জেব্রা, জিরাপ, কুদু ও এম্পেলাসহ বিভিন্ন পশু পাখি ক্রয় করা হয়সর্ব শেষ এ পার্কটিকে আরো আধুনিকায়ন করার জন্য ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মাষ্টার প্লান তৈরী করা হয়মধ্যে মাষ্টার বাউন্ডারী সাড়ে ৬ কিলোমিটার, পরিখা খনন, বিভিন্ন প্রাণীর বেষ্টনী নির্মাণ, পার্কের বাইরে ১৬ হেক্টর এলাকায় পর্যটকদের বিনোদনের জন্য একটি শিশু পার্ক নির্মাণ ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকিন্তু এ পর্যন্ত ওই বরাদ্দের টাকা ছাড় না দেয়ায় বর্তমানে বঙ্গবন্ধূ সাফারী পার্কটি দিনদিন শ্রীহীন হয়ে পড়ছে
            বন্যপ্রাণী প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বনসংরক্ষক ড. তপন কুমার দের সাথে পার্কের বিরাজমান সমস্যার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, মাষ্টার প্লান অনুয়াযী পার্কের অবশিষ্ট উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যে প্রোপাইলটি মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে তা অর্থ ও পরিকল্পনা কমিশনে আটকে আছেতা দ্রুত ছাড় করা না হলে পার্কের বিরাজমান সমস্যার সমধান করা সম্ভব নয়এছাড়া পার্কের ৭৪ জন কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ৪৫ জনকে রাজস্ব খাতে অর্š—ভুক্ত করা হলেও  বাকিরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছেনাবঙ্গবন্ধূ সাফারী পার্কের উন্নয়নের জন্য চকরিয়ার জনগন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন

Post a Comment

0 Comments