নয়ন কক্স নিউজ ডেস্ক :বছর ঘুরে আজ আবার এসেছে বেদনাবিধুর সেই ১৫ আগস্ট।বাঙালির শোকের দিন ১৫
আগস্ট আজ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমানের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী,
জাতীয় শোক দিবস। বাঙালির জাতীয় জীবনে শোকাচ্ছন্ন রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত এক কালো দিন আজ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভোরে একদল রক্তলোলুপ ষড়যন্ত্রকারীর নীলনকশা অনুযায়ী সেনাবাহিনীর আদর্শচ্যুত কয়েকজন হিংস্র লোভী ঘাতক ধানম-ির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িটিতে সপরিবারে হত্যা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে। বিগত ৩৬টি বছর ধরে সেই ঐতিহাসিক বাড়িটির দেয়ালে দেয়ালে, সিঁড়িতে, সারাবাড়ি জুড়ে ছড়িয়ে আছে নির্মম সেই হত্যাকা-ের নিদর্শন। বছর ঘুরে আজ আবার এসেছে বেদনাবিধুর সেই ১৫ আগস্ট। তবে এবার এক নতুন প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে জাতির জনকের শাহাদাতবার্ষিকী। অবৈধ ক্ষমতা দখল চিরতরে রদকল্পে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে মহান জাতীয় সংসদ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির চির অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে উদ্ভাসিত হয়ে সংবিধান থেকে অপরাজনীতির অগণতান্ত্রিক স্বৈর ধারাকে অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতিগত কলঙ্ক মোচনের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী, জাতিদ্রোহী, দেশদ্রোহী, স্বদেশের মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে ভিনদেশী ঔপনিবেশিক দখলদারদের পক্ষাবলম্বনকারী অর্থাৎ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ’৭১-এর নরঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন এই প্রেক্ষাপটে শোককে শক্তিতে পরিণত করার নতুন প্রেরণায় ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে জাতীয় শোক দিবস। জাতি আজ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শপথ নেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এ উপলক্ষে গ্রহণ করেছে নানা কর্মসূচি। জাতীয় শোক দিবসে সকল সরকারি ও বেসকারি ভবন এবং বিদেশী দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে পৃথক বাণী দিয়েছেন। ’৭১ সালের মহান স্বাধীনতা একদিকে যেমন বাঙালি জাতির জীবনে নতুন এক আস্বাদ এনে দিয়েছিল, ঠিক তেমনি স্বাধীন দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পরিবর্তন প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা, সমৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রহণ করেছিলেন নানা উদ্যোগ। বঙ্গবন্ধুর গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সদ্য স্বাধীন দেশকে যখন দ্রুত উন্নতি ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তখনই শুরু হয় ষড়যন্ত্র। আন্তর্জাতিক কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রকারীদের একটি গোষ্ঠী, সেনাবাহিনীর ক্ষমতালিপ্সু কতিপয় সদস্য এবং সর্বোপরি দুর্নীতিগ্রস্ত মুনাফালোভী কিছু ব্যক্তি এই বজ্রকণ্ঠ অমিততেজী নেতাকে অপসারণের নীলনকশা প্রণয়ন করে। তারা বুঝতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধুকে বাংলার মাটিতে জীবিত অবস্থায় অপসারণ সম্ভব নয়। আর তা না হলে তাদের শেষ পর্যন্ত এই দেশ ছাড়তে হবে। একইভাবে আন্তর্জাতিক তাঁবেদারিতে অনভ্যস্ত বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিরূপ ও নাখোশ মহলও শামিল হয়েছিল নির্মম হত্যাযজ্ঞের নকশা প্রণয়নে। এরই জের ধরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত লাশ ডিঙিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসেছিলেন তারই দলের একটি অংশ। খন্দকার মুশতাক সেই ষড়যন্ত্রীদেরই প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এই নির্মম হত্যাকা-ের বিচার যাতে না করা যায় সেই কুখ্যাত ইনডেমনিটিও জারি করেছিলেন। বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেই কাকডাকা ভোরে কী ঘটেছিল আজ সারা পৃথিবীজুড়ে তা রক্তাক্ত দলিল হয়ে আছে। যে ষড়যন্ত্রময় রাজনীতির রক্তবীজ রোপিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মম হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে, আজ তা বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। আজো অব্যাহত আছে সেই ষড়যন্ত্রের জাল বোনা। বাঙালির ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। ঘটানো হয়েছে ইতিহাসের নির্লজ্জ বিকৃতি। কিন্তু বাঙালির হৃদয় থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যায়নি। শোকাবহ আগস্টে সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে আওয়ামী লীগ, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বেদনাবিধুর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস স্মরণ ও পালন করছে। যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে এই উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিশু, নর-নারী, আবালবৃদ্ধবনিতা, সকল শ্রেণী-পেশার শোকাহত মানুষের ঢল নামছে। সমগ্র জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি, রাষ্ট্রপিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যবর্গকে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গের হত্যাকা-ের বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। মানবতার শত্রু, ঘৃণ্য নরপিশাচ ৫ আত্মস্বীকৃত খুনির ফাঁসির দ-াদেশ কার্যকর হয়েছে। বিদেশে পলাতক বাকি খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। যারা এক সময় নিজেদের বিচারের ঊর্ধ্বে ভেবেছিল এবং কেউ তাদের কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারবে না বলে দম্ভ করেছিল, এই বিচার ও দ-াদেশ কার্যকর করার ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে বাংলার মাটিতে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যে যতো ক্ষমতাধরই হোক না কেন, ইতিহাসের অমোঘ বিধানানুযায়ী শাস্তি ভোগ থেকে খুনিরা কেউই রেহাই পাবে না। এছাড়াও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে নস্যাৎ করার পাশাপাশি হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের অপরাজনীতি চালু হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে বন্দুকের নল উঁচিয়ে সংবিধান পদদলিত করে অবৈধ পথে ক্ষমতা দখল ও দখলিকৃত ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য সংবিধান পরিবর্তনের অশুভ ধারা সূচিত হয়েছিল। তা চিরতরে রদকল্পে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে মহান জাতীয় সংসদ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির চির অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে উদ্ভাসিত হয়ে সংবিধান থেকে অপরাজনীতির অগণতান্ত্রিক স্বৈরধারাকে অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতিগত কলঙ্ক মোচনের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী, জাতিদ্রোহী, দেশদ্রোহী, স্বদেশের মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে ভিনদেশী ঔপনিবেশিক দখলদারদের পক্ষাবলম্বনকারী অর্থাৎ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ’৭১-এর নরঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উল্লিখিত পটভূমিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহতী আদর্শ তথা শ্রেণী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গরিব, দুঃখী সাধারণ সকল মানুষের উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সুখী-সমৃদ্ধ প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্র বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর রক্তঋণ পরিশোধে বাঙালি জাতি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই জাতির জনকের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকীতে সকলের সম্মিলিত শপথ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা গৃহীত দিনবদলের কর্মসূচি তথা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও প্রগতির পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। একই সঙ্গে আজ আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সকল শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
জাতীয় শোক দিবস। বাঙালির জাতীয় জীবনে শোকাচ্ছন্ন রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত এক কালো দিন আজ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভোরে একদল রক্তলোলুপ ষড়যন্ত্রকারীর নীলনকশা অনুযায়ী সেনাবাহিনীর আদর্শচ্যুত কয়েকজন হিংস্র লোভী ঘাতক ধানম-ির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িটিতে সপরিবারে হত্যা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে। বিগত ৩৬টি বছর ধরে সেই ঐতিহাসিক বাড়িটির দেয়ালে দেয়ালে, সিঁড়িতে, সারাবাড়ি জুড়ে ছড়িয়ে আছে নির্মম সেই হত্যাকা-ের নিদর্শন। বছর ঘুরে আজ আবার এসেছে বেদনাবিধুর সেই ১৫ আগস্ট। তবে এবার এক নতুন প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে জাতির জনকের শাহাদাতবার্ষিকী। অবৈধ ক্ষমতা দখল চিরতরে রদকল্পে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে মহান জাতীয় সংসদ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির চির অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে উদ্ভাসিত হয়ে সংবিধান থেকে অপরাজনীতির অগণতান্ত্রিক স্বৈর ধারাকে অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতিগত কলঙ্ক মোচনের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী, জাতিদ্রোহী, দেশদ্রোহী, স্বদেশের মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে ভিনদেশী ঔপনিবেশিক দখলদারদের পক্ষাবলম্বনকারী অর্থাৎ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ’৭১-এর নরঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন এই প্রেক্ষাপটে শোককে শক্তিতে পরিণত করার নতুন প্রেরণায় ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে জাতীয় শোক দিবস। জাতি আজ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শপথ নেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এ উপলক্ষে গ্রহণ করেছে নানা কর্মসূচি। জাতীয় শোক দিবসে সকল সরকারি ও বেসকারি ভবন এবং বিদেশী দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে পৃথক বাণী দিয়েছেন। ’৭১ সালের মহান স্বাধীনতা একদিকে যেমন বাঙালি জাতির জীবনে নতুন এক আস্বাদ এনে দিয়েছিল, ঠিক তেমনি স্বাধীন দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পরিবর্তন প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা, সমৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রহণ করেছিলেন নানা উদ্যোগ। বঙ্গবন্ধুর গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সদ্য স্বাধীন দেশকে যখন দ্রুত উন্নতি ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তখনই শুরু হয় ষড়যন্ত্র। আন্তর্জাতিক কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রকারীদের একটি গোষ্ঠী, সেনাবাহিনীর ক্ষমতালিপ্সু কতিপয় সদস্য এবং সর্বোপরি দুর্নীতিগ্রস্ত মুনাফালোভী কিছু ব্যক্তি এই বজ্রকণ্ঠ অমিততেজী নেতাকে অপসারণের নীলনকশা প্রণয়ন করে। তারা বুঝতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধুকে বাংলার মাটিতে জীবিত অবস্থায় অপসারণ সম্ভব নয়। আর তা না হলে তাদের শেষ পর্যন্ত এই দেশ ছাড়তে হবে। একইভাবে আন্তর্জাতিক তাঁবেদারিতে অনভ্যস্ত বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিরূপ ও নাখোশ মহলও শামিল হয়েছিল নির্মম হত্যাযজ্ঞের নকশা প্রণয়নে। এরই জের ধরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত লাশ ডিঙিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসেছিলেন তারই দলের একটি অংশ। খন্দকার মুশতাক সেই ষড়যন্ত্রীদেরই প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এই নির্মম হত্যাকা-ের বিচার যাতে না করা যায় সেই কুখ্যাত ইনডেমনিটিও জারি করেছিলেন। বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেই কাকডাকা ভোরে কী ঘটেছিল আজ সারা পৃথিবীজুড়ে তা রক্তাক্ত দলিল হয়ে আছে। যে ষড়যন্ত্রময় রাজনীতির রক্তবীজ রোপিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মম হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে, আজ তা বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। আজো অব্যাহত আছে সেই ষড়যন্ত্রের জাল বোনা। বাঙালির ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। ঘটানো হয়েছে ইতিহাসের নির্লজ্জ বিকৃতি। কিন্তু বাঙালির হৃদয় থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যায়নি। শোকাবহ আগস্টে সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে আওয়ামী লীগ, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বেদনাবিধুর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস স্মরণ ও পালন করছে। যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে এই উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিশু, নর-নারী, আবালবৃদ্ধবনিতা, সকল শ্রেণী-পেশার শোকাহত মানুষের ঢল নামছে। সমগ্র জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি, রাষ্ট্রপিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যবর্গকে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গের হত্যাকা-ের বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। মানবতার শত্রু, ঘৃণ্য নরপিশাচ ৫ আত্মস্বীকৃত খুনির ফাঁসির দ-াদেশ কার্যকর হয়েছে। বিদেশে পলাতক বাকি খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। যারা এক সময় নিজেদের বিচারের ঊর্ধ্বে ভেবেছিল এবং কেউ তাদের কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারবে না বলে দম্ভ করেছিল, এই বিচার ও দ-াদেশ কার্যকর করার ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে বাংলার মাটিতে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যে যতো ক্ষমতাধরই হোক না কেন, ইতিহাসের অমোঘ বিধানানুযায়ী শাস্তি ভোগ থেকে খুনিরা কেউই রেহাই পাবে না। এছাড়াও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে নস্যাৎ করার পাশাপাশি হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের অপরাজনীতি চালু হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে বন্দুকের নল উঁচিয়ে সংবিধান পদদলিত করে অবৈধ পথে ক্ষমতা দখল ও দখলিকৃত ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য সংবিধান পরিবর্তনের অশুভ ধারা সূচিত হয়েছিল। তা চিরতরে রদকল্পে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে মহান জাতীয় সংসদ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির চির অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে উদ্ভাসিত হয়ে সংবিধান থেকে অপরাজনীতির অগণতান্ত্রিক স্বৈরধারাকে অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতিগত কলঙ্ক মোচনের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী, জাতিদ্রোহী, দেশদ্রোহী, স্বদেশের মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে ভিনদেশী ঔপনিবেশিক দখলদারদের পক্ষাবলম্বনকারী অর্থাৎ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ’৭১-এর নরঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উল্লিখিত পটভূমিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহতী আদর্শ তথা শ্রেণী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গরিব, দুঃখী সাধারণ সকল মানুষের উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সুখী-সমৃদ্ধ প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্র বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর রক্তঋণ পরিশোধে বাঙালি জাতি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই জাতির জনকের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকীতে সকলের সম্মিলিত শপথ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা গৃহীত দিনবদলের কর্মসূচি তথা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও প্রগতির পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। একই সঙ্গে আজ আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সকল শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

0 Comments