Advertisement

টেকনাফে সরকারী বন ভূমির সোয়ালাখ গাছ নিধন

টেকনাফের রাজারছড়ায় এবার বনাঞ্চল উজাড় ও পাহাড় কেটে বিশাল আয়তনের সংরক্ষিত বন ভূমি জবর দখলের মহোৎসব চলছে ।বর্তমান সরকারী দলের নেতা-কর্মী পরিচয় দিয়ে সরকারী বনজ সম্পদ লূটপাট করে সরকারী বন ভূমি দখল করতে মেতে উঠেছে স্থানীয় বন দস্যু সংঘবদ্ধ
একটি গ্রুপ। ইতিমধ্যেই তারা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫০হাজার গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলে ২৫ হেক্টর বনাঞ্চল উজাড় করে ফেলেছে। জবর দখলকারীরা সেখানে ৫টি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করেছে। রাতদিন অব্যাহত রয়েছে জবদ দখলের কাজ। বন ভূমির বিশাল এলাকা জুড়ে ১১টি লাল পতাকা উড়িয়ে দিয়েছে জবরদখলকারীরা। লম্বা দা, কিরিচ, ও অস্ত্রসহ সব সময় ১০জনের একটি গ্রপ সেখানে অবস্থান করে। রান্না, থাকা, খাওয়া সবই হচ্ছে সেখানে। বর্তমান সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাবশালী এসব জবরদখলকারী ভূমি দস্যুদের প্রচন্ড বাধার মুখে আবার অনেকের মতে বন বিভাগের ব্যর্থতার কারণে স্থানীয় বনকর্মীরা তাদের কাছে ঘেষতে পারছেনা। ৫০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট একটি সামাজিক বনায়নের বাগান উজাড় করে বসতভিটা তৈরী করার জন্য জবরদখলকারীরা রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল ২০আগষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানা গেছে। শুনতে অনেকটা কল্প কাহিনীর মত মনে হলেও টেকনাফের রাজারছড়া বনবিট এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গত ১ সপ্তাহ ধরে বাস্তবে এসব ঘটনা চলছে। শিলখালী রেঞ্জের রাজারছড়া বনবিট অফিসার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। স্থানীয় লোকজন জানায়-গত ১৩আগষ্ট ৫০জনের একটি গ্রপ টেকনাফের উপকূলীয় জনপদ রাজারছড়া বনবিট এলাকার আওতাধীন রাজারছড়া খালের পূর্বে ঘূনা পাহাড় নামক স্থানে চতুর্দিকে ১১টি লাল পতাকা উড়িয়ে দিয়ে সংরক্ষিত ২০০৩-২০০৪অর্থ বছরের সৃজিত সমাজিক বাগানের প্রায় ৫০হাজার গাছ কেটে জবরদখল শুরু করে। খবর পেয়ে স্থানীয় রাজারছড়া বন বিট অফিসার ১৪আগষ্ট সরেজমিন ঘটনাস্থলে গেলে জবরদখলকারীরা উল্টা বিট অফিসারকে নাজেহাল করে ও বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেয়। এতে তিনি অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়েছেন। কয়েকটি লাল পতাকা নিয়ে তিনি ফিরে  আসেন। এমনকি জবরদখলকারীদের কর্তিত গাছগুলো জব্দ বা উদ্ধার করতে পারেনি। জানা যায়-জবরদখলকারীরা গাছপালা ও পাহাড় কাটার খবর পেয়ে স্থানীয় বন বিট অফিসার ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করার পর  জবরদখলকারীরা আরও বেশী পেবরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সংরক্ষিত বনভূমির বিশাল এলাকা জুড়ে পুনরায় লাল পতাকা উড়িয়ে দিয়ে অনেকটা বন বিভাগের প্রতি চ্যালেঞ্চ করে তাদের জবরদখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জবর দখলকারী ১০জন করে একটি গ্র“প রাতদিন সেখানে অবস্থান করে। ডেকসি হাঁড়ি পাতিল থালা বাসন নিয়ে গিয়ে সেখানে রান্না করে খাওয়া-দাওয়া করে। তাদের এধরণের বেপরোয়া তৎপরতার কারণে স্থানীয় বনকর্মীরা বাধা দিতে সাহস পাচ্ছেনা। বন বিভাগের ব্যর্থতার কারণে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে জবরদখলের পরিধি। এমনকি এতবড় জঘন্য ঘটনার দীর্ঘ এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত স্থানীয় রেঞ্জ অফিসার ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি। এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রাজারছড়া বন বিট অফিসার মোঃ শরীফুল ইসলাম(মোবাইল নং-০১৮২৪৮৫৫৪৮০)ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান-খবর পেয়ে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, ১১টি লাল পতাকা জব্দ এবং বিষয়টি রেঞ্জ অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বিভিন্ন জাতের গাছপালা কাটার দায়ে ২০জনকে অভিযুক্ত করে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বনাঞ্চলে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করার অপরাধে আরও একাধিক মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলায় অভিযুক্তরা হচ্ছে ইকবাল (২৭), ধইল্যা (২২), ফিরোজ আহমদ (৩০), আহমদ শরীফ (৩২), হোছন আহমদ (৩০), আবুল কাসেম (৩৫), ইছমাঈল (২৫), জাকির হোছন (২২), নুর মোহাম্মদ (২৮), শহর মুলুক (৪৫), মোঃ ছিদ্দিক (২৬), জহির আহমদ(২৫), মোঃ আলী (২৫), হোছন আলী (৫০) আবদুল মালেক(২০) হাছন আহমদ (৩৮), আবু তালেব (২৮), ছৈয়দ হোছন (৩৫), ইব্রাহীম (১৮), ফরিদ আহমদ(৩৫) ইয়াকুব (৩৫), আমির আহমদ (৪০)। তিনি আরও জানান-জবরদখলকারীরা বর্তমান সরকার দলীয় নেতাকর্মীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে তিনি  চরম অসহায় ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তিনি সহ মাত্র ৩জন ষ্টাফ দিয়ে জবরদখল রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছেনা। এদিকে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা এ.বি.এম আবুল হোসেন রাজু জানান-তিনি স্বয়ং ২০০৩-২০০৪ অর্থ সনে সৃজিত সদ্য উজাড় হয়ে যাওয়া ৫০ হেক্টর সামাজিক বনায়ন কমিটির সেক্রেটারী। ৫০জন উপকারভোগীর নামে বরাদ্দকৃত ৫০হেক্টর বনভূমিতে সামাজিক বনায়নের আওতায় হেক্টর প্রতি ২৫০০ করে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার চারা রোপন করা হয়েছিল। বিভিন্ন কারণে ২৫ হেক্টর বন ভূমির চারা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ২৫ হেক্টর বন ভূমিতে বর্তমানে কম পক্ষে ৫০ হাজার বিভিন্ন জাতের গাছ ছিল।

Post a Comment

0 Comments